আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সারাদেশে ভারি বর্ষণ ॥ ভাসছে রাজধানীর সড়ক

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫
সারাদেশে ভারি বর্ষণ ॥ ভাসছে রাজধানীর সড়ক
  • মারা গেছে ৮ জন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলজট ও যানজটে নাকাল রাজধানী। শনিবারও নগরীতে দিনভর মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা। সেই সঙ্গে রাস্তায় রাখা ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা মিশে গিয়ে বের হচ্ছে বিকট দুর্গন্ধ। আর দেশের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট বন্যার উন্নতি ঘটেনি। নতুন নতুন এলাকা হয়েছে প্লাবিত। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও নিরাপদ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শনিবারও পাহাড় ও ছাদ ধসে, গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং পানিতে ভেসে গিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারেই মৃত্যু হয় ৭ জনের। খুলনায় পুরনো জরাজীর্ণ একটি ভবনের ছাদ ধসে আবিদা আরিফিন শাপলা (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু ঘটে। আর নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরার ট্রলার ডুবিতে তিন মাঝি নিখোঁজ রয়েছেন। আজ রবিবারও দেশে বৃষ্টিপাত থাকবে। তবে আগামী দু’দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং উত্তর-পূর্ব দিকে অসম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অতি প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আজ রবিবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে বলে জানায় আবহাওয়া অফিস।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শনিবার ছুটির দিনেও বিভিন্ন সড়কে যানজটের দুর্ভোগে পড়েতে হয়েছে রাজধানীবাসীকে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকেই হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে রাজধানীতে। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন সড়কে দেখা দেয় যানজট। শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, শান্তিবাগ, মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টির পানি সরতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া বাংলামোটর, পান্থপথসহ ভিআইপি সড়কগুলোতেও যানজট লেগে রয়েছে। গুলশান-১ এবং যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের এলাকায় পানি জমে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মহাখালী-ফার্মগেট সড়কে বেলা ১২টার দিকে তীব্র যানজট ছিল। টানা বৃষ্টিতে শনিবার রাজধানীর এয়ারপোর্ট রোডে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিজয়সরণি থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। প্রবল বর্ষণে পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। নিকটস্থ দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে যাত্রীবাহী বাহনের অপেক্ষা করতে থাকেন লোকজন। সামনে পেয়েও বৃষ্টির কারণে তাদের কেউ কেউ বাসে উঠতে পারেননি। ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের কারণে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে মগবাজার ও মৌচাক এলাকার রাস্তাঘাটের বড় অংশ। নগরীর অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে ওই সব খানাখন্দ। এসব জায়গায় পা রাখতে গিয়ে অনেক পথচারীই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। শান্তিনগর এলাকার অনেক জায়গায় পানি। আর পুরান ঢাকার অনেক রাস্তায় হাঁটু পানি। ফুটপাতের দোকানপাট উঠে গেছে। অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভিজে যায় রিক্সাযাত্রীদের পা। পানির নিচে থাকা খানাখন্দের ভয়ে পথচারীর চলাচলও কমে যায়। পানির কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় অনেক সিএনজিচালিত অটোরিক্সার। মালিবাগ মোড় থেকে কাকরাইল, শান্তিনগর, রাজারবাগে ফুটপাতে হকারদের পণ্যের বর্জ্যগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। বৃষ্টি হলে এগুলো ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। নয়াপল্টন মোড় থেকে নটরডেম কলেজ পর্যন্ত পানি জমে ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হলেই এ এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি হলে এখানে হাঁটুপানি জমে যায়। রিক্সাচালকরা এ সময় যেতে চায় না। ভারি বৃষ্টিতে নিউমার্কেটের এক নম্বর গেটের সামনের সড়কে জমে ওঠে পানি। নিউমার্কেটের ভেতরে আংশিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে নিউমার্কেটের এক নম্বর গেট সংলগ্ন হাঁটার পথে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এভাবে শুক্রবারের বৃষ্টিতে হাজারীবাগের নিম্নাঞ্চল, রাজধানী সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট, ধানম-ির অনেক স্থানেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পুরান ঢাকা, পীরেরবাগ, সেনপাড়া পর্বতা, শেওড়াপাড়া, আদাবর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, মিরপুর, টিকাটুলি, বাসাবো, মুগদা, মধুবাজার, শ্যামলী, রামপুরা, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে চালকরা অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেন রিক্সা, অটো সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া। বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে গিয়ে ডাস্টবিনগুলোর ময়লা আবর্জনা রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে দিয়ে বাড়িয়ে দেয় দুর্গন্ধ।

স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার থেকে জানান, গত চার দিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে, গাছের নিচে চাপা পড়ে এবং পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ পরবর্তীতে লাশ উদ্ধারসহ কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অর্ধ শতাধিক। মৃত ১৭ জনের মধ্যে রামুতে পাহাড়ি ঢলে ৮ জন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ঝড়ো হাওয়ায় গাছচাপা পড়ে দুইজন, টেকনাফের শামলাপুরে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যু, কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে একজন, পেকুয়ায় মায়ের কোল থেকে পড়ে এক শিশু ও চকরিয়ায় এক বৃদ্ধসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে জেলার উল্লেখিত স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার ভারি বর্ষণ না থাকায় সকাল থেকে পানি নামতে শুরু করে। সন্ধ্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল এখনও পানির নিচে রয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় সরে যাওয়া নারী-পুরুষরা ফিরে এসেছে নিজ নিজ বাড়িঘরে। ভূমিদস্যুদের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়েছে বহু পাহাড়। শনিবার ভোরে পাহাড় ধসে টেকনাফের শামলাপুরে মা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড শামলাপুর পূর্ব পুরানপাড়ায় এই ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাড়ির পাশে বিলে জমে থাকা পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে শুক্রবার প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া ছগিরশাহকাটার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে শফিউল আলম ও ফরহাদ রেজার ছেলে কাউছার রহিম নামের এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে গ্রামবাসী।

নিজস্ব সংবাদদাতা হাতিয়া (নোয়াখালী) থেকে জানান, নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বুড়িরচর ইউনিয়নের সূর্যমুখী ঘাটের একটি মাছ ধরার ট্রলার শুক্রবার গভীর রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ১০ মাঝি-মাল্লা নদীতে পড়ে যায়। অন্য জেলেদের সহায়তায় ৭ মাঝি মাল্লা তীরে আসতে সক্ষম হলেও তিন মাঝি নদীতে ভেসে যায়। নিখোঁজ মাঝি হলেন একই ইউনিয়নের শূন্যচরের জামাল উদ্দিন (৩৫), রাকিব (১৫) ও রেহানীয়ার মোঃ মতিন (২২)। বুড়িরচর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া আলী মোবারক কল্লোল জানান, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে স্থানীয়দের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার খুলনা অফিস থেকে জানান, টানা বর্ষণে খুলনায় পুরনো জরাজীর্ণ একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ে আবিদা আরিফিন শাপলা (১৩) নামের এক স্কুলছাত্রী মারা গেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর ৫১, আহসান আহমেদ রোডের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবিদা আরিফিন শাপলা ওই এলাকার বাসিন্দা ইমামুল হাকিম টিটোর মেয়ে।

জানা গেছে, স্কুলছাত্রী আবিদা আরিফিন শাপলা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেহরি খেয়ে পৃথক একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। শনিবার সকালে হঠাৎ দ্বিতল ভবনের মাঝ বরাবর ধসে ঘুমন্ত শাপলার উপর পড়ে। এতে সে মারাত্মক আহত হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই সময় পাশের কক্ষে অন্যরা থাকলেও তারা অক্ষত রয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টুটপাড়া ও বয়রা সদর স্টেশন থেকে কর্মীরা এসে উদ্ধার অভিযান চালায়। ফায়ার সার্ভিস বয়রা (সদর) স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মাসুদ সরদার বলেন, দুঘটনা কবলিত ভবনটি পুরনো ও জরাজীর্ণ। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ভবনটি খুবই নড়বড়ে হয়ে পড়ায় পেছন দিকের ছাদের একাংশ ধসে পড়ে। এতে শাপলা নামের একটি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, নিহত শাপলা নগরীর সরকারী ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা শেরপুর থেকে জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদের হালচাটি সেতুটি সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাত্র এক বছর আগে কাংশা ইউনিয়নের বুকচিরে প্রবাহিত কালাঘোষা নদীর হালচাটি অংশে নির্মাণ করা হয় ওই সেতুটি। অভিযোগ রয়েছে, জনস্বার্থের কথা বলে পাহাড় থেকে বিনামূল্যে কাঠ সংগ্রহ করে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করা হলেও ওই খাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ সরকার ও ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ এলজিএসপি’র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার খরচ দেখান। নির্মাণের কিছুদিন পরই প্রথম দফাতেই নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে সেতুটি। সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তার দুই-তৃতীয়াংশই বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সেতুটি এখন আর কোন কাজে না এসে তা এলাকার শতশত মানুষের দুর্ভোগ একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেতুটি নির্মাণ করতে বরাদ্দের চেয়েও অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়েছে। নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় সেতুটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করে তিনি জানান, এলাকাবাসীর যাতায়াতের স্বার্থে তা মেরামতের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা পার্বতীপুর থেকে জানান, প্রবল বর্ষণে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। অচল হয়ে পড়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। শহরের রাস্তাঘাটে পানি জমছে। শীঘ্রই তিলাই নদীর উভয় পার্শ্বের মহল্লা ও জনবসতি জলমগ্ন হয়ে পড়বে।

স্টাফ রিপোর্টার যশোর থেকে জানান, যশোর সার্কিট হাউস পাড়ায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তাঘাট-ড্রেন একাকার হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগের শেষ নেই বাসিন্দাদের। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাজ করছে না। ডাস্টবিনের ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। বের হচ্ছে দুর্গন্ধ।

নিজস্ব সংবাদদাতা বাঁশখালী থেকে জানান, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে জানান, টানা ভারি বর্ষণে ধসে পড়েছে জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল মহল্লার জনগুরুত্বপূর্ণ একটি কাঁচা রাস্তা। ফলে ওই এলাকার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লিসহ শত শত বাসিন্দার চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংবাদদাতা রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) থেকে জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পানি চলাচলের একমাত্র ড্রেন বন্ধ করে দেয়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই শতাধিক পরিবার গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানির সঙ্গে শহরের তিন হোটেলের ময়লা ওই বাড়িতে প্রবেশ করায় অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। শনিবার দুপুরে রায়পুর শহরের বাজার সংলগ্ন সরদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এ চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা ভোলা থেকে জানান, ভোলায় টানা ৭ দিনের প্রবল বর্ষণ ও অতি জোয়ারে পানিতে লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জোয়ার এলেই আশ্রয়ণের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করে।

লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সোনালী, সৈয়দাবাদ, ফাল্গুনি, নিলিমা, নর্থ লর্ডহার্ডিঞ্জ, শাহবাজপুর, পেয়ারীমোহন এবং ফাতেমাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিয়া বলেন, প্রকল্পগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এসব প্রকল্পে বৃষ্টি হলেই পানি প্রবেশ করে, ফলে বাসিন্দারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এসব প্রকল্পের কোন উন্নয়ন হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা রাঙ্গামাটি থেকে জানান, কয়েকদিনের টনা প্রবল বর্ষণের কারণে পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয় স্থানে সরে আসার জন্য রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে টানা তিন দিনের মতো রাঙ্গামাটি শহরে মাইকিং করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণকে সর্বদা সর্তক থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার ও উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ তৈয়বের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত শিমুলতলী পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করে এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ত্যাগ করে মানুষকে স্থানীয় ভেদভেদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসার অনুরোধ জানান।

নিজস্ব সংবাদদাতা নওগাঁ থেকে জানান, নওগাঁয় সামান্য বৃষ্টিপাতেই পৌর এলাকার রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়াই জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গত চার দিনের টানা বৃষ্টিপাতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ।

শনিবার সকাল থেকে ঘণ্টা দুয়েক মাঝারি ধরনের বৃষ্টির পর শহর ঘুরে দেখা গেছে, নওগাঁ শহরের সরিষাহাটির মোড় থেকে উপজেলা পরিষদ মোড় পর্যন্ত নওগাঁর প্রধান সড়কের পুরোটাই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এই জমাট পানির পরিমাপ হাঁটুর উচ্চতাকেও ছাড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া নওগাঁ সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুলের দক্ষিণ পাশ দিয়ে ধাবমান শহিদ নার্গিস সড়কটিতে জলাবদ্ধতায় পানির উচ্চতা এতটাই বেশি ছিল যে রিক্সার পাদানি পুরোটাই পানির নিচে ডুবে থাকতে দেখা গেছে। অবাক করা বিষয় এই যে, এই সড়কের পূর্বপ্রান্তেই নওগাঁ পৌরসভার কার্যালয় অবস্থিত। নওগাঁ শহরে এমন কোন সড়কপথ পাওয়া যায়নি যেখানে পানি জমে থাকতে দেখা যায়নি।

পৌর এলাকার এ সকল সড়কের দুর্ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার নওগাঁর পৌর মেয়র নজমুল হক সনির সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি প্রায়ই বলেন, এ সকল সড়কের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হয়ে গেছে। অল্প দিনের মধ্যেই এ সকল সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।

প্রকাশিত : ২৮ জুন ২০১৫

২৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: