মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

‘ভূমি ব্যবস্থপনায় আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫, ০৩:৫৪ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার॥ ভূমি ব্যবস্থপনা ও ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে আদিবাসীদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি ও আগুন সন্ত্রাসীদের কথিত মানবাধিকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কিন্তু বঞ্চিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ে তারা একদম নিশ্চুপ। তবে যেই দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিদিন কালো বর্ণের মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়, তারা অপরাধীদের মানবাধিকার বিষয়ে সোচ্চার হবে সেটাই স্বাভাবিক।

রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ভূমি সংস্কার আইন-২০১৪ ও কৃষিজমি সুরক্ষা আইন-২০১৫ এর খসড়া বিষয়ে নাগরিক মতামত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট-এএলআরডি এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

বৈঠকে ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, বর্তমানে দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা দফতর। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমূল পরিবর্তন দরকার। আদিবাসীরা ভূমি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। আদিবাসীদের ভূমির বিষয়ে শান্তি চুক্তি ও ভূমি কমিশনসহ সব ক্ষেত্রে এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

আরেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, ভূমি সমস্যা ভারতবর্ষ বিভক্ত হওয়ার পর থেকে প্রকট আকার ধারণ করে। পাকিস্তান আমলে ও পরবর্তিতে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

ভূমি সংস্কার আইন-২০১৪’ এর খসড়া ভুমি সংস্কার অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এরই নতুন সংস্করণ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সীমা জামান। ড. সীমা জামান বলেন, ভূমি সংস্কার আইন-২০১৪ যেভাবে আছে সেখানে অন্তত কয়েকটি জায়গায় সংশোধন আনতে হবে। এগুলো হলো- বর্গাদারের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, বর্গাচুক্তি করতে বর্গাচাষীর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, মালিক কর্তৃক শস্য গ্রহনে অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে নীতিমালা, এই আইনে বর্ণিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের ধারণা সুস্পষ্ট করা ও এই সংক্রান্ত মামলায় আপিলের সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের ভূমি সংস্কার অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সুপারিশ করেন ড. সীমা জামান।

অন্যদিকে, কৃষিজমি সুরক্ষা আইন-২০১৫ এর খসড়া সম্পর্কে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেচেণ, এই আইনের নানা দিক অস্পষ্টতা রয়েছে। এ আইনকে কৃষক বান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রিজওয়ানা বলেন, এই আইনে বনভূমি টিলা-পাহাড় শ্রেণীর জমি, জলাভুমি, চা বাগান, ফলের বাগান রাবার বাগান ইত্যাদির কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া ভূ-প্রকৃতিগত পরিবর্তন আনা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এখানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি।

তিনি বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা আইনে ভূমি ব্যবহার বাস্তবায়ন কমিটি এবং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পযায়ে ভূমি জোনিং পরিবীক্ষণ বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন কমিটি এ চারটি কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কারা কমিটি করবেন এবং কাদেরকে এই কমিটিতে অন্তভুক্ত করা হবে সেই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এএলআরডি’র চেয়ার পারসন খুশি কবিরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল অন্যান্যদের মধ্যে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ব্লাস্ট’র আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ও ভূমি অধিকার রক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫, ০৩:৫৪ পি. এম.

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: