মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুস্তাফিজের ছেলেবেলা

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয়ই ইতোমধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম জেনেছ। মুস্তাফিজুর রহমান মানে বাংলার তরুণ টাইগার। যে কিনা একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি ভারতকে প্রায় একাই হারিয়ে দিয়েছে। এটা ছিল তার প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে প্রথম দেখা মেলে মুস্তাফিজুর রহমানের। তখনই সবার নজরে আসে মাত্র ১৯ বছর বয়সী এ পেসার। কেউ কেউ ধারণা করেছিল এ ছেলেটি কিনা দলকে বিপদেই ফেলে দেয়। কিন্তু না, তার ২০ রানে ২ উইকেট, তাও আবার শহীদ আফ্রিদি আর মোহাম্মদ হাফিজ, সবাইকে অবাক করে দেয়।

এবার ওয়ানডে অভিষেক হতে যাচ্ছে এটা মোটামুটি সবাই নিশ্চিত ছিলেন। কিন্তু মুস্তাফিজ এমনভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে গোটা ভারতকে ধসিয়ে দেবে- তা কে ভেবেছে। খেলা শেষে তাই নায়ক ওই লিকলিকে মুস্তাফিজ। গায়ের জোরে নয়, কৌশলে ঘায়েল করে সে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে। ধীরগতিতে (সেøায়ার) আর কাটারেই কাবু ধোনি, রোহিত, রায়নারা।

মুস্তাফিজুর রহমানের জন্ম ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের বিস্ময় ক্রিকেটার তিনি। দলে মূলত বাঁহাতি মিডিয়াম বোলিং করে সে। বিশ্বে সে একমাত্র খেলোয়াড় যে তার প্রথম তিন ম্যাচে তেরটি উইকেট লাভ করে।

অভিষেকে পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতকে ৭৯ রানে হারানোর নায়ক মুস্তাফিজই। তাই খেলা শেষে সতীর্থরা তাকে নিয়ে কী করবে যে দিশা পাচ্ছিল না। সবাই তাকে জড়িয়ে অভিনন্দন জানাতে ব্যস্ত, কেউবা কাঁধে তুলে নিতে চাইল। আর অধিনায়ক মাশরাফি তো তার কপালে যেন চুমু এঁকে দিল।

বিচিত্র সে এক অভিজ্ঞতা লাজুক ছেলেটির। তার মুখে কেবল স্মিত হাসি। বুঝতেই যেন পারছিল না সে আহামরি কীইবা করেছে যে এত উল্লসিত হতে হবে তাকে নিয়ে। পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে যারা তাকে দেখেছে তাঁরা বুঝেছেন তার অবস্থা। ইংরেজী বলতে পারেন না তেমন। আর তাই অধিনায়ক মাশরাফি আসে দোভাষীর ভূমিকায়।

কিন্তু বাংলাতেও তার মনের অবস্থা বোঝাতে পারছিল না। এমনই হয় যখন মানুষ খুব খুশি হয় বা দুঃখ পায় তখন মনের অবস্থা প্রকাশ করতে পারে না। তবে মুস্তাফিজের মনের অবস্থা প্রকাশ করার দরকার নেই! মুস্তাফিজের সঙ্গে একই অবস্থা ১৬ কোটি বাঙালীর মনের অবস্থা।

সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের একেবারে দক্ষিণে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা। ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে তিন শ’ কিলোমিটার দূরে। মুস্তাফিজের গ্রাম সাতক্ষীরা শহর থেকেও ৪০ কিলোমিটার। সেখান থেকে ক্রিকেটের ভালবাসা আজ তাকে নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। কপাল ভাল তার, না হয় অনেক প্রতিভার মতো হারিয়ে যেতে পারত সেও। তার পরিবার মুস্তাফিজের প্রতিভা আর ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসাটা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তাকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টাও করেছেন প্রত্যক্ষভাবে। শৈশবে বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস বলে ব্যাটসম্যান হিসেবেই খেলতে চাইত। নিজেকে দেখতে চাইত লারা-শচীনদের কাতারে।

কিন্তু দৈহিক গড়ন দেখে অনেকেই তাকে পরামর্শ দেন ফাস্ট বোলিং করার। সাতক্ষীরায় প্রশিক্ষণ থেকেই তার ডাক পড়ে অনুর্ধ ১৭ প্রতিযোগিতায়। এরপর ঢাকায় পেস বোলিং শিবিরে সুযোগ মেলে। মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধায় দ্রুত পরিশীলিত হতে থাকে। সবার নজরেও আসে দ্রুত। অনুর্ধ ১৯ জাতীয় দলেও খেলে মুস্তাফিজ। ২০১৪ সালে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের ছয় খেলায় পায় নয় উইকেট।

এরপর প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ তাকে তুলে আনেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের বাংলাদেশ ‘এ’ দলে। ২০১৩ মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেটে লীগে খুলনার হয়ে অভিষেক হয় তার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২৬ উইকেট নেয় প্রথম শ্রেণীর খেলায়।

কিন্তু ২০টির বেশি উইকেট পাওয়া চার পেসারের মধ্যে তার গড়ই সবচেয়ে ভাল ১৮.০৩। ওয়ানডে ক্রিকেটে একমাত্র দুটি ডবল সেঞ্চুরির মালিক রোহিত শর্মাকে দিয়েই উইকেট নেয়ার উৎসব শুরু করে এ তরুণ তুর্কী।

মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাসেম গাজির মতে, এক সময় মনে হতো খেলে কি হবে। আর এ খেলায় মুস্তাফিজ দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে এখন ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্ন। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে শুধু দোয়া করেছি, যেন দেশের সম্মান রাখতে পারে। আমার আর এ ছাড়া কি চাওয়া থাকতে পারে।

এক নজরে মুস্তাফিজুর রহমান

পূর্ণ নাম- মুস্তাফিজুর রহমান

জন্ম- ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫

জন্মস্থান-সাতক্ষীরা, খুলনা, বাংলাদেশ

উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি

বোলিংয়ের ধরন বাঁহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট

ব্যাটিংয়ের ধরন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান

ওডিআই অভিষেকÑ ১৮ জুন ২০১৫,ভারতের বিপক্ষে

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: