হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হারিয়ে গেছে পানছি পাড়হান এখন পরছে শাড়ি

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চল পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানায় বাঙালীদের সঙ্গে বসবাস করে সাঁওতাল, ওরাও, মু-া, মাহালী, কোড়া, মুশাহার, মালো, মাহাতো, গোনজাল মিলে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী। তার মধ্যে সাঁওতালদের সংখ্যাই বেশি। তাদের জাতীয় পোশাক পানছি পাড়হান। বর্তমানে আর্থিক সঙ্কটের কারণে এ পোশাক হারিয়ে গেছে। এখন মেয়েরা শাড়ি পরিধান করে। শূকর পোষে, তার মাংস খায়। আগে বন-বাদাড়ে পাখি, বেজি, খরগোশ শিকার ও জংলি আলু সংগ্রহ করেছ। এখন বন বিলীন হওয়ায় কোন কিছুই মেলে না। মাটির নির্মিত নিজ হাতে গড়া তাদের ঘরবাড়িগুলো আদিবাসী নকশায়।

ঘরের দেয়ালে হাতি-ঘোড়া, পশু-পাখি, গাছ-পালা ও লতাপালার আলপনা খচিত। ঘরবাড়ি, উঠান, আঙ্গিনা সব সময় পরিষ্কার রাখে। আগের মতো পশু-পাখি না পাওয়ায় এখন খাওয়া-দাওয়া বাঙালীদের মতো। সাহোরায়, বাহা, জানথাড়, এরো, ছাতাপাতা ইত্যাদি পালা-পার্বণে এখনও আদিবাসী পল্লীগুলো আনন্দ-উৎসবে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ সময় নিজস্ব খাবারের সঙ্গে প্রিয় পানীয় হাড়িয়া মদ আপ্যায়ন করা হয়। হিন্দুদের মতো সার্বজনীন দুর্গোৎসব পালন করে। সবক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ আদিবাসী ছেলে-মেয়েরা এখন লেখাপড়া করছে। তবে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পৌঁছার পর আর্থিক কারণে উচ্চ শিক্ষা নিতে পারছে না। তারা সহজ সরল খোলা মেলা স্বভাব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ছলাকলা বোঝে না। মিথ্যা কথা বলে না। এই সুযোগে দুর্বৃত্তদের খপ্পরে পড়ে আদিবাসী যুবতীরা ধর্ষণের শিকার হয়।

জাল দলিল, মিথ্যা মামলাসহ প্রতারণার শিকারে জমি ও নিজস্ব বাস্তুভিটা বেদখল হয়ে বহু আদিবাসী পরিবার ভূমিহীন ও গৃহহীন। আগে নিজের জমি আবাদ করত। এখন অন্যের জমিতে নারী পুরুষরা কৃষি শ্রমিকের কাজ করে। এছাড়াও অল্প শিক্ষিত অনেক আদিবাসী মেয়ে গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। ঐতিহ্যগতভাবে সিধু-কানুর অনুসারী আদিবাসীরা প্রগতিশীল ধারার বিপ্লবী চেতনায় বিশ্বাসী। আর তাই সময়ের প্রয়োজনে মুক্তিকামী বাঙালীদের জয়বাংলা সেøাগানে একাত্ম হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধকালে তীর বিদ্ধ করে এলাকায় বহু পাকি সৈন্যকে তারা বধ করেছে। শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে যেতে হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক কাঠামোয় গঠিত এদেশে হঠাৎ করে উল্টোধারার আবির্ভাব হওয়ায় আদিবাসীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। একই অবস্থার শিকার হয় হিন্দুরাও। তবে এই ধারা বেশিদিন স্থায়ী হবে না। নানা জাতি নানান কৃষ্টি-কালচার নিয়ে সৌহার্দ্য- সম্প্রীতির মধ্যে এ সমতলে বসবাস করছে যুগযুগ ধরে।

Ñশ.আ.ম. হায়দার

পার্বতীপুর থেকে

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: