মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

৪০ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দেবে ইইউ

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫
  • অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি ইচ্ছামূলক ॥ ব্রিটেন

এ বছর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার অভিবাসী এসেছে গ্রিস ও ইতালিতে। ব্রাসেলসে ইইউ নেতারা সম্মত হয়েছেন, এদের মধ্যে ৪০ হাজার অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছেন। খবর বিবিসি অনলাইনের।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থমন্ত্রীদের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, আগামী দু’বছরে ৪০ হাজার অভিবাসীকে অনান্য ইইউ রাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া হবে। শীর্ষ বৈঠকে প্রস্তাবিত কোটা ব্যবস্থার ওপর কোন মতৈক্য হয়নি।

গ্রিসের ঋণ সমস্যাও শীর্ষ বৈঠকে আলোচ্যসূচীতে ছিল। বৃহস্পতিবারের আলোচনার পরও গ্রিস ও এর আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে। এর আগে নৌকোয় আসা অবৈধ অভিবাসীদের বোঝার অংশীদার হওয়ার জন্য ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আহ্বান জানান টাস্ক। এ অবৈধ অভিবাসীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছে ইত্যালি ও গ্রিসে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরয়ের নতুন তথ্যে দেখা যায় এ বছর সমুদ্রপথে গ্রিস এসে পৌঁছেছে ৬৩ হাজার অবৈধ অভিবাসী এবং ইতালিতে এসেছে ৬২ হাজার অভিবাসী। টাস্ক সাংবাদিকদের বলেন, শীর্ষ বৈঠকে নেতারা মতৈক্যে পৌঁছেছেন যে, আগামী দু’বছরে গ্রিস ও ইতালি থেকে ৪০ হাজার অভিবাসীকে অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা জুলাইয়ের শেষ নাগাদ এ প্রকল্প চূড়ান্ত করবেন। ইইউভুক্ত দেশগুলোর বাইরেও আরও ২০ হাজার শরণার্থীকে পুনর্বাসনের জন্য সম্মত হয়েছেন নেতারা। ব্রাসেলসে বিবিসির সাংবাদিক জানান, হাঙ্গেরী ও ইইউর অন্যতম দরিদ্র দেশ বুলগেরিয়ায় কোন অভিবাসী পাঠানো হবে না বলে নেতৃবৃন্দ একমত হন। স্থ’ল সীমান্ত পথ অতিক্রম করে হাঙ্গেরী পৌঁছেছে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসী।

অবৈধ অভিবাসী প্রকল্পের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইউরোপের পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো কোটা ব্যবস্থা গ্রহণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাই অভিবাসী গ্রহণ প্রকল্প কেবল স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। নৌকৌয় আসা অভিবাসীদের ব্যাপারে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আরও সহযোগিতা চেয়েছে ইতালি। ইইউ শীর্ষ বৈঠকে অভিবাসী সঙ্কট বিষয়টি ছিল অলোচ্যসূচীর শীর্ষে। গৃহযুদ্ধে থেকে বাঁচতে অসংখ্য সিরীয় গ্রিস ও ইতালিতে আশ্রয় নিচ্ছে বলে এ সঙ্কট বাড়ছে। সিরিয়া সংলগ্ন দেশগুলোতে এ পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছে ৩০ লাখের বেশি সিরীয় শরণার্থী।

কিন্তু আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চলের ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকেও পালিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ নৈরাজ্য, সহিংসতা ও চরম দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে। ইতোমধ্যে গ্রিক ঋণ আলোচনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় ম্লান করে দিয়েছে এ শীর্ষ বৈঠককে। গ্রিস এবং এর ঋণদাতা ইউরোপীয় কমিশন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (্ইসিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ে একটি বারমাত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ঐ চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিসকে ৭শ’ ২০ কোটি ইউরো ডলার পরিশোধে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে চূড়ান্ত করা হয়। অপর্যাপ্ত আয়ের দেশ গ্রিসকে মঙ্গলবারের মধ্যে আইএমএফের ঋণ ৬শ’ কোটি ইউরো ডলার অবশ্য পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে দেশটি ঋণখেলাপী বলে বিবেচিত হবে এবং ইউরো থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। গ্রিক ঋণ প্রসঙ্গে অচলাবস্থা সত্ত্বেও শীর্ষ বৈঠকে আলেক্সি সিপরাস ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিও রেনজি জার্মানির এঞ্জেলা মেরকেলের মধ্যে সম্পর্ক আনন্দমুখর দেখা গেছে।

গ্রিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতা রোধের পক্ষে ইউরো গ্রুপের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে এটা চতুর্থ বৈঠক। তাদের আবারও শনিবার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন, সমস্যা সমাধানে জন্য বৈঠকের সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০১৫

২৭/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: