আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জঙ্গীবাদের বিশ্বায়ন

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫
  • একে মোহাম্মদ আলী শিকদার

১৯৯৩ সালের ৩ অক্টোবর। বেলা প্রায় দ্বিপ্রহর। পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশে বিশ্বের পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বহর ‘ব্লাক হক হেলিকপ্টার’। গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত মোগাদিসুর পথশিশুরা হেলিকপ্টারের শব্দ শুনে চেঁচামেচি এবং এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। আবার মাথায় পাগড়ি পরা একদল মাঝবয়সী মানুষ নিঃশব্দে ধীরপায়ে এক-দু’জন করে ঘরের বাইরে এসে আড়াল থেকে আশঙ্কায় ভরা উৎসুক দৃষ্টিতে হেলিকপ্টারের আগমনের পথের দিকে খানিক তাকিয়ে আবার যে যার মতো আড়ালে চলে গেল। তাদের হাবভাব দেখে কোন আগন্তুকের বোঝার উপায় নেই যে, তারা একটু পরেই দুর্ধর্ষ এক যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে। প্রস্তুতি ও সঠিক অবস্থান সম্পর্কে আকাশ থেকে মার্কিন সেনারা যাতে টের না পায় তার জন্য পাগড়িওয়ালাদের বাড়তি সতর্কতা। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অতি সতর্ক পদার্পণে একেকজন করে যার যার ডানেবামের লোকের সঙ্গে কী যেন সামান্য শলাপরামর্শ করে নিল ইশারা ভাষায়, মুখে কারও শব্দ নেই। প্রায় দুই বছর যাবত চলা গৃহযুদ্ধ এবং প্রায় বছরখানেক আগে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট নিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর আগমন ইত্যাদি দেখতে দেখতে মোগাদিসুবাসীর বুঝতে অসুবিধা হয় না যেন আকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্লাক হক হেলিকপ্টার। শহরের আকাশে এক জায়গায় এসে হেলিকপ্টারগুলো নিজেদের মধ্যকার কৌশলগত দূরত্ব বজায় রেখে নিচে নেমে আসতে থাকে। একপর্যায়ে বেশ উপরে থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা সব হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে একযোগে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে শহরের ভেতরে অবস্থান নেয়া ফারাহ মুহম্মদ আইদিদের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত সোমালিয়া কংগ্রেস উপদলভুক্ত সৈন্যবাহিনীর মেশিনগান ও রকেট লঞ্চার। একের পর এক পাখির মতো লুটিয়ে পড়তে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনারা। মিলিটারি ভাষায় যাকে বলে ঞড়ঃধষ ংঁৎঢ়ৎরংব। উভয়পক্ষের ভারি মেশিনগান ও রকেটের শব্দ এবং ধোঁয়ায় ভারি হয়ে যায় মোগাদিসুর আকাশ-বাতাস। কিন্তু মানুষ নীরব নিস্তব্ধ, চেঁচামেচি সাড়াশব্দ নেই। মনে হয় শহরবাসীর জানাই ছিল এমনটাই একদিন হবে। যে যার মতো করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে মুহূর্তের মধ্যে। কয়েক মিনিটের মধ্যে রকেটের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় মার্কিন বহরের একটি হেলিকপ্টার। আরেকটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে মার্কিন সেনাদের প্রধান ঘাঁটি থেকে অকুস্থলে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়। আরও হেলিকপ্টার আসে। সারা মোগাদিসু শহরজুড়ে হেলিকপ্টার থেকে এলোপাতাড়ি মেশিনগানের গুলি চালানো হয়।

আইদিদবাহিনীও দমবার পাত্র নয়। শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্নারে এলোমেলোভাবে পূর্বে অবস্থান নেয়া কৌশলী জায়গা থেকে হেলিকপ্টারকে তাক্্ করে রকেট মারতে থাকে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে চলে এই যুদ্ধ। অনেক চেষ্টা করেও মার্কিন সেনারা শহরের কোথাও সংঘবদ্ধ হয়ে নামতে পারে না। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মার্কিন বাহিনী আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যায়। আইদিদ সৈন্যদের রকেট থেকে বাঁচার জন্য হেলিকপ্টারের পাইলটগুলো নিরাপদ আকাশ দূরত্ব বজায় রেখে লক্ষ্যহীনভাবে মেশিনগানের গুলি ছুড়তে থাকে। শেষমেশ মার্কিন বাহিনী বিধ্বস্ত দুটি হেলিকপ্টার ও মেরিন সেনাদের মৃতদেহ ফেলে রেখে সেদিনের মতো প্রধান ঘাঁটিতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এই খ-যুদ্ধে ১৮ জন মার্কিন মেরিন সেনা নিহত এবং প্রায় ৭৩ জন আহত হয়। হেলিকপ্টারের এলোপাতাড়ি গোলাবর্ষণে কয়েকশত নিরস্ত্র-নিরীহ মানুষ নিহত হয়। মার্কিন সেনারা ফিরে যাওয়ার পর মোগাদিসুর উলঙ্গ-অর্ধোলঙ্গ পথশিশুরা বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করতে থাকে। আর মার্কিন মেরিন সেনাদের মৃতদেহ মোগাদিসুবাসীদের দেখানোর জন্য দড়িতে বেঁধে রাস্তায় টানতে থাকে আইদিদবাহিনীর সেনারা। মিডিয়ার বদৌলতে এমন অমর্যাদাকর দৃশ্যের ছবি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন মুল্লুকে খবর হয়ে যায়, ভয়ানক চটে যায় মার্কিন জনগণ। সদ্য ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাছে তারা কৈফিয়ত তলব করে। মার্কিন প্রশাসন হতভম্ভ ও হতাশ। ভিয়েতনামের পর এতবড় বেইজ্জতি এটাই প্রথম। প্রতিশোধ পরায়ণের আদিম স্পৃহা জেগে ওঠে। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি শর্টফিল্ম তৈরি হয়। ছবিটির নাম ‘ব্লাক হক ডাউন’। বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে শিরোনামে উল্লিখিত সম্পর্ক বোঝার জন্য একটু পেছনের ও পরের ঘটনার সামান্য বর্ণনা দিচ্ছি।

তৎকালীন স্নায়ুযুদ্ধের সমীকরণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সোমালিয়ায় ক্ষমতায় আসে পশ্চিমাপন্থী মেজর জেনারেল মুহম্মদ সাঈদ বারি। কিন্তু প্রতিবেশী ইথিওপিয়ার কমিউনিস্টপন্থী সরকারের সহায়তায় সোমালিয়ার অভ্যন্তরে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ যুদ্ধে ১৯৯১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন সাঈদ বারি। কিন্তু তাতে গৃহযুদ্ধ আরও বিস্তার লাভ করে। সাঈদ বারির পক্ষে পশ্চিমাপন্থী আলী মাহাদী মুহম্মদ এবং ইথিওপিয়ার সমর্থনপুষ্ট প্রগতিশীল বামপন্থী নেতা জেনারেল মুহম্মদ ফারাহ হোসেন আইদিদ গৃহযুদ্ধরত দুই পক্ষের নেতৃত্ব দেন। একপর্যায়ে ফারাহ আইদিদের সংযুক্ত সোমালিয়া কংগ্রেস রাজধানী মোগাদিসুসহ বেশিরভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সরকার গঠন করে। কিন্তু গৃহযুদ্ধের তা-বে পুরো সোমালিয়ায় দেখা দেয় ভয়ানক মানবিক বিপর্যয়। ফলে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটে মানবিক সহায়তার জন্য ২৫ হাজার মার্কিন সেনাসহ প্রায় ৩৭ হাজার বহুজাতিক বাহিনী নিয়োজিত হয় সোমালিয়ায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে রাজধানী মোগাদিসুতে প্রতিষ্ঠিত ফারাহ আইদিদের সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে সকল পক্ষকে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলে। এতে ফারাহ আইদিদের সংযুক্ত সোমালিয়া কংগ্রেস প্রচ- ক্ষুব্ধ হয়। আইদিদ মনে করেন, আদর্শগত কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলে তার সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটাতে চায়। সকল পক্ষকে অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব পরোক্ষভাবে মার্কিন সরকার পক্ষ নেয় পূর্বের সামরিক শাসক সাঈদ বারির অনুসারী আলী মাহাদীর সশস্ত্র গ্রুপের পক্ষে। কারণ, ইতোমধ্যে ফারাহ আইদিদের সংযুক্ত সোমালিয়া কংগ্রেস রাজধানী মোগাদিসু দখলে নিয়ে সরকার গঠন করে ফেলেছে। আফ্রিকা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ আইদিদ সরকারকে স্বীকৃতিও দিয়েছে।

এখন পশ্চিমাপন্থী সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে এক কাতারে নামিয়ে আনার জন্য আইদিদ সরকারকেও জাতিসংঘের বাহিনীর কাছে অস্ত্র জমা দিতে বলে। ফলে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয় আইদিদ বাহিনীর। লেখার শুরুতে বর্ণিত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার দিনে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালের ৩ অক্টোবর ফারাহ আইদিদকে গ্রেফতারের জন্য মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনী অভিযান চালায়। সেই অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির ফলে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন মার্কিন সেনাবাহিনীকে সোমালিয়া থেকে প্রত্যাহার করে নেন। ফারাহ আইদিদ আদর্শগতভাবে যেহেতু পশ্চিমা বিরোধী ছিলেন তাই সেদিন যুক্তরাষ্ট্র চায়নি আইদিদের সরকার সোমালিয়ায় শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। মার্কিনীরা হয়ত মনে করেছিল সকল পক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করলে কৌশলে একটা নির্বাচনী খেলায় পশ্চিমাপন্থী সামারিক শাসক সাঈদ বারির কোন অনুসারীকে মোগাদিসুতে ক্ষমতায় বসাতে পারবে। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। আম-ছালা দুটোই হারায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের পছন্দমতো সরকার সোমালিয়ায় বসাতে তো পারেই না, বরং ভিয়েতনামের পর সবচেয়ে বড় অপমানজনকভাবে সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু মার্কিন প্ররচনায় পশ্চিমাপন্থী সশস্ত্র গ্রুপ শক্তি অর্জন করে আবার শুরু করে গৃহযুদ্ধ। ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসের এক যুদ্ধে আহত হয়ে সে বছরের আগস্টের শুরুতে মৃত্যু হয় ফারাহ আইদিদের। তারপর সোমালিয়ার রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসন বলতে আর কিছু থাকে না। এই সুযোগে আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের সরাসরি নির্দেশে ও সহায়তায় সোমালিয়ায় গঠিত হয় আল শাবাব নামক জঙ্গী ধর্মান্ধ বাহিনী।

১৯৯৮ সালের আগস্ট মাসে একই দিনে একযোগে তানজেনিয়া ও কেনিয়ায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় আল শাবাব বাহিনী। মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ নিহত হয় কয়েক শ’ মার্কিন নাগরিক। কেঁপে ওঠে মার্কিন সাম্রাজ্য। এই ঘটনার পর থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্র লাদেনের পিছু লাগে। কিন্তু গত শতকের নব্বই দশকের শুরু পর্যন্ত লাদেনকে মার্কিনীরা কাজে লাগিয়েছে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। ১৯৯৮ সালে লাদেনের অনুসারীদের দ্বারা মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলার পর বিশ্বের রাজনৈতিক প-িতদের কাছে আরেকবার প্রমাণ হয়, তেলে-জলে মেশে না। আদর্শের দ্বন্দ্ব সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব। সাপে-নেউলের বন্ধুত্ব টেকে না। তখন লাদেন কর্তৃক সৃষ্ট আল শাবাব ও তাদের জ্ঞাতিভাই বোকো হারাম এখন উত্তর-পূর্ব-মধ্য আফ্রিকাজুড়ে পশ্চিমা বিশ্বের অনুসারী সব সরকারের জন্য ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। সে সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে যদি সোমালিয়ার জনগণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিত এবং সোমালিয়ায় একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য ফারাহ আইদিদের সঙ্গে সমঝোতায় আসত, তাহলে হয়ত সোমালিয়া ও তার আশপাশের দেশগুলোকে আজ আল শাবাবের জঙ্গী তৎপরতার কবলে পড়তে হতো না। এই সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সোমালিয়া থেকে ফেরত আসার পর সেখানে যে রকম সবকিছু ভেঙ্গে পড়ে তাতে ওই অঞ্চলে আল কায়েদার মতো জঙ্গী সংগঠন সৃষ্টির উর্বর জমিন তৈরি হয়।’

আল শাবাব এখন একটি বহুজাতিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। ২০১০ সালে ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, বেশকিছু ব্রিটিশ নাগরিক আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আল শাবাব বাহিনীতে কাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সম্পর্কিত এক রিপোর্ট অনুসারে প্রায় ৪০ জনের মতো মার্কিন নাগরিক আল শাবাব বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। জানা যায় ইয়েমেন, সুদান, আফগান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিকও আল শাবাবের সঙ্গে আছে। গত বছর ফজলুল আবদুল্লাহ মুহম্মদ নামের একজন কেনিয়ার নাগরিককে পূর্ব আফ্রিকার আল কায়েদা শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আবু মুসা সোমবাশা নামক একজন পাকিস্তানী নাগরিক এখন আল শাবাব বাহিনীর প্রশিক্ষণ প্রধান। আল শাবাবের অনুপ্রেরণায় নাইজিরিয়ায় ২০০৯ সালে উত্থান ঘটে বোকো হারাম জঙ্গীগোষ্ঠীর। বোকো হারাম এখন পার্শ্ববর্তী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনে অপারেশন চালাচ্ছে।

সম্প্রতি বোকো হারাম আনুগত্য প্রকাশ করেছে ইরাক-সিরিয়ার ইসলামিক রাষ্ট্রের (আইএস) প্রতি। আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদিকে নিজেদের খলিফা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বোকো হারাম। আল শাবাব পূর্বেই আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে। লিবিয়ায় আইএস অনুসারীরা যুদ্ধ করছে সেখানকার অস্থায়ী সরকারের বিরুদ্ধে। ইসলামী উগ্র জঙ্গীদের বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া মূলত শুরু হয় সোভিয়েতবিরোধী আফগান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে। আফগান যুদ্ধে যোগ দেয়া মুসলিম যুবকগণ এক সময়ে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে এসে আফগান স্টাইলের জঙ্গী সংগঠন গড়ে তোলে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। সুতরাং আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী যুদ্ধ ও তার প্রেক্ষাপট, সোমালিয়ার কেস স্টাডি এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরাকের ধর্মনিরপেক্ষ শাসক সাদ্দামকে উৎখাতের ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে জঙ্গীবাদের বিশ্বায়নের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না।

লেখক : মেজর জেনারেল পিএসসি (অব),

ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

ংরশফবৎ৫২@মসধরষ.পড়স

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: