কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফুলের টবেই দিব্যি হচ্ছে ফল- অবাক করা ফলন

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫
ফুলের টবেই দিব্যি হচ্ছে ফল- অবাক করা ফলন
  • শহুরে মানুষ দারুণ আকৃষ্ট

মোরসালিন মিজান

শহরে বাগান মানেই ফুলের বাগান। কিছুদিন আগেও এর বেশি ভাবা যেত না। কারণ জমির অভাব। কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। অনেকেই নিজ হাতে গাছ লাগিয়ে দিব্যি ফল খাচ্ছেন। হ্যাঁ, ফুলের টবেই দারুণ সুস্বাদু ফল হচ্ছে। আম কাঁঠাল কমলা জাম্বুরা থেকে শুরু করে আনারসÑ কোনটাই বাদ যাচ্ছে না। অল্প মাটিতে চারার মতো দেখতে গাছ। তবে হৃষ্টপুষ্ট। গাছ আকারে যত ছোট, ফলন ততই বেশি। এ কারণে টব ড্রাম পট বা কন্টেনারে ফল চাষ ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। রাজধানীতে বহু বাড়ির ছাদে গড়ে উঠছে ফলবাগান। নার্সারিগুলোতে প্রায় সারাবছর ফলশুদ্ধ গাছ কিনতে পাওয়া যায়। তবে টবে ফল চাষের সাফল্য ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে জাতীয় বৃক্ষমেলায়। আগারগাঁওয়ে বাণিজ্যমেলার মাঠে শুরু হওয়া মেলার পুরোটাই বলা চলে টবে দাঁড়িয়ে! সেখানে ফুল পাতার গাছ আছে। তবে ফলভর্তি গাছ এত বেশি যে, চোখ আটকে যায়। দেখে বিস্ময় কাটে না! শহুরে সৌখিন মানুষ এসব টব প্রচুর পরিমাণে কিনছেন। ঘরে তুলছেন।

মেলার প্রায় প্রতিটি স্টলেই ছোট বড় মাঝারি মাপের টব। জ্বালানি তেলের ড্রাম মাঝখানে কেটে সেগুলো মাটি দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তাতে লাগানো হয়েছে ফলের গাছ। এক থেকে তিন বছর বয়সী গাছ লম্বায় সামান্যই। ডালপালার বিস্তারও সীমিত। অথচ ফলে ভর্তি। আমটা খুব চোখে পড়ে। বিশালাকৃতির আম টবের গাছে ঝুলে আছে। একটি গাছে ১০ থেকে ১৫টির মতো আম। কাঁঠাল গাছও আছে। জাম্বুরা দেখে তো চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। ছোট্ট একটি গাছে এত বড় ফল! নিজের ভারসাম্য রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছে গাছ। ভিটামিন সি’র রাজা আমলকিও বড় বড়। আকর্ষণীয় গায়ের রং। কমলা টবে হয়েছে। মালটাও। টবে লেবু চাষ আরও সহজ। হয়ত তাই লেবুগাছ প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। একটি গাছ গোটা পরিবারের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ডালিমও খুব উপকারী ফল। দাম বেশি। সব সময় কিনতে পাওয়া যায় না। অথচ ড্রামে চমৎকার গাছ হয়। ভাল ফলন হয়। পেয়ারা এমনকি পলিপ্যাকে বড় হওয়া গাছে ধরতে শুরু করে। আর যখন টবে, ফলন বেড়ে কয়েগুণ হয়; কামরাঙ্গা, জামরুল, করমচাÑ কী নেই!

জানা যায়, কলমের সাহায্যে করা চারা থেকেই এসব ফলের গাছ হচ্ছে। হাইব্রিড চারা থেকে অল্প সময়ে বেশি ফলন হয়। মাটির ধরন জেনে টব তৈরি করলে যেকোন ধরনের গাছ জন্মানো সম্ভব। পুষ্পিতা নার্সারির দক্ষ কর্মী শাহীন জানান, টবের জন্য সাধারণত দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি বেছে নেয়া ভাল। প্রতি টবে এক মুঠো টিএসপি সার দিয়ে মাটিটা খুঁচিয়ে দিতে হয়। বছরে দুইবার গোবর বা জৈবসার দেয়া যেতে পারে। আর পোকা ধরলে কিটনাশক স্প্রে করা চাই। এসবের বাইরে তিনি বলেন, গাছের কাছে প্রতিদিন গেলে এমনিতেই আদর বেড়ে যায়। পরিচর্যাটাও শেখা হয়ে যায়। তখন গাছের বেঁচে বর্তে থাকা বা ফলন কোনটাই আটকে থাকে না।

অবশ্য নিজে টব প্রস্তুত করতে হবে তা-ও নয়। যে কোন নার্সারি থেকে টবসহ চারা বা গাছ সংগ্রহ করা যাবে। ফল ধরা অবস্থায় গাছের দাম একটু বেশি। তবে কিনে ঠকতে হয় না। নতুন চারাও এক বছরের মাথায় ফল দিতে শুরু করে। নার্সারির কর্মীরা বাড়িতে গিয়েও টব তৈরি করে দিয়ে আসেন। এর পর বাকি থাকে পরিচর্যা। এ কাজ কতটা সহজ? জানতে চাইলে কাশবন নার্সারির মালিক আকাশ ম-ল বলেন, খুব কঠিনও না। বাসার ছাদে অনেকেই চারা করছেন। একটু আগ্রহী হলে, পরিচর্যা করতে পারলে গাছ দিব্যি বেঁচে থাকে। কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বেশি রোদ ও গরম সহ্য করতে পারেÑ এমন গাছই ছাদে বপন করা উত্তম। বাগানের গাছগুলো যেহেতু সাধারণ মাটির সংস্পর্শ হতে দূরে থাকে তাই নিয়মিত পানি সেচ দেয়া জরুরী।

টবের গাছ থেকে যে ফল পাওয়া যায় তাতে ফরমালিন বা অন্য কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল থাকে না। নির্দিধায় খাওয়া যায়। এখানেই শেষ নয়, অনেকে পরিবারের ফলের চাহিদা পূরণ করে বিক্রিও করছেন। আপনিও শুরুটা করতে পারেন। চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০১৫

২৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: