কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেম, বিয়ে

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

প্রেম স্বর্গীয়, প্রেম মানে না জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, মানে না হিংসা-বিদ্বেষ, যুদ্ধ-বিগ্রহ। যত প্রত্রিকূলতাই আসুন না কেন, প্রেম টিকে থাকে স্বমহিমায়, যুগে যুগে-কালে কালে। একদিকে মার্কিন বাহিনীর গোলা, অন্যদিকে ইরাকী গেরিলাদের চোরাগোপ্তা হামলা যে সংঘাতময় দৃশ্যপটের সৃষ্টি করে, তাও যেন মিথ্যা হয়ে যায় মানব-মানবীয় শাশ্বত প্রেমের কাছে।

বাগদাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে প্রথম দেখা ইরাকী তরুণী ডাক্তার ইহদা এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ফার্স্ট আর্মড ডিভিশনের সার্জেন্ট সিয়েন ব্ল্যাকওয়েলের। দেখা থেকে জানাশোনা, তারপর প্রেম। কিন্তু বাদ সাধে ধর্ম। প্রেমিকাকে পেতে নিজের খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করে ব্ল্যাকওয়েল গ্রহণ করেন ইসলাম ধর্ম।

ফলে ইহদা এবং ব্ল্যাকওয়েলের মাঝে আর কোন বাধা থাকল না। গত ১৭ আগস্ট তারা বিয়ে করেন।

শত্রুর সঙ্গে ‘ভালবাসা, শত্রুর সঙ্গে সংসার’! বিষয়টিকে যে সহজভাবে নেয়া হবে না, ইহদা এবং ব্ল্যাকওয়েল আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন। তাই নিজেদের বিয়ের কথাটি তারা গোপন রেখেছেন কিছুদিন। কিন্তু বেশিদিন গোপন খাকেনি বিষয়টি। আর যখন প্রকাশ পেয়ে যায়, তখনই নিজ নিজ পক্ষের রোষে পড়েন দু’জনই। সার্জেন্ট ব্ল্যাকওয়েলকে তার নববধূ ইহদার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ বন্ধ করে দেয় বাগদাদে মার্কিন সেনা কর্তৃপক্ষ। সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে ব্ল্যাকওয়েলের বিরুদ্ধে। সেনা কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখেছে, দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে প্রেম এবং বিয়ে করার শাস্তিটা কী হতে পারে। ব্ল্যাকওয়েল কোর্ট মার্শালে বিচার এবং চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা করছিলেন। কিন্তু ব্ল্যাকওয়েলেকে অবাক করে দিয়ে মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা তাকে কোর্ট মার্শালে বিচার থেকে রেহাই দেন। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সেনা কর্মকর্তারা দু’জনের টেলিফোনে আলাপচারিতার সুযোগও করে দেয়। ব্ল্যাকওয়েলের আইনজীবী রিচার্ড আনভয়েদ জানান, মার্কিন সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে কোর্ট মার্শালে দাঁড়াতে হচ্ছে না। তবে তাকে চাকরিটা হারাতে হবে। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় প্রেমে পড়ার দায়ে ব্ল্যাকওয়েল অভিযুক্ত। তারা শাস্তি দেয়ার চেয়ে সেনাবাহিনীতে নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে চাইছে, যেটা হবে তার জন্য অনেক বড় একটা শাস্তি। অন্যদিকে ইহদার বিরুদ্ধেও ইরাকীদের ক্ষোভ বাড়ছে। যাদের হাতে তাদের দেশের হাজার হাজার লোকের মৃত্যু ঘটছে, যাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে তারা আজ পরাধীনÑ সেই শত্রুপক্ষের সৈন্যের সঙ্গে প্রেম-ভালবাসা, বিয়ে কোনটাকেই ভাল চোখে দেখছে না ইরাকীরা। ফলে ইহদাকেও দেশ ছাড়তে হয়েছে স্বদেশীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য। এদিকে সন্তানের জন্য প্রতীক্ষায় ছিলেন ব্ল্যাকওয়েলের মা ভিকি ম্যাককি। ব্ল্যাকওয়েলের মতো আরও এক মার্কিন কর্মকর্তা কর্পোরাল ব্রেট ডিজেলও এক ডাক্তার তরুণীর প্রেমে পড়েন। ব্ল্যাকওয়েল এবং ডিজেল একসঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বিয়ে করেন। কিন্তু ডিজেল পারিবারিক বাধাকে ডিঙ্গাতে পারেননি। মায়ের চাপে ক’দিনের মাথায় তাদের বিয়ে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু ইহদা-ব্ল্যাকওয়েল কিছুতেই দমেননি। দু’জন দু’জনকে কাছে পেতে প্রতি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু তাতেও তারা হাল ছাড়েননি। ব্ল্যাকওয়েল চাকরিচ্যুত হয়ে দেশে ফিরে গেছেন। আর স্বামীকে কাছে পেতে ইহদা চলে গেছেন ইউরোপের উদ্দেশে । সেখান থেকে মার্কিন ভিসা নিয়ে মিলিত হয়েছেন স্বামীর সঙ্গে ।

সূত্র : বিবিসি অনলাইন, এপি

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: