কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পরিবারে ঈদ

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫
  • রেজা ফারুক

দিন যেন ফুরাতে চায় না। মনের ভেতর গুঞ্জরণ করতে থাকে অনবরত এক আকুলি-বিকুলি। আর চোখ জোড়া ঘুরে ফিরে ক্যালেন্ডারের পাতায় অলক্ষেই চলে যায়। কারণ সামনে যে ঈদ। তাই ক্ষণ গণনা আর প্রহর থেকে প্রহরান্তরের অপেক্ষা সবার। নতুন ড্রেস, গহনা, জুতো, ব্রেসলেট, সানগ্লাস, ক্যাপ রেশমি চুড়ি, রঙিন ফিতে, মায়াবি সুগন্ধিসহ আরও কত কী কিনে এনে তুলে রাখা হয়েছে আলমিরার কেবিনেটে। ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যথারীতি বাড়ির পুরুষ সদস্যরা নতুন পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়তে চলে যাবেন আর মহিলা সদস্যরা ঈদের দিনের সুস্বাদু রান্নার আয়োজনে হয়ে পড়বেন মহাব্যস্ত। তারপর যথারীতি নতুন শাড়িটি পরবেন মনের মতো করে। সঙ্গে থাকবে পার্লার থেকে হেয়ার কাটের নয়নাভিরাম সাদৃশ্যময় অনিন্দ সুন্দর আউটলুকিং এবং অন্যান্য চমৎকার সাজ-সজ্জার পাশাপাশি আরও কত কী।

ঈদ মানেই তো এক মহা উল্লাসমুখর অবগাহন। আনন্দের বৃষ্টিতে এমন ভিজে ওঠা কেবল ঈদেই সম্ভব। কাল-কালান্তর থেকে চলে আসছে ঈদের আনন্দ বৃষ্টিতে সিক্ত হয়ে ওঠার আবেগঘন এমন মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত। তবে এই আনন্দ আয়োজনেও রয়েছে রকম ফের। কেননা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আদলটা ক্রমশ বদলে যেতে যেতে তাতে এসেছে বিপুল উৎসব আমেজ আর এক বর্ণাঢ্য মূর্ছনা। বর্ণময় এই যে উৎসবী আবহ বর্তমানে ঈদকে ঘিরে। আজ থেকে দুই দশক আগেও তা এতটা প্রাণবন্ত, ফ্যাশনেবল এবং উৎসবমুখর ছিল না। কয়েক দশক আগেও ঈদকে সামনে রেখে পরিবার কেন্দ্রিক একটা কেনাকাটার আয়োজন থাকলেও চলতি সময়েই আয়োজনে পেল নতুন এক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এসেছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। শিল্পের স্পর্শ এবং নিজের স্টাইল ও ফ্যাশন চেতনাকে রুচিশীলের মার্জিত আঙ্গিকে উপস্থাপনের নিবিড় অভিব্যক্তি আগে ঈদের দিনে কেবল নতুন পোশাক ও জুতো পরার মধ্যে আনন্দের বিষয়টা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তাতে লেগেছে আধুনিকতার পরশ আর ফ্যাশন কনসেপ্টাও জোরালোভাবে উদ্ভাসিত হতে দেখা যায়। আর এ প্রেক্ষাপটটা অন্য ক্ষেত্রে যত না প্রবল পোশাকের অঙ্গনে বর্ণময়তা ধারাটা সূচারুরূপে সবকিছুকে যেন ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ঢাকার খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউসগুলো এক্ষেত্রে রেখেছে বিশাল অবদান। যে অবদানের সূত্র ধরে গত দুটি, তিন প্রজন্মের ভেতর ঈদের আমেজকে নতুন ডাইমেনশনে উদযাপনের পরিপ্রেক্ষিত রচিত করে দিয়েছে অনন্য সুন্দর মহিমায়। পাশাপাশি পার্লারগুলো অপরূপ সৌন্দর্যমতাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে রাখছে অনবদ্য ভূমিকা। যুগে যুগে এই ঈদের ফ্যাশন ও উদযাপনের ধারায় সূচিত হয়েছে নতুন ধারা আর যুক্ত হয়েছে নতুন ছন্দ। তার গহনে আজকের দিনের ঈদের ফ্লেবারও কিন্তু নতুন সজিবতা নিয়ে এক ভিন্ন ইমেজ সৃষ্টি করেছে। সর্বোপরি বিগত দুই দশক ধরে ঈদ যেন এক অন্যরকম শব্দময়তা নিয়ে এসে প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে জানান দিচ্ছে ঈদের। শহর থেকে গ্রাম সব জায়গাতেই ঈদের আবেগটা এক স্তরে থেকে আনন্দের আবেদনটা যেন বেড়ে ওঠে এসেছে অনেক ওপরে। তবে অনন্তকাল ধরে মুসলমানদের কাছে ঈদ-আনন্দ-ফ্যাশনটা যেন এক সুরে বাধা কোন চন্দময় কবিতা গাথা। যে কবিতার পঙ্কক্তিগুলো গ্রথিত হয়ে আছে পরিবার নামক মধুরতম সম্পর্কের অটুট সুতোয়। আর যে যেখানে অবস্থান ফরুক না কেন। পরিবারের সকলে মিলে এবং সঙ্গে ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে মিলিত হতে ছুটে আসে প্রবল আকুলতা নিয়ে। তাছাড়া একসঙ্গে সবাই মিলে ঈদ উৎসবটাকে এনজয় করার মজাটাই আলাদা। ধর্মীয় এ উৎসবটা যেমন ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলে। একইভাবে বাঙালী সংস্কৃতির চিরচেনা আত্মার বন্ধনে রূপটাও ফুটিয়ে তুলতে ভুলে যায় না।

এ দিনটিতে তাই সবাই-সবাইকে উইশং করে যে যার মতো। তবে ঈদের প্রগাঢ় আনন্দের উত্তাল রেশটা প্রচ- উল্লাস নিয়ে মাতিয়ে তোলে টিন এজাব এবং সোনামনি ছোটদের। এক সময়কার সাদামাঠা আবহকে অতিক্রম করে ঈদের যেন এখন এক গর্জিয়াস, জমকালো, ফ্যাশনেবল আবেশের মহিমায় উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠেছে। হাজার বছর ধরে এই যে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠা। এই ঈদকে এবারও বুকে অবয়বে ধারণ করে বর্ণাঢ্য করে তোলা হবে। ঘরে ঘরে ঈদের আলোকোজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়বে অনাবিল আনন্দঘন পরিবেশে।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫

২৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: