মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বৃষ্টিস্নাত সকালে সুফিয়া কামাল জাহানারা ইমাম স্মরণ

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সকাল থেকেই ঝরছিল বৃষ্টি। সূর্যকে ফাঁকি দিয়ে আকাশের শরীরজুড়ে জমেছিল মেঘ। সেই সূত্রে আকাশ গড়িয়ে জলের ধারা পড়ছিল এই শহরে। আর এই বৃষ্টিভেজা সকালে একসঙ্গে স্মরণ করা হলো দুই মহীয়সী নারীকে। তাঁরা দু’জনেই অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল দেশ গঠনে রেখেছিলেন অনন্য অবদান। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে লেখালেখির পাশাপাশি রেখেছিলেন সাংগঠনিক ভূমিকা। তাঁদের একজন হলেন জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল। অপরজন হচ্ছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনের সংগঠক ও লেখক শহীদজননী জাহানারা ইমাম। আর শনিবার বর্ষণমুখর সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে প্রগতির অগ্রপথিক এই দুই নারীকে স্মরণ করা হয়। স্মরণসভায় বক্তাদের নিবেদিত আলোচনায় উঠে আসে স্বদেশের প্রতি তাঁদের ভালবাসা ও সাহসিকতার কথা। সেই সূত্র ধরে উঠে আসে বাঙালীর লড়াই-সংগ্রাম ও স্বাধিকারের কথা।

স্মরণানুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জাহানারা ইমাম জাতির আলোকবর্তিকা আর সুফিয়া কামাল ছিলেন বাতিঘর। এ দুই মহীয়ষী নারীর কাছে জাতি চিরকৃতজ্ঞ। তাঁদের ঋণ শোধ করা যাবে না। এই দু’ নারীর কাছ থেকেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রেরণা আমরা পেয়েছি।

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, অনেকে মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও চেতনায় মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেন না। জাহানারা ইমাম যদ্ধাপরাধীদের বিচারকে রাজনীতির উর্ধে রেখে সকলকে এক মঞ্চে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ একসময় শেষ হয়ে যায় কিন্তু তার চেতনাকে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের কোন সময়সীমা থাকে না। তিনি সকলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লড়াইয়ে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

আবেদ খান বলেন, সুফিয়া কামাল কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ুব খান যখন বাঙালী জাতিকে জানোয়ার বলেছেন তখন একমাত্র সুফিয়া কামালই প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, বাঙালী জানোয়ার হলে আইয়ুব খান জানোয়ারের প্রেসিডেন্ট। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন-সংগ্রামেই সুফিয়া কামাল ছিলেন।

তুরিন আফরোজ বলেন, ১৯৭১ থেকে ৭৩টি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর সব কিছু বাতিল হয়ে যায়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের গোটা ইতিহাস বিকৃত করা হলো। ফিরিয়ে দেয়া হয় গো. আযমের নাগরিকত্ব। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের মতো চিহ্নিত রাজাকারকে রাষ্ট্রপতি বানানো হলো, মাওলানা মান্নানের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিত্ব দেয়া হলো। আরও অনেক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদরকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হলো। জেল-জুলুমের ভয় উপেক্ষা করে জাহানারা ইমাম আপোসহীন ভাবে রাজপথে নামলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ দেশের মানুষের প্রাণের দাবি। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণ-আদালত গঠন করলেন। গণআদালতে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হলো। কিন্তু তা কার্যকর হলো না, বরং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা করা হলো। আমৃত্যু তাঁকে মামলার দায়ভার সহ্য করতে হলো। তিনি জাতিকে শিখিয়ে গেলেন, কিভাবে সত্যকে সত্য বলতে হয় এবং সত্য প্রতিষ্ঠা করতে কিভাবে আপোসহীনভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হয়। তিনি আরও বলেন, আজ তিনি নেই তবে সত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। জাতি শিখেছে অপরাধ করলে তার বিচার হবেই হবে।

উদীচীর স্মরণে সরদার ফজলুল করিম

সৎ, নিষ্ঠাবান, সম্পূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন সরদার ফজলুল করিম। প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনার মাধ্যমে মানবতাবোধের দর্শন চর্চা করে সমাজকে নিখুঁত করে তোলার জন্য যেসব মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন সরদার ফজলুল করিম তাদের একজন। আমাদের উচিত, এমন মহান মানুষকে আরও বেশি বেশি করে অনুসরণ করা। প্রখ্যাত দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, জ্ঞানতাপস এবং উদীচীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক সরদার ফজলুল করিমের প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীতে উদীচী আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানী। শনিবার বিকেলে উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের গ্রন্থাগার ও পাঠচক্র বিভাগ। উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সহ-সভাপতি কাজী নিবাস দের সভাপতিত্বে এতে সরদার ফজলুল করিমের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন কামাল লোহানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার। এছাড়াও আলোনায় অংশ নেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান ইকবাল।

নাট্যকর্মী আরজু রহমান স্মরণ

নিবেদিতপ্রাণ এক নাট্যকর্মীর নাম এএসএম আরজু রহমান। সুবচন নাট্য সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাবেক এই অনুষ্ঠান সম্পাদকের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল শনিবার। এ উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আরজু রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান, তার কর্মের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন ও রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে সাজানো হয় ‘হৃদয়ের কানায় কানায় কান্না শোক-ষোলআনা’ শীর্ষক স্মরণের এ আয়োজন। সুবচনের দলপ্রধান আহাম্মদ গিয়াসের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: