মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

দর্জিপাড়া এখন মহাব্যস্ত ঈদের পোশাক তৈরিতে

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫
দর্জিপাড়া এখন মহাব্যস্ত ঈদের পোশাক  তৈরিতে
  • দেশে লক্ষাধিক কারিগরের দম ফেলার সময় নেই প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন তারা

রহিম শেখ ॥ ঈদের পোশাক তৈরিতে দর্জিপাড়া এখন মহাব্যস্ত। নতুন ফ্যাশনের পোশাক তৈরিতে এখন অনেকেই ছুটছেন দর্জির দোকানে। বিরতিহীন সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দ বলছে, দম ফেলার

ফুরসত নেই কারিগরদের। আর এই ব্যবস্থা চলবে চাঁদ রাত পর্যন্ত। নগরীর পাড়া-মহল্লায় ফ্যাশন সচেতন তরুণ-তরুণী ও নারীদের পোশাক এখন বেশি তৈরি হচ্ছে। ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট তৈরির যোগান দিচ্ছে রাজধানীর নামকরা সব টেইলার্সগুলো। যদিও রোজার আগে থেকে এই পোশাক তৈরির অর্ডার নেয়া শুরু হয়েছে। ১৫ রমজানের পর অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিবেন অনেক দোকানি। এবার কাপড়ের দাম বৃদ্ধি তো বটেই, ঈদ উপলক্ষে দর্জিরাও নিচ্ছেন কিছুটা বাড়তি মজুরি।

‘দর্জিপাড়া’ খ্যাত রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর রমনা ভবন, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, গাউসিয়া, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও মিরপুরের বিভিন্ন টেইলার্সে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাপড় তৈরি কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। কাপড় সেলাইয়ের মেশিনের শব্দ একটানা একঘেয়ে, নাকি ছন্দময় তা চিন্তারও সুযোগ নেই তাদের। বাংলাদেশ ড্রেস মেকার এ্যাসোসিয়েশনের সূত্র মতে, রাজধানীসহ সারাদেশে তালিকাভুক্ত লক্ষাধিক টেইলার্স রয়েছে। তবে কোয়ালিটি টেইলার্সের সংখ্যা হবে হাজারের মতো। বাকি ৭৫ হাজার অতি সাধারণ মানের এবং ছোট পরিসরের। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিএম হারুন জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদের সময় হাল ফ্যাশনের তৈরি পোশাকের প্রতিই মানুষের আগ্রহ বেশি। এক্ষেত্রে শরীরের সঙ্গে মানানসই পোশাক পরতে হলে দর্জিপাড়ায় তাদের আসতেই হবে এবং আসছেনও। তাই এ সময়ে দর্জির দোকানগুলোতে বেশ ভিড় পড়ে। এবারও তাই হয়েছে।

রাজধানীর রমনা ভবনে রয়েছে দেশসেরা কয়েকটি ব্র্যান্ড টেইলার্স। এর মধ্যে সানমুন, সেঞ্চুরি, ক্লাইমেক্স, আইডিয়াল, র‌্যামন্ড, মিডল্যান্ড, স্টার, ফবস, ফেরদৌস, এলিগেন্স, ফাইভ মাস্টার, ম্যানচেস্টার, ক্যামব্রিজ, দি ব্লেজার বিডি, ড্রেস কিং, এম আকবর, হ্যানস টেইলার্স উল্লেখযোগ্য। এছাড়া নিউমার্কেট, গাউসিয়া ও এলিফ্যান্ট রোডেও বেশ কিছু ব্র্যান্ড টেইলার্স রয়েছে। এসব ব্র্যান্ডগুলোতে কর্মরত কয়েকজনের কর্মচারী জনকণ্ঠকে জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এখন তাদের ব্যস্ততা দ্বিগুণ বেড়েছে। রোজার শুরু থেকেই অর্ডার বেড়েছে। তারা এখন দিনরাত কাজ করছেন। বিশেষ করে শার্ট, প্যান্ট ও মেয়েদের পোশাকেরই অর্ডার আসছে বেশি। টেইলার্স মালিকদের কয়েকজন জানান, কয়েক বছর ধরেই এ শিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধার্য রয়েছে। ফলে মজুরির অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ হারে গ্রাহককে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এসব কারণে নামি টেইলার্সে মজুরি একটু বেশি। একটি শার্ট তৈরিতে নামি টেইলার্সে মজুরি নেয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। প্যান্টের মজুরি নামি টেইলার্সে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এ বিষয়ে নিউমার্কেটের সানসিটি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মোঃ দেলোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, অন্য সময় কাজের চাপ না থাকলেও ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। সব অর্ডারও এখন নেয়া যাচ্ছে না। চাঁদনী চক মার্কেটের সুচন্দা টেইলার্সের মফিজুল ইসলাম জানান, বেশিরভাগ অর্ডার আসছে মহিলাদের কাছ থেকে। কারণ মহিলা কিংবা তরুণীদের অনেকেই ফিটিংস পোশাক পছন্দ করেন। এ পোশাকের বড় একটা অংশের অর্ডার আসে রোজার ঈদেই। তাই অনেকে থান কাপড় কিংবা সেট নিয়ে চলে আসছেন দর্জিপাড়ায়। এ কারণে লেডিজ টেইলার্সগুলোয় অন্য সময়ের তুলনায় ব্যস্ততা বেড়েছে।

সিটি কলেজ সংলগ্ন সিটি টেইলার্সের কাটিং মাস্টার প্রসেণজিৎ জানান, গতবারের চেয়ে এবার ঈদে কাজের চাপ বেশি। তাদের প্রতিষ্ঠানে ১২ জন কারিগর প্রতিদিন ৫০ সেট কাপড় সেলাই করে থাকেন। ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন তারা। এবার জিপসি, সালোয়ার কামিজ, আনারকলি, বাইশ কলি ডিজাইন জামার চাহিদা বেশি বলে জানান প্রসেণজিৎ। নিউমার্কেটের দর্জি মাহবুব বলেন, এতটুকু সময় নেই বিশ্রামের। তার ওপর পোশাকের ডিজাইনে কোন ভুল হচ্ছে, সে চিন্তার শেষ নেই। ক্রেতা ও দর্জিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিল্ক জর্জেট, কাতান ও বেনারসি কাপড়ের মজুরি এ বছর অনেক বেশি। এসব কাপড়ের এক সেট থ্রিপিস বানাতে মজুরি লাগছে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া ধানম-ি, গুলশান, বনানী ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টেইলার্সে মজুরি কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। গত দুই বছরের ট্রেন্ড ধরে এবারও মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে লং কামিজ। নিউমার্কেটের নিউ ফ্যাশন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী হোসেন মনসুর বলেন, লম্বা কামিজের সঙ্গে পালাজ্জো সালোয়ার খুব চলছে। তবে একটু বয়স্ক নারীরা চিরাচরিত কামিজেই আছেন।

চাঁদনী চকের নকশি টেইলার্সে থ্রিপিস বানাতে এসেছেন নুসরাত জাহান। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, ঈদের সময় সবাই চায় নিজের নতুন পোশাকটি দিয়ে অন্যকে চমকে দিতে। রেডিমেড পোশাকের দোকানে একই নকশার অনেক পোশাক বানানো হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায়, সেখান থেকে কেনা পোশাকটির আর নিজস্বতা থাকে না। এ জন্য প্রতিবারই ঈদে নিজের পছন্দমতো কাপড় কিনে দর্জির কাছে বানাতে দেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, এবার বেশি মজুরি নেয়া হচ্ছে। সুতি থ্রি-পিসের জন্য নেয়া হচ্ছে ৫০০-৭৫০ টাকা। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা ফারজানা ইসলাম বলেন, কাপড় অনুযায়ী জামা বানানোর মজুরি অনেক বেশি। মজুরি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার শেষ নেই দোকানিদের। কারণ, উৎসবের দিনটিতে পোশাক নিয়ে কারও মন খারাপ থাকুক, এটা তারাও চান না। গাউসিয়া মার্কেটে পোশাক বানাতে আসা উম্মে মাসুমা বলেন, আগে যদি ৫০০ টাকা নিত, এখন সেটা এক হাজার নিচ্ছে ঈদের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে পোশাকের দামের চেয়ে বানানোর মজুরি বেশি লাগছে। এ প্রসঙ্গে গাউসিয়া মার্কেটের নবরূপা টেইলার্সের দর্জি আরিফ হোসেন বলেন, সবকিছুরই তো দাম বাড়ছে। কারিগরদের মজুরি, দোকান ভাড়া, সুতা ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে মজুরি বাড়ানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫

২৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: