রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বপ্নপূরণে আইইএলটিএস

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত শত শত শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পাড়ি জমাচ্ছেন। বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন থাকতে পারে আপনারও।

এমবিএ, বার এট ল, ডক্টরেট বা অন্য কোন ডিগ্রী অর্জন করতে যে কেউ যেতে পারেন দেশের বাইরে। কিন্তু এজন্য প্রথম যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে, ইংরেজীতে দক্ষতা অর্জন। এ দক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে আপনাকে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এসবের মধ্যে আইইএলটিএস (ওঊখঞঝ) অন্যতম জনপ্রিয় একটি পরীক্ষা।

যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওঊখঞঝ স্কোরকে একজন শিক্ষার্থীর ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে। এই পরীক্ষায় সবাই অংশ নিতে পারেন। এর জন্য কোন নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। তবে ইংরেজীতে দক্ষতা প্রয়োজন।

পরীক্ষা পদ্ধতি

আইইএলটিএস পরীক্ষা দুই ধরনের : একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। কোন কারিগরি বিষয় বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হলে সাধারণত জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। দুই ধরনের মডিউলেই চারটি অংশ থাকে। লিসেনিং (খরংঃবহরহম), রিডিং (জবধফরহম), রাইটিং (ডৎরঃরহম) ও স্পিকিং (ঝঢ়বধশরহম)।

লিসেনিং (খরংঃবহরহম)

কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয় এ অংশে। ৩০ মিনিটে চারটি অংশে ভাগ করে মোট ৪০টি প্রশ্ন করা হয়। সাধারণত পরীক্ষার্থীদের কোন বিষয়ে বক্তৃতা, কথোপকথন ইত্যাদি বাজিয়ে শোনানো হয়। শোনা অংশ থেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। উল্লেখ্য, একটি বিষয় কেবল একবারই শোনার সুযোগ থাকে।

রিডিং (জবধফরহম)

তিনটি বিভাগে ৪০টি প্রশ্ন থাকবে। সময় এক ঘণ্টা। নানা জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে কিছু অংশ তুলে দেয়া হবে। সেখান থেকেই বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি থাকবে।

রাইটিং (ডৎরঃরহম)

পরীক্ষার্থীর ইংরেজী লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয় এতে। এ পর্বে সময় বরাদ্দ থাকে এক ঘণ্টা। একাডেমিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের ডায়াগ্রাম দেখে নিজের কথায় উত্তর লিখতে হয়, আর জেনারেল বিভাগের পরীক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট বিষয়ে নিবন্ধ লিখতে হয়।

স্পিকিং (ঝঢ়বধশরহম)

তিনটি অংশে মোটামুটি ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা হয়। প্রথম অংশে পরীক্ষার্থীকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়, যেমন : পরিবার, পড়াশোনা, কাজ, বন্ধু ইত্যাদি। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। তৃতীয় অংশে চার থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য পরীক্ষকের সঙ্গে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কথোপকথন চালাতে হয়।

স্কোর

১ থেকে ৯-এর স্কেলে আইইএলটিএসের স্কোর দেয়া হয়। চারটি অংশে আলাদাভাবে প্রাপ্ত স্কোর যোগ করে গড় করে চূড়ান্ত স্কোর দেয়া হয়। ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাইলে সাধারণত ৭ থেকে সাড়ে ৭ পেতে হয়। তবে প্রস্তুতি শুরু করার আগেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ভর্তির জন্য ন্যূনতম স্কোর কত পেতে হবে তা দেখে নিতে হয়।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

শুরুতেই লক্ষ্য ঠিক করে নিন। এ জন্য প্রথমেই কয়েকটা মক-টেস্ট দিয়ে বুঝে নিতে হবে আপনি কাক্সিক্ষত স্কোর থেকে কতটা দূরে অবস্থান করছেন। এরপর শুরু করে দিন প্রস্তুতিপর্ব। প্রতিদিন নিয়ম করে প্রস্তুতি নেয়া ভাল। একেকজনের একেক রকম সময় লাগে। তবে মাস তিনেক সময় হাতে রাখা ভাল। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে স্পিকিং অংশে ভাল স্কোর পেতে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ইংরেজীতে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মক-টেস্ট ও প্রস্তুতির জন্য সব সময় ঘড়ি দেখে বা স্টপ ওয়াচ ধরে প্রশ্নপত্র সমাধান করতে হবে। আইইএলটিএস সম্পর্কে যে কোন তথ্য পেতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপি, বাংলাদেশ। ব্রিটিশ কাউন্সিলের লাইব্রেরিতে প্রস্তুতির জন্য অনেক ভাল বই ও ব্যবহারিক উপকরণ পাওয়া যায়। লাইব্রেরির সদস্য হলেই এগুলো ব্যবহার করা যাবে।

কোথায় কিভাবে পরীক্ষা দেবেন

বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং আইডিপির আয়োজনে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেয়া যায়। প্রতি মাসে সাধারণত তিনবার পরীক্ষা নেয়া হয়। ওয়েবসাইটে অথবা ফোন করে পরীক্ষার তারিখ জেনে নিতে পারেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। পরীক্ষার জন্য ফি হচ্ছে ১৪ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়িতে বসেই অনলাইনে ফরম পূরণ করে টাকা জমা দেয়া যাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের নির্দিষ্ট কিছু শাখায়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে দেখে নিতে পারবেন কোন কোন শাখায় টাকা দেয়া যাবে। এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার সময়, স্থান, নিবন্ধন নম্বর ইত্যাদি তথ্য জানিয়ে দেয়া হবে। পরীক্ষা দেয়ার জন্য সাম্প্রতিক সময়ের পাসপোর্ট ও দুই কপি পাসপোর্ট আকারের রঙিন ছবি লাগবে। আইইএলটিএস স্কোরের মেয়াদ থাকে দুই বছর।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে পরীক্ষা দেয়া যায়।

ওয়েবসাইট : িি.িনৎরঃরংযপড়ঁহপরষ.ড়ৎম.নফ, িি.িরবষঃং.ড়ৎম/ফবভধঁষঃ.ধংী

তথ্য সহায়তা : ব্রিটিশ কাউন্সিল, ঢাকা

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: