মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বুনোহাঁস

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • মাহবুব রেজা

বুনোহাঁস। এই নামটা শুনলেই পাখির জন্য মনটা উতলা হয়ে যায়। এক নামে সবাই বুনোহাঁসকে চেনে। কেউ কেউ অবশ্য এর নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হাঁস আবার বুনো হয় কেমন করে! প্রশ্নের বিপরীতে উত্তরও রয়েছে, যে হাঁসের মধ্যে বুনো স্বভাব রয়েছে তার নামই তো বুনোহাঁসই হবে। তবে এর অন্য নামও আছে- চখাচখি, চখা, খয়রা-চখাচখি। চীন ও মঙ্গোলিয়ার তুন্দ্রা অঞ্চলে জন্ম নেয়া এই বুনোহাঁস কিংবা চকাচকি দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পলি দিয়ে গড়া সবুজ এই দেশে আসে। বুনোহাঁসের ব্যাপারে আশ্চর্য হওয়ার মতো তথ্য হলো- এই পাখি আমাদের এই অঞ্চলটিকে চেনে লক্ষ বছর ধরে। ভাবা যায়! চখাচখির দল জন্মের দুই মাস পর চীন ও মঙ্গোলিয়া থেকে কিভাবে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দীর্ঘ পথ উজিয়ে বাংলাদেশে আসে তা যে কোন মানুষকে বিস্মিত করবে। এটা ফিকশনকেও হার মানায়। “নবীন চকাচকির দল সারি বেঁধে ‘উরুমসি’ পর্বতশ্রেণীর উপর দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে উড়ে চলল। চলল দক্ষিণে। দেখে মনেই হয় না, জীবনে এই প্রথম আকাশে উড়ছে এরা। কখন যে মঙ্গোলিয়া-চীন সীমান্ত পার হয়ে এসেছে, সে খবর চকাচকির জানা নাই। দেশের সীমানা পেরিয়ে যেতে এদের লাইনে দাঁড়াতে হয় না। পাখির জগতে দেশ বলে কিছু নেই। আছে মহাদেশ, মহাসাগর, মরুভূমি, বনভূমি, মালভূমি, প্রান্তর, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, হ্রদ এসব। চকাচকির মাথায় আঁকা মানচিত্রে উভস হ্রদ, উরুমসি পর্বত, কালি-গন্ধকি গিরিখাত, তিস্তা নদ, হাকালুকি হাওড়, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকা ইত্যাদির নিখুঁত ছাপ আছে। সে মানচিত্রে মঙ্গোলিয়া-চীন, চীন-ভারত কিংবা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের কোন চিহ্ন নেই।”

সময়ের আবর্তে বুনোহাঁসদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। মানুষের আগ্রাসী মনোভাব বুনোহাঁসদের সতর্ক করে দিয়েছে। শিকার হওয়ার ভয়ে তারা এখন বেছে নিচ্ছে অধিকতর নিরাপদ আশ্রয়। হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ থেকে কষ্ট করে এ দেশে এসে নির্মম মৃত্যু কেই-বা আশা করে? বুনো স্বভাবের মানুষদের কারণে এখন আর আগের মতো বুনোহাঁসদের দেখা মেলে না। ক্রমে কমে যাচ্ছে তাদের সংখ্যা।

বাঙালী জীবনে এক সময় বুনোহাঁস বেশ প্রভাব বিস্তার করেছিল। প্রকৃতিতেও বুনোহাঁস রেখেছিল তার সৌন্দর্যের হাতছানি। এখন বুনোহাঁসের দেখা মেলে কখনও-সখনও। দৈবাৎ।

প্রকৃতিপ্রেমীরা পাখিদের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করে তুলছে। এতে কাজ হচ্ছে কী হচ্ছে না বোঝা না গেলেও পাখিপ্রেমীরা হাল ছেড়ে দেননি। তারা কোনভাবেই মানতে রাজি নন বুনোহাঁসেরা আমাদের থেকে অমন করে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: