কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

যুদ্ধবাজ রোবট

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

বাল হক নামের আরও একটি রোবট বিমান বর্তমানে আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধ ক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। এ রোবট বিমানগুলো অনেক উঁচু দিয়ে উড়ে গিয়ে শত্রুপক্ষের অবস্থানের ছবি তুলতে পারে। কিন্তু স্থলযুদ্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। এ যুদ্ধ অনেক বেশি জটিল। স্থলভাগ রোবটদের চলাচলের জন্য আনেক কঠিন জায়গা। স্থলভাগের একেক অঞ্চল একেক রকম। এজন্য মরুভূমির রোবট জঙ্গলে চলতে পারে না। আবার নগরে ব্যবহারের জন্য রোবট পাহাড়ী এলাকায় খাপ খায় না। এসব বাধার পরেও, সামরিক কাজের জন্য বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ ধরনের রোবট নিয়ে কাজ করছেন, যার নাম মানববিহীন স্থলযান বা সংক্ষেপে ইউজিপি। মার্কিন বাহিনী প্রথম সামরিক রোবট ব্যবহার করেছে মাইন অপসারণের জন্য। ধারণা করা হয় সারা বিশ্বে ৭ কোটিরও বেশি মাইন মাটির নিচে পোতা আছে। এর মধ্যে শুধু আফগানিস্তানেই রয়েছে ১ কোটিরও বেশি মাইন। মানুষ দিয়ে এসব মাইন অপসারণ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। নব্বইয়ের দশকে বলকান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র মাইন অপসারণ করার জন্য দু’ধরনের রোবট ব্যবহার করেছিল। একটির নাম হচ্ছে ‘প্যান্থার’, এটি চলে রিমোট কন্ট্রোলে। এর কাজ ছিল ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী মাইন খুঁজে বের করা। অপর রোবটির নাম ‘মিনি ফ্লেইল’ যার কাজ মাইন খুঁজে বের করে তা ফাটিয়ে দেয়া। বর্তমানে আরও উন্নত মাইন অপসারণকারী রোবট বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন। কাঁকড়ার আদলে বেশ ছোট আকৃতির একটি রোবট তৈরি করা হয়েছে, যার নাম ‘এরিয়াল আন্ডারওয়াটার’। এ রোবটি জলে এবং স্থলে সমানভাবে কাজ করতে পারে। স্যান্ডিয়া ল্যাব নামে একটি কোম্পানি স্থলভাগে গোপন নজরদারির জন্য ‘সার্জ’ নামে একটি রোবট তৈরি করেছে। যার রয়েছে ৪টি ক্যামেরা, দুটি নিজে দেখার জন্য এবং দুটির মাধ্যমে নজরদারি করা হয় শত্রুপক্ষের ওপর। এতক্ষণ মাইন অপসারণ ও নজরদারির কাজে রোবটের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো। এখন দেখা যাক, সম্মুখযুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বর্তমানে রোবট কতটা তৈরি। আসলে একজন সৈনিকের স্থানে একটি রোবট ব্যবহার করা এখনও পুরোপুরিভাবে সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ের রোবটগুলো একেবারই নির্বোধ। অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নড়াচড়ার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে আবার বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। এসব ক্ষমতা রোবটকে দেয়া এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। অথচ একটি সৈনিক রোবটের এসব গুণ অবশ্যই থাকতে হবে। তাই বিজ্ঞানীরা এ সকল বাধা দূর করার জন্য বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। এতে রোবটগুলোর ডিজাইন এমনভাবে করা হবে যাতে মানবদেহের জৈবিক ব্যবস্থার একটা প্রতিরূপ তার মধ্যে থাকে। হাভার্ডের বায়োমেট্রিক্স ল্যাবেরটরি রোবটের স্পর্শানুভূতির কিছু নতুন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে।

আইটি ডট কম প্রতিবেদক

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: