আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রেম ও গণমানুষের কবি নির্মলেন্দু গুণ

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • শামস সাইদ

্রবাংলাদেশ, বাংলাভাষা ও বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিদের একজন নির্মলেন্দু গুণ। কবি গুরু রবি ঠাকুরের মতো কবি হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত হলেও সাহিত্যের সব শাখাতেই রয়েছে তাঁর অবাধ ও শক্তিশালী বিচরণ। এমনকি ছবি আঁকায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর বাবাও ছিলেন চিত্রশিল্পী। হয়তো বাবার এই গুণটা তাঁর কাব্য জগতের বাইরে নিজের অজান্তেই এসে বাসা বেঁধেছে। তবে বাবার প্রবল ইচ্ছা ছিল তাঁর কোনো এক সন্তান চিত্রশিল্পী হোক। কেননা বাবা কলকাতা আর্ট স্কুলের পাঠ শেষ করতে পারেননি। সে কষ্ট হয়তো দূর করতে চেয়েছিলেন সন্তানদের দিয়ে। তাই এক ছেলের নাম রেখেছিলেন মহাকবি কালিদাস রায়ের নামে। তবে সে সন্তান তিন বছরের মাথায় পৃথিবী ত্যাগ করেছিল। আর ছোট ছেলের মাঝে দেখতে পেলেন কাব্যগুণের প্রকাশ। তাই তাঁকে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার বিশাল আকাশ। আকাশকে ক্যানভাস করে ছেলে আঁকবে কাব্যচিত্র। বাবার সেই স্বপ্নের ছেলে নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী।

শৈশবেই বাবার মুখে কবিতা আবৃত্তি শুনতেন। রবি ঠাকুরের কবিতা। কবিতার নাম ‘দেবতার গ্রাস’। কবিতা শুনে ছয় বছরের প্রকাশ কেঁদে বুক ভাসাল। কবিকে খুব নিষ্ঠুর মনে হলো। সমুদ্র দর্শনের আনন্দ নিয়ে রাখালকে মাসীর বুকে ফিরিয়ে দিলে কবির কি এমন ক্ষতি হতো। ছেলের এ কা- দেখেতো বাবা হেসে খুন। বললেন, খোকা তুমি কেঁদ না। কেঁদ না। এসব সত্য নয়। কল্পনা। খোকার মন কি তা বুঝে! কি সত্য আর কি কল্পনা। আবার ‘দুই বিঘে জমি’র আবৃত্তি শুনে উপেনের জন্য অনেক কষ্ট পেলেন। নিজের গাছের দুটো আম পাবারও কি বেচাার অধিকার নাই। সব দোষ চাপাতেন কবির মাথায়। কবি এত নিষ্ঠুর কেন?

এত সবের পরেও কবিতার প্রেমে পড়ে যান। কবিতাকে আপন করে ফেলেন। এছাড়া বংশ ক্রমানুসারেও তাঁর ভেতর কবিতার বীজ প্রথিত ছিল। কেননা মা ছিলেন অষ্টগ্রামের দত্ত বংশীয়। মনসামঙ্গলের আদি কবি কারাহারি দত্ত ছিলেন এ বংশের পূর্বপুরুষ। তবে মাতৃ¯েœহ কবির জীবনকে আন্দোলিত করেনি। কেননা চার বছর বয়সে কবি মাকে হারালেন। ঘরে এল নতুন মা। নতুন মা চারুবালার হাত ধরেই কবির শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। স্কুলে গিয়ে একেবারেই ভর্তি হলেন তৃতীয় শ্রেণীতে। স্কুলের নাম ‘করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইনস্টিটিউট’। স্যার ক্লাসে পড়াচ্ছেন। আর কবি ছড়া লিখছেন। স্কুল নিয়ে। কাব্য প্রতিভার এই প্রকাশ।

তবে প্রথম কবিতা প্রকাশ পায় মেট্রিক পরীক্ষার আগে। নেত্রকোনা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ নামক একটি পত্রিকায়। যার সম্পাদক ছিলেন প্রবীণ সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী। কবিতার নাম নতুন কা-ারী। নেত্রকোনার নবাগত এসডিও নুরুল ইসলাম খানকে উদ্দেশ করে লেখা।

১৯৬২ সালে কবি মেট্রিক পরীক্ষা দিলেন। দুই বিষয়ে লেটারসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হলেন। ছেলের রেজাল্ট দেখে বাবা আনন্দিত। মাথায় হাত রেখে বললেন, ‘কৃষ্ণ কৃপাহি কেবলাম।’

আইএসসিতে ভর্তি হলেন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজে। উঠলেন হিন্দু হোস্টেলে। বাড়ির চার দেয়ালের বাইরে এই প্রথম। পেয়ে গেলেন স্বাধীনতার বিশাল আকাশ। উড়ছেন মুক্ত বিহঙ্গের মতো ডানা মেলে। শুরু হলো জীবনের অনিয়ম। দ্বিতীয়বর্ষে নতুন দায়িত্ব পেলেন হোস্টেল ম্যানেজারের। এখন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হলো জুয়া খেলা। তার সাথে আবার বাজারের টাকা মারার অপরাধ। এ সবের কারণে একসময় নির্দেশ এলো হোস্টেল ছাড়ার। বাবার পরামর্শে টিসি নিয়ে চলে গেলেন নেত্রকোনায়। ভর্তি হলেন নেত্রকোনা কলেজে। আইএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডেও ১১৯ জন প্রথম বিভাগে পাস করেন। যার মধ্যে কবিও ছিলেন। আর নেত্রকোনা কলেজে তিনিই একমাত্র প্রথম বিভাগ আর্জনকারী।

বাবা খুব খুশি হলেন। এখন বাবা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ছেলেকে ডাক্তারি পড়াবেন। বাবার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। চান্স পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফার্মেসি বিভাগে। হঠাৎ শুরু হলো হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। ফিরে গেলেন নেত্রকোনায়। পরে এসে দেখেন ভর্তি লিস্ট থেকে তার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। আবার ফিরে গেলেন গ্রামে। মানুসিকভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেন। ভাবলেন আর লেখাপড়া করবেন না। কিন্তু স্কলারশিপ পাচ্ছেন মাসে ৪৫ টাকা। বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা। ভর্তি না হলে স্কলারশিপ বাতিল হবে। তাই আবার সেই নিরানন্দ নিয়ে ফিরে আসা আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হলেন। পাসকোর্সে। বিএসসিতে। তা আর শেষ করা হলো না। শেষ পর্যন্ত প্রাইভেটে বিএ পাস করেন। সে সার্টিফিকেটও আর তোলা হয়নি।

এ সময় হতাশাগ্রস্ত কবি অফুরন্ত আনন্দের অবগাহনে উন্মুখ হয়ে ওঠেন। আইএসসিতে পাওয়া বৃত্তির টাকা আর হতাশা তাঁকে নতুন পথে ঠেলে দেয়। অফুরন্ত আনন্দের তৃষ্ণা তাঁকে অস্থির করে তোলে। নিজের কাছে প্রশ্ন জাগে, আনন্দের চেয়ে বড় আরাধ্য, বড় প্রত্যাশা জীবনে আর কী হতে পারে? রবীন্দ্রনাথের নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ শেষে জেগে ওঠেন নবীন উল্লাসে। মদ্য-পদ্য-সিদ্ধি-গণিকা-জুয়া এই পঞ্চভূতের পাদপথে উৎসর্গ করেন নিজেকে। আর সেই সাথে চলে কাব্যচর্চা। জীবনটাকে বানিয়ে ফেললেন কবিতার মন্দির। কবি হয়ে উঠলেন তার পুরোহিত। জন্ম নিচ্ছে একের পর এক কবিতা। প্রকাশ হচ্ছে কোন না কোন পত্রিকায়।

২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৫। ঢাকার ‘সাপ্তাহিক জনতায়’ প্রকাশিত হল ‘কোন এক সংগ্রামীর দৃষ্টিতে’ নামক কবিতা। ঢাকা থেকে প্রকাশিত এটাই তার প্রথম কবিতা। এরপর নিজের সম্পাদনায় বের করেন ‘সূর্য ফসল’ সংকলন। কবি সিকান্দার আবু জাফর এই সংকলনের জন্য আশীর্বাণী লিখে দেন। ঐ সংকলনে কবিতার মাধ্যমে শোষক শ্রেণীর শোষণের বিরুদ্ধে মেহনতী মানুষকে ডাক দেন কবি। সংকলনের বিভিন্ন কবিতায় ফুটে ওঠে বিদ্রোহ। যা শাসক শ্রেণীর পছন্দের বাইরে চলে যায়। শাসক শ্রেণীর রক্ত চক্ষু পড়ে কবির ওপর। ফলে কবির নামে মামলা হলো। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো।

পরে অবশ্য মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা খুরশেদ চৌধুরী ও মৌলানা ফজলুর রহমানের মধ্যস্থতায় মামলা প্রত্যাহার হলো। এরপরও মামলা তার পিছু ছাড়েনি। ডাকাতির মামলায় আসামি করা হলো। আবারও গ্রেফতারি পরোয়ানা। শুরু হলো ফেরারী জীবন। কখনও গৌরীপুর, শ্যামপুর, কখনও জারিয়া-ঝাঞ্ছাইল। এরপর চলে আসেন ঢাকায়। উঠলেন বন্ধু নাট্যকার মামুনুর রশীদের সাথে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এর হোস্টেলে। কি করবেন। কবিতার চাষী। বসে থাকতে পারছেন না। কাজ শুরু করলেন আব্দুল্লাহ্ আবু সায়ীদের ‘কণ্ঠস্বর’ পত্রিকায়। এ সময় কবি বন্ধু আবুল হাসান তাঁর সর্বক্ষণ সঙ্গী হয়ে ওঠেন। এখন ভালই কাটছে সময়।

কবিতার জন্য মামলা খেলেন। সে কবিতাকে আর সরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। তাই মনস্থ করলেন কবিতাকে নিয়েই সংসার করবেন। জীবনে মরণে কবিতাই হবে তার সঙ্গী। এতকিছুর মধ্যেও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারার আক্ষেপ দূর হয়নি। সেই বেদনা দূর করতে এ সময় ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলায় অনার্সে। সহপাঠি হিসেবে পেলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে।

এক সময় তুলে নেয়া হলো তার নামের মামলা। এখন তাঁর ধ্যানে জ্ঞানে শুধু কবিতা আর কবিতা। কবিতার সেই প্রথিত বীজ ডাল-পালা মেলে বটবৃক্ষে পরিণিত হয়েছে। সাক্ষাৎ পেলেন কবি শামসুর রাহমান, কবি আল মাহমুদ, কবি সিকান্দার আবু জাফরসহ বাংলা কবিতার প্রধান কবিদের। তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় আসেন রুশ কবি মিখাইল লুকোনিন। লেখক সংঘের এক অনুষ্ঠানে লুকোনিন আবৃত্তি করেন নিজ কবিতা ‘‘ঝষববঢ় ‘ঙ ঝষববঢ়” এবং “ঞযব ঈযধৎপড়ধষ ঋৎড়হঃরবৎ” কবিতার অংশবিশেষ। এ কবিতা শুনে কবি মুগ্ধ হলেন। লুকোনিনের সাহিত্য ও দর্শনে তিনি আকৃষ্ট হলেন। সমাজ বাস্তবতাবাদী মার্কসীয় সাহিত্য দর্শনের প্রতি আস্তা সৃষ্টিতে এ রুশ কবির দ্বারা তিনি প্রভাবিত হন।

এতসব হলেও ঢাকা শহরে কবির নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা গড়ে উঠেনি। অনেকটা ঠিকানাহীন জীবন। কবিতা লেখেন, ঘুরে বেড়ান, আড্ডা দেন। অর্থনৈতিক সমস্য লাঘবে প্রকাশকদের বইয়ের প্রুফ দেখেন। আর টাকা পেলে চলে যান ঠাঠারি বাজারে। হাক্কার জুয়ার আড্ডায়। এ রকম চলছে জীবন। তবে অল্প দিনেই তার কবি পরিচিত সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৮ সালের ২৯ জুলাই হোটেল পূর্বাণীতে তরুণ কবিদের কবিতা পাঠের আসর বসে। এখানে কবিতা পাঠের সুযোগ পান। পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার পায় এ কবিতা পাঠের আসর। এ সুযোগ পাঠক ও কবি মহলে পরিচিত হয়ে উঠেন নির্মলেন্দু গুন।

ঢাকায় তাঁর কবিতা একের পর এক প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি লিখছেন সংবাদ, আজাদ, পাক জমহুরিয়াত, জোনাকী প্রভৃতিতে। প্রকাশিত হয় তাঁর কলাম ‘ফসল বিনাসী হাওয়া’। ৬৯-এর প্রথম দিকে রেডিওতে কবিতা পাঠের আসরে ডাক পান।

২১ জুলাই ১৯৭০। তরুণ কবিদের কবিতা পাঠের আসরে পাঠ করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘হুলিয়া’। ‘হুলিয়া’ তাঁকে কবি খ্যাতি এনে দেয়। বড় বড় লেখকরা তাঁর কবিতার প্রশংসা করেন। সমালোচনা লেখেন আবদুল গাফফার চৌধুরী ‘তৃতীয় মত’ কলামে। খান ব্রাদার্স বের করে তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ’ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’। পশ্চিম বঙ্গের শক্তিমান লেখক শক্তি চট্টোপাধ্যায় ‘পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থে’ ছাপেন ‘হুলিয়া’ কবিতাটি। এরপর আর থেমে থাকার সময় কই কবির? প্রেম ও গণমানুষকে তাঁর কবিতার বিষয়বস্তুতে পরিণত করে লিখে চলছেন কবিতা, অমীমাংসিত রমণী, চৈত্রের ভালোবাসা, তার আগে চাই সমাজতন্ত্রসহ আরও অনেক কবিতার বই।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় আকাশবাণী ভবনে ‘বেতার জগত’ পত্রিকার সম্পাদক ডাঃ গাঙ্গুলীর সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় কবিতা ছিল তার হাতিয়ার। কবিতাকে তিনি মূলত অস্ত্রে পরিণত করেন। তাঁর নিজের ভাষায় ‘কবিতা আমার নেশা, পেশা, প্রতিশোধ গ্রহণের হিরন্ময় হাতিয়ার।’

তাই তাঁর কবিতার মাঝে ছিল দেশপ্রেম, সংগ্রাম, রাজনীতি। যা মানুষকে উজ্জীবিত করেছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সমাজ জীবনের উজ্জীবন ও সাধারণ জীবনযাত্রাকে আবদ্ধ করে রেখেছেন কবিতার ফ্রেমে।

মার্কিন বীট বংশীয় কবিসম্রাট কবি এ্যালেন গিন্সবার্গের সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল তাঁর। এ্যালেন গিন্সবার্গ ছিলেন বাংলাদেশের পরম সুহৃদ। যিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ কবিতা লিখে তাতে সুরারোপ করে গেয়ে বেড়িয়েছেন মিছিলে মিছিলে। প্রচারণা চালিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে।

এক সময় ভাবতেন বড় হয়ে সন্ন্যাসী হবেন। তাঁর জ্যাঠামশাই সন্ন্যাসব্রত নিয়েছিলেন। জ্যাঠামশাই কেন সন্ন্যাসী হয়েছিলেন! খুব জানার ইচ্ছে ছিল। তবে তা জানতে পারেননি। নির্মলেন্দু গুনও সন্ন্যাসী হয়েছেন। তবে কাব্যকে আশ্রয় করে। কবিতার প্রেরণায় ছুটেছেন আঁকাবাঁকা মেঠোপথে। কবিতার ভাষায় নিজেকে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী রূপে। পরম ক্ষমতার প্রতি ভক্তি রেখে ছুটেছেন কাব্যপথের প্রান্তরে। তাই লিখতে পেরেছেন ‘ধাবমান হরিণের দুত্যি’ ও ‘অগ্নি সঙ্গমের’ মতো কাব্য। যা মানুষের চিন্তার খোরাক যোগায়। এভাবেই প্রতিষ্ঠা করেছেন কাব্য দর্শন। শৈশবে যে কবির কবিতা শুনে নিষ্ঠুর মনে হতো। আজ তার মতোই শ্বেত শুভ্র চুল ও দাড়ি তার শোভা পাচ্ছে। তার জীবনের প্রতিচ্ছবি এখন নিজের জীবনে দেখছেন।

স্বাধীনতার পূর্বপর্যন্ত চাকরি করেছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’, আহমদ রফিক সম্পাদিত ‘নাগরিক’, ‘পরিক্রম’ ও ‘জোনাকী’ পত্রিকায়। এরপর আবিদুর রহমান সম্পাদিত ইংরেজি পত্রিকা ‘পিপল্’ এ কাজ নেন সাব-এডিটর হিসেবে। স্বাধীনতার পর কাজ করেছেন আল-মাহমুদ সম্পাদিত ‘গণকণ্ঠ’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে। এরপর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন ‘সংবাদ’ ও ‘দৈনিক বাংলার বাণী’-তে। এখান থেকে চাকরি নেন ‘বাংলাবাজার’ পত্রিকায় সাহিত্য ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। এরপর ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন ‘দৈনিক আজকের আওয়াজ’ নামে একটি পত্রিকায়। যেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর কোথাও চাকরি করেননি। অসুস্থতা কবিকে অনেকটা দুর্বল করে দিয়েছে। তবুও কবিতাকে নিয়েই তার ঘর সংসার। সময় কাটাচ্ছেন কবিতার সঙ্গেই।

কবি তার গ্রাম কাশতলায় ‘কাশবন বিদ্যা নিকেতন’ নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। কবির ঠাকুরদা রামসুন্দর-এর নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘রামসুন্দর পাঠাগার’।

কবি যেমন কবিতাকে ভালোবেসে সব ছেড়ে জীবন যৌবন সব কবিতার পেছনেই উৎসর্গ করেছেন। কবিতাও তাকে এনে দিয়েছে যশ-খ্যাতি। শুধু তাই নয় এনে দিয়েছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, কবি আহসান হাবীব সাহিত্য পুরস্কার। ২১ জুন ছিল কবির জন্মদিন। কামনা করছি তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: