কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সর্বমানুষের মুক্তিচেতনার কবি

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • শিমুল সালাহ্উদ্দিন

(শেষাংশ)

স্বৈরাচারের কাছ থেকে পুরস্কার নিলেন! মানে ঐ পুরস্কার নিয়েতো কিছু ঘটনাবলী ছিল। মানে সংক্ষেপে যদি বলা যায়।

মোহাম্মদ রফিক : না আমি এটা খুব বিব্রতবোধ করি। আমি লোক পরম্পরায় শুনেছি। এরশাদের বা এরশাদের লোকজনের জন্যই আমাকে পরপর তিন বছর পুরস্কার দেয়া হয়নি।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এবং বাংলা একাডেমী পুরস্কার তিন বছর বন্ধ ছিল।

মোহাম্মদ রফিক : না এক বছর বন্ধ ছিল। এবং সে বছর লোক যে ছিল, মঞ্জুর-এ-মওলা, সে বলেছিল, লোক পাওয়া গেল না বলে দিলাম না। যাই হোক কিন্তু বিষয়টা হচ্ছে সে চেষ্টা করেও আমাকে দিতে পারেনি। ইমোশনালি প্রবলেমটা আমাকে বলতেও পারেনি। পরে বলেছে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : আচ্ছা।

মোহাম্মদ রফিক : তারপরে যে ঘটনা ঘটলো, আমি যায় যায় দিনে লেখালেখি করলাম যে আমি চাই না যে, এটা নিয়ে এবং লিখলাম আমার নাম যেন আর না আসে প্রস্তাবে। চিঠি লিখলাম। তো পরের বছর আবার পুরস্কার দেয়ার সময় আসলো। আমি তখন অনেক সময় নিজের বই নিজে বিক্রি করতাম। হঠাৎ দেখি ঐ দিন বিকেল বেলা আমার টেবিলের আশপাশে তখন কবিরা ঘুরঘুর করছে। নূরুল হুদারা। আবার আবু হেনা মোস্তফা কামাল। আমার বন্ধু বান্ধব চলে গেছে, আবু হেনা মোস্তফা কামাল খুব বড় রোল প্লে- করেছে। তিনি আবার আমার স্যার এক সময়কার রাজশাহীতে। যাই হোক তিনিও খুব চাইলেন আমি নিই। আমার সম্পর্ক আমার সম্পর্ক তখন উনার সাথে খুব একটা ভাল ছিল না। তিনি এটা তাঁর বক্তৃতায়ই বলেছেন। তখন পরবর্তী কালে আবার ওর সাথে আমার সম্পর্ক ভাল হয়ে যায়। তো ঐ দিন দেখি কি হঠাৎ বিকেলের দিকে, নুরুল হুদা, শওকত ওসমান, কবীর চৌধুরী ও আবুল হোসেন আমার টেবিলের চারদিকে ঘুর ঘুর করছে। আমি বুঝতে পারলাম না যে কি হচ্ছে। তো কে জানি, এদের মধ্যে একজন এসে আমাকে বললো যে আমরা এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি এবং আমরা বলেছি যে তুমি যদি পুরস্কার না নাও তাহলে আমরা অপমানিত হবো। আমরা কেউ এই কমিটিতে থাকবো না। তুমি এটাকে নাও।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এটাকে রিজেক্ট করো না।

মোহাম্মদ রফিক : শওকত ওসমান আমার নিজের শিক্ষক। দীর্ঘদিনের জন্য।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : একেবারে সরাসরি শিক্ষক।

মোহাম্মদ রফিক : তারপর আবুল হোসেন সাহেব। আমি দেখলাম যে ওদের অপমান করে আমার কোন লাভ নেই। এর পরে নুরুল হুদা আসলো, এসে বললো, আপনি চলেন আমরা কোথাও যাব চা খেতে। এই আর কি।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এবং হুমায়ুন আজাদের সাথে পাওয়া এতে বোধহয় আপনার খুব একটা তৃপ্তি কাজ করে না।

মোহাম্মদ রফিক : না খুব একটা যে করেছে, তা না। কারণ সেটা আমি বলবো না। হুমায়ুনের লেখাটেখা যাই হোক। হুমায়ুনের মানে সব কিছু মিলিয়ে নিয়ে আমি খুব একটা সন্তুষ্ট নই। যদিও হুমায়ুনের উপর আমি লেখাটেখা লিখেছি। মানে এখনও লিখবো। তবে হুমায়ুনের কিছু ব্যাপারে আমার আপত্তিও আছে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : আপত্তিও আছে!

মোহাম্মদ রফিক : এবং হুমায়ুনের সাথে আমার ছাত্র অবস্থায় যোগাযোগ হয়নি। যদিও আমি যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ও তখন প্রথম বর্ষ কিন্তু ও যখন চিটগং বিশ্ববিদ্যালয়ে তখনই সে প্রথম আমার বাড়িতে আসে। এবং আমরা একটা চট্টগ্রামে একটা হোটেলের ছাদে একটা আড্ডায় বসতাম।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এবং সেখানে অনেক গল্প টল্প হয়েছে , পানাহার, খাওয়া দাওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ রফিক : এবং অনুপম সেন অনেক দিল দরিয়ার মানুষ, সে সবাইকে খাওয়াতো টাওয়াতো। সে ঢাকায় এসে এটা নিয়ে কিছু কটূক্তিপূর্ণ কথা ছড়ায়। তারপরে আমি যখন কলকাতা গেলাম, তখন দেখলাম যে ওর একটা কবিতা অনূদিত হয়েছে। তা আমি বইমেলায় ওর সঙ্গে দেখা হওয়ার পরে বললাম। তো ও এমন একটা ভাব নিল যে, সে খুব বড় এক কবি তা সে আগে থেকেই জানতো এবং আমরা কেন এটা বুঝিনি!

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : হা হা হা।

মোহাম্মদ রফিক : আমি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় খুব অবাক হয়ে গেলাম। যে একজন লোকের একটা কবিতা ছাপা হয়েছে ভাল কথা, অনুবাদে, কিন্তু সেটা থেকেতো এত ইয়ে করার মানে গর্ববোধ করার কারণ নেই। আর আমি বাংলা একাডেমির পুরস্কারের ব্যাপারে, আসলে আমি পুরস্কার, টুরস্কারকে অত বড় ভাবে দেখি না। আগের বছর যেদিন পুরস্কার ঘোষণা হবে, হল না। আর কি সবার প্রতিক্রিয়া! আমি তখনও বই বিক্রি করি আমার টেবিলে। সে (হুমায়ুন আজাদ) এসে আমার টেবিলে, তখন বাংলা একাডেমিতে নাসির আলি মামুনের ছবির প্রদর্শনী চলছে, লেখকদের পোট্রেইট নিয়ে প্রদর্শনী। সে এসে আমাকে প্রস্তাব দিল, ‘চলেন সব নামিয়ে ফেলি, ভেঙ্গে ফেলি। হ্যাঁ, কত বড় সাহস, এই লোক বললো পুরস্কার দেবে, বলেছে দেবে, এখন বলছে দেবে না। নামিয়ে ফেলি চলেন।’ আমিতো অবাক। আমি বললাম, সাবধান। মামুন না আপনারও ছবি তুলেছে, আর আপনি ওর প্রদর্শনী নামিয়ে ফেলবেন! আশ্চর্য। সুতরাং ওর কিছু ব্যাপারে আমার আপত্তি ছিল। এবং পরবর্তী কালে ওর কবিতার যে ভূমিকা তাও ঠিক কবিসুলভ বা সুবিবেচনা প্রসূত আমার মনে হয় না।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : একুশে পদক পেলেন ২০১০ সালে। আপনিতো বললেনই স্যার পদক বা পুরস্কারের ব্যাপারে। পুরস্কারে কারও লেখার কোন মূল্যায়ন হয় না। কিন্তু স্যার ঐ যে টিকেটের দাম অর্ধেক রাখা, অজস্র কবিতাপাঠকের ভালোবাসা, শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা, ঐ রকম পুরস্কার তো স্যার প্রচুর পেয়েছেন। মানুষের ভালোবাসার পুরস্কার।

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ মানুষের ভালোবাসার পুরস্কার। রাইট।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : সেটার তো মূল্য দেন স্যার?

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ অবশ্যই। মানুষের ভালবাসাকে আমি মূল্য অতি অবশ্যই দেই।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : মানে যে কবির জনম আপনি কাটালেন স্যার, সেই কবি জনমের কোন অতৃপ্তি কি আছে?

মোহাম্মদ রফিক : না, আমি লিখছি প্রচুর। এমন আরেকটা কথা আমি তোমাকে বলতে চাই। একজন কবি সবসময় তাঁর সমস্ত লিখার জন্য জনগণের কাছে পরিচিত হয় না। যেমন, নজরুল, কাজী নজরুল ইসলামকেই ধরো, আমরা তাঁকে চিনি বিদ্রোহী কবিতার জন্য।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : জ্বি স্যার

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ সবাই কিন্তু এটাই কি তাঁর পরিচয়?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : তাঁর আরও বহু ভাল লিখা আছে।

মোহাম্মদ রফিক : জীবনানন্দ দাশ বনলতা সেন বা রূপসী বাংলা। কিন্তু এটাই কি তাঁর পরিচয়?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : কিন্তু এটা গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ রফিক : এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার বাহন। এখন খোলা কবিতা লোকের ভাল লেগেছিল, এটা আমার নিজের প্রাপ্য। কিন্তু মানে আমি নিজেও খোলা কবিতার সাথে খুব উৎসাহী ছিলাম না। আমি মনে করতাম যে, এটা আমার রাজনৈতিক কর্মেরই একটা অংশ। এটা ঠিক ইয়ে না। মানে কবিতা হিসেবে খুব উচ্চস্তরের নয়। এটা আমাকে প্রথম ইয়ে করলো মঞ্জুর-এ-মওলা। সে আমাকে একদিন কথায় কথায় বললো, এটা ঠিক না। এটা কবিতা হিসেবেও ভাল। তারপর অরুণ সেন, তাঁর প্রতিক্ষণ থেকে নির্বাচিত কবিতায় পুরো কবিতাটা ঢুকিয়ে দিল। আমি দেখে অবাক হয়ে বললাম যে, সে বললো ‘হ্যাঁ’। তারপর আমি আরও অবাক হলাম। আইওয়া ইউনিভার্সিটির একটা ওয়েব সাইট। ওখানে গেলে তুমি দেখবে, ওখানে ও পুরো কবিতাটির ইংরেজী অনুবাদ করেছে। এবং ওরা আমাকে বার বার বলেছে যে, তুমি এই প্রচারে এত বিমুখ কেন?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : আপনি একটু বেশিই প্রচারমাধ্যম অবান্ধব স্যার।

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ এত বিমুখ কেন? এটা তুমি প্রচার করে অনুবাদ করে করে অ্যামেরিকানদের বিস্মিত কর না কেন?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : তো আপনার মধ্যে এই প্রচার বিমুখতাটা আছে।

মোহাম্মদ রফিক : না আমি মনে করি কবির প্রচার কবিতা দিয়ে হোক। তুমি আজকে ভাবো যে, রবীন্দ্রনাথ, মাইকেল, জীবনানন্দ দাশ, কতদিন টেলিভিশনে এসেছে?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : হা হা হা।

মোহাম্মদ রফিক : এবং তোমাকে আমি একটা কথা বলি, তুমি যে সাহিত্যের জগতের অবক্ষয়ের কথা বললে এর মূল কারণ হচ্ছে মিডিয়া। তুমি একটা কবিতা, ধরো দীর্ঘকবিতা লিখলে, একটা গল্পের মত তিন চার পৃষ্ঠা কবিতা লিখো, কোন দৈনিক পত্রিকা এটা ছাপবে?

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : ছাপা সম্ভব নাতো। তারতো সংবাদ দরকার। একুশ লাইনের বাইরে কবিতা ছাপা যায় না স্যার।

মোহাম্মদ রফিক : তাহলে এরাই মূল ক্ষতি করছে। আমি মনে করি এখন কবিদের প্রথম উচিত তোমাদের মত তরুণ কবিদের, এইসব পত্রিকা টত্রিকাতে লিখা বন্ধ করে দেয়া। নিজেদের প্রকাশ মাধ্যম তৈরি করা। তুমি পাঁচ টাকা পারো, দশটাকায় পারো বিকল্প মাধ্যম তৈরি করো। আমরা তখন সায়ীদ সাহেবের সেই পত্রিকায় অনেকেই লিখেছিলাম। উনার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও তিনি কিন্তু আমাদের একত্রিত করেছেন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : আমি এই কথাটাই বলছিলাম।

মোহাম্মদ রফিক : সে যে আমাদের খুব একটা দিক নির্দেশনা দিয়েছে তা না। কারণ সে সব সময় আমাকে বলতো, তোমার তিনি হচ্ছেন পুরোপুরি রোম্যান্টিক। আর আমি হচ্ছি সেখানে ধ্রুপদী সাহিত্যের প্রতি নিবেদিত। পুরো এবং তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে আমাকে একি কথা বলেছেন, যে তোমার সাথে আমার ইয়ে নেই। আবার সে কিন্তু আমার ক্লাসিক চর্চার প্রবন্ধ ছেপে কোলকাতায় নিয়ে গেছে পত্রিকা। এটাই হচ্ছে তাঁর গুণ। এবং আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছি, মুখোমুখি বলেছিও এসব। তবে এই ব্যাপারটা ছিল, তিনি কিন্তু সবাইকে এক করেছিলেন।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এবং অন্য আরেকজনের মতামত সেটাকে তিনি গুরুত্ব দিতে জানেন।

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ জানেন তারপর সে যখন রাজশাহী কলেজ ছাড়তে বাধ্য হল, তারপর তার সাথে আমার রাজশাহী রেলে দেখা। তিনি দেখে আমাকে বললেন, তুমিই না সেই লোক যে বোদলেয়ার পড়েছে? সে কিন্তু ঐ বিষয়টা আর তুললো না। সে তখন, তুমি চিন্তা কর, এটা কিন্তু তাঁর বিশাল হৃদয়ের পরিচয়।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : স্যার সিকান্দার আবু জাফরের কথাতো বললেন না।

মোহাম্মদ রফিক : সিকান্দার আবু জাফরের সাথে আমার, সিকান্দার ভাই তখন, মানে আমরা যখন এসছি তখন তাঁর প্রায় শেষ দিনগুলি চলছে। কিন্তু ওতো অন্যের কথাটা, এই কথাটা বলে সবসময়, তাই আমি বলছি, হাসান আজিজুল হক বলে, শকুন গল্পটা সমকালে ছাপা হয়েছিল। এবং এটা খুব আলোচিত তখন। হাসান তখন কলেজের মাষ্টার। সে উৎসাহিত হয়ে আরেকটা গল্প লিখে পাঠালো। সিকান্দার আবু জাফর ঐ গল্পটা ছাপলেন না। এবং হাসান তখন দুঃখে কষ্টে ছিঁড়ে পানিতে ভাসিয়ে দিল। এবং হাসান বলেছিল, আমার এই গল্প যদি ছাপানো হত তবে আমার এই উন্নতি আর হত না। এই হচ্ছে সিকানদার আবু জাফর।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : গ্রেট

মোহাম্মদ রফিক : আহসান হাবীবের সাথে সম্পাদক হিসেবে আমার কোন যোগাযোগ নেই। ওঁর সম্পর্কে বরং নির্মলেন্দু গুণরাই ভাল বলতে পারবেন। আবুল হাসান থাকলে বলতে পারতো। কারণ ওদের লিখাই বেশি ছাপা হয়েছে। আমি দৈনিক পত্রিকায় প্রথম লিখেছি সংবাদে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : এবং সংবাদেই সবচেয়ে বেশি লিখেছেন।

মোহাম্মদ রফিক : এর কারণ হচ্ছে আবুল হাসনাত। তারপরে তুমি ধরো, আমি বহুদিন দৈনিক পত্রিকায় লিখিনি। কারণ মিডিয়ার প্রতি আমার আস্থা না থাকা। তারপরে ভোরের কাগজের জন্যে লিখেছি। আমার একটা লিখা নিয়ে ভোরের কাগজ ছাপালো। তারপর ভোরের কাগজের সাথে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেল। এবং ভোরের কাগজের সাথে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ছিল এবং ঐ সময় সাবের (মইনুল আহসান) ও জাফর (আহমেদ রাশেদ) থাকা পর্যন্ত। তারপর কিছুদিন প্রথম আলোতেও লিখেছি। কিন্তু সংবাদের সাথে যোগাযোগ থাকতো আকারে ইঙ্গিতে ছিল। মানে হাসনাত থাকতে যেরকম ছিল ওরকম না।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : স্যার আপনার এখন যে জীবন যাপন, আপনি প্রচণ্ড উজ্জীবনের মধ্যে আছেন। এখন আপনার যাপনটা কেমন স্যার? আপনি এখন সারাদিন একাই থাকেন!

মোহাম্মদ রফিক : আমি প্রথম রাত থেকে শুরু করি, রাত নয়টায় বিছানায় যাই, ভোর সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটার মধ্যে উঠি। উঠে এক ঘণ্টার মধ্যে মুখটুখ ঠিক করা বা এই ঘর সব ঠিকঠাক করে আবার, ঔষধ পত্র সব গোছগাছ করে, আমি ঠিক পাঁচটার সময় বই খাতা নিয়ে লিখতে বসে যাই। এবং একভাবে আমি সাড়ে সাতটা পর্যন্ত লিখি। তারপর আড়মোড়াটোড়া ভেঙ্গে পৌনে আটটায় উঠে যাই। আটটায় নাস্তা করি। নাস্তা করে একটু রেস্ট টেস্ট নিয়ে তারপর হাঁটতে যাই। হেঁটে ফিরে আসি, এসে স্নান করি, স্নান করে ধরো একটু হাল্কা নাস্তাটাস্তা করি আবার। করে আবার একটু বই পত্রটত্র ই করি, করে দৈনিক কাগজটা দেখি, দেখে, তারপর আর সারাদিন ঐভাবে কাটাই, বসে থাকি। তারপরে যদি ইচ্ছে করে লিখি মানে লিখাটা এখন আমার মূল কাজ। তাগিদ বোধ করলাম তো লিখতে বসে গেলাম। এই আর কি, সন্ধ্যার পর আর সেভাবে কাজ করতে চাই না। সন্ধ্যার পর আমি বসে থাকি।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : আমরাতো স্যার অনেক কথা বার্তা বললাম। মোটামুটি যে জায়গাটা স্যার বাদ রইলো, এই সময়ে যারা লিখছে স্যার, তাদের যেসব প্রবণতাগুলো আপনার ভালো লাগে, সেটা কিভাবে চিহ্নিত করেন?

মোহাম্মদ রফিক : কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, যে প্রবণতাটা আমার ভালো লাগলে, মানে আমি অবশ্যই চাই, মানে আমার স্বপ্ন আরেকজনের ভেতর সফল হচ্ছে। এবং হ্যাঁ সেটা আমি চাই। কিন্তু আমি মনে করি না যে, এটা ঠিক দৃষ্টি। আমার স্বপ্নতো আরেকজন পূরণ করবে না। তাকে তার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। সুতরাং তাকে তার মত করে লিখতে হবে। তবে আমি যেন, এটা অবশ্যই ইয়ে করব যে, তার লিখা পড়ে যেন মনে হয় যে সে বিষয়টা জানে। এটাই তার ভুবন। এবং এই ভুবনটাকে সে তুলে আনছে। এবং এই ভুবনটা তাকে এক জায়গায় পৌঁছে দেবে।

শিমুল সালাহ্উদ্দিন : অনেক ধন্যবাদ স্যার।

মোহাম্মদ রফিক : হ্যাঁ এটাই হচ্ছে আমার মূল কথা এবং আমি তোমাকে আবারও বলি যে, আমি মনে করি, কাব্যের মুক্তি এবং মানুষের মুক্তি দুটো এক কথা নয়। সর্বমানুষের মুক্তি না হলে কাব্যেরও মুক্তি হবে না। সুতরাং ঐ চিন্তা আমাদের আপাতত করে যাওয়া, সাধনা করে যাওয়া। মানুষকে উজ্জীবিত করে যাওয়া। যদি কোনদিন সেই বিস্ময়কর ঘটনাটা ঘটে, হয়তো আরেকজন বঙ্গবন্ধু, হয়তো আরেকজনের নেতৃত্বের মধ্যে, বঙ্গবন্ধুর মত সেই ঘটবে। সেই দিনের আশায় বসে দিন গুনছি।

{আলাপ শেষের সময় ৩১ মে, ২০১৫, রবিবার, দুপুর ১.১৫}

(শ্রুতিলিখন সহায়তা : জব্বার আল নাঈম ও আমেনা তাওসিরাত)

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: