আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিশ্র বাগানে সাফল্য

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫
  • রাজু মোস্তাফিজ

শিক্ষকদের দৈন্য-দশায় জীবন পার করতে হয়। স্বল্প বেতনে সংসারে সচ্ছলতা যেন সুদূর পরাহত। কিন্তু রফিকুল ইসলাম ব্যতিক্রম। আর্থিকভাবে সচ্ছল তিনি। পৈত্রিক সম্পত্তি কিংবা কোন অসুদাপায়ে নয়, নিজ পরিশ্রমের বলে তিনি আজ সচ্ছল। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা গ্রামের স্কুল শিক্ষক তিনি। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন ফলের বাগান ও সবজি চাষ করে সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন। বর্তমানে তিনি ঐ এলাকার মডেল কৃষক। তাঁর সাফল্য অনেককেই অনুপ্রাণিত করছে মিশ্র ফলের বাগান ও সবজি চাষে।

বছর পাঁচেক আগে তিনি প্রথমে মাত্র এক বিঘা জমি দিয়ে গড়ে তোলেন সবজি বাগান। প্রথম বছরেই ব্যাপক সফলতা পান তিনি। বেশ টাকা পয়সা আয় করেন। এরপর ধীরে ধীরে সে আয় থেকে পার্শ্ববর্তী অনেকের জমি কিনে ৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন বিশাল সবজি ও ফলের বাগানের প্রকল্প। প্রতিবছর তিনি মিষ্টিকুমড়া, আলু, বেগুন, ঢেঁড়শ, পটল, মরিচ, ঝিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছেন। এছাড়া বাউকুল, আপেলকুল, দেশীয় বিভিন্ন জাতের আম, জাম, লিচু, লেবু ও লটকনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফল চাষ করে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন। গত বছর তিনি বিভিন্ন ফলমূল বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় করেছেন। এ বছর বিভিন্ন জাতের সবজি বিক্রি করে আয় করেছেন প্রায় ৮ লাখ টাকা ।

রফিকুল ইসলাম স্কুলের চাকরির পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাগান পরিচর্যা করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। খুব ভোরে প্রতিদিন উঠে স্বামী-স্ত্রী বাগান পরিচর্যার কাজ করেন স্কুলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। এরপর স্কুল থেকে ফিরে অনুরূপভাবে কাজ করেন তাঁরা। তাঁর এ সাফল্যে এলাকায় এক নজির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এবারই প্রথম তিনি রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙা জাতের আম ফলাতে সক্ষম হয়েছেন যা বিক্রি শুরু করতে যাবেন আর কয়েকদিন পর। ইতোমধ্যে অনেক আম ব্যবসায়ী তাঁর বাগান দাম করতে আসছেন, কিন্তু তিনি পূর্ণতা না পাওয়া পর্যন্ত বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন।

তাঁর এ প্রকল্পে প্রতিদিন কাজ করছে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক। তাঁরা প্রতিদিন বাগান দেখাশোনা করছেন। বাগানে ৫০ থেকে ৬০ প্রজাতির ফলমূল ও সবজি চাষ করে তিনি সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এবং নিয়েছেন উপজেলা পর্যায়ে ৩ বার শ্রেষ্ঠ কৃষকের পুরস্কার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শওকত আলী সরকার জানান, রফিকুল ইসলামের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মহতী। এতে করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে যোগ করছেন এক নতুন মাত্রা। শিক্ষক রফিকুল এবং কৃষক রফিকুল আজ এক অনুপ্রেরণার নাম।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: