আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ধান যদি বাঁচাতে চাও ওড়া-কোদাল কাঁধে নাও

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

প্রকৃতির লীলা নিকেতন, ষড় ঋতুর আজব লীলাক্ষেত্র হাওড়াঞ্চলে বর্ষাকালে সাত মাস থাকে অথৈ জলরাশি। তখন চারদিকে শুধু পানি আর পানি। বাকি পাঁচ মাস একমাত্র বোরো ফসলের নয়নাভিরাম সবুজ সমারোহ মনকে বিমোহিত ও উৎফুল্ল করে তোলে। হাওড়াঞ্চল হচ্ছে-বাংলার মৎস্য ও শস্য ভা-ার হিসেবে খ্যাত। কিন্তু হঠাৎ করেই ধেয়ে আসা পাহাড়ী ঢল, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হাওড়ের কৃষকদের সুখ-স্বপ্ন-সাধ বানের পানিতে ভেসে যায়। চোখের সম্মুখে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় পাকা, আধাপাকা ধান। বর্ষাকালে প্রকৃতির বৈরী আচরণে চোখ জুড়ানো ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপন্ন হাওড়ে ভেসে ওঠে কৃষক-কৃষাণীদের আহাজারি। তখন সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলে হাওড়বাসীর দিনযাপন। খেয়ে না খেয়ে রাত-দিন কেবল বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে বিরামহীন লড়ে যায় হাজার হাজার কৃষক ও এলাকাবাসী। বসে থাকে না নারীরাও। তারা পুরুষদের সঙ্গে মাটি কেটে নদীর তীর ও বাঁধ মেরামতে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে যায়। এ অবস্থায় ফসল রক্ষায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে হাওড় পাড়ের এ মানুষগুলো অবিরাম সংগ্রামে ক্লান্ত হলেও তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এ বছর অভিবাসী যেসব হাওড়ে কৃষক বৈশাখে ধান তুলতে দেশে আসে, তারা আবার ফিরতে শুরু করেছে অজানা বিভূঁয়ে, অন্ন সংস্থানের আশায় অন্যত্র। তাদের এ মিছিলে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে হাজারো নতুন মুখ।

হাওড়বাসী কষ্ট সহিষ্ণু ও পরিশ্রমী মানুষ। ‘ধান যদি বাঁচাতে চাও ওড়া-কোদাল কাঁধে নাও’ সেøাগানে প্রতিবছর বন্যার পানি হতে ফসল রক্ষার প্রাণান্তকর চেষ্টা, একতা ও আকুলতা হাওড়বাসীকে আশাবাদী করেছে। বাঁধ ভাঙ্গার দুঃসংবাদে, রাতের অন্ধকারে বাতি হাতে হাজার হাজার কৃষকের দৌড়-ঝাঁপ, মুহূর্তে নারী-পুরুষ সর্বজনের জাগানিয়া ঐক্যবদ্ধ বন্যা প্রতিরোধের প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।

Ñমাজহার মান্না, কিশোরগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: