মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভূমিকম্প মোকাবেলাসহ ৬ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫
  • ব্যয় ২ হাজার ৩ কোটি টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঢাকা ও সিলেটে ভূমিকম্পের দুর্যোগ সহনশীল প্রকল্পসহ ৬ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিল থেকে ৬৫২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১ হাজার ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ সফিকুল আজম, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা সচিব কানিজ ফাতেমা এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর অন্যতম বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও দেশের অধিকাংশ এলাকা অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে শহর এলাকায় সম্ভাব্য ভূমিকম্পণের মতো ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সরকারী সংস্থাসমূহের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরী। এ প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে বিশ্বব্যাংক আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে ২টি পর্যায়ে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম পর্যায়ে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পটি অনুমোদিত হলো। ভূমিকম্প দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে এই প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৩২ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মন্ত্রী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন যে, এখন থেকে যে সংস্থা রাস্তা তৈরি করবে সেখানে যদি লেভেল ক্রসিং পড়ে সেটি ভালভাবে তৈরি করবে ওই সংস্থা। সেই সঙ্গে লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন রাস্তা নির্মাণের সময় এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, শীঘ্রই রোহিঙ্গা শুমারি শুরু হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত এ জরিপের মাধ্যমে দেশে কতজন রোহিঙ্গা আছে তার সঠিক তথ্য বের করে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প, এর ব্যয় ১ হাজার ৩৮১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৪৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন, এর ব্যয় ৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সড়কসমূহের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোল্ড রি-সাইক্লিং প্লান্ট ও ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ প্রকল্প, এর ব্যয় ৫১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সিলেট অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প, ব্যয় ৭৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। কক্সবাজার জেলাধীন ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারসমূহের পুনর্বাসন প্রকল্প, এর ব্যয় ২৫৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলায় সাঙ্গু ও চাঁদখালী নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, এর ব্যয় ১৩৮ কোটি ১ লাখ টাকা।

ঢাকা দক্ষিণের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত প্রকল্পের বিস্তারিত হচ্ছে, রাজধানীতে পরিকল্পিত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কোল্ড রি-সাইক্লিং প্লান্ট ও ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এটি বাস্তবায়িত হলে পুরাতন নির্মাণ সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার করে প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার করা হবে। ফলে রাস্তা আর প্রতিবছর উঁচু হবে না। সড়ক সংস্কারে ব্যয় কমবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভিআইপি রোডসহ অন্যান্য রোডে যানবাহনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হচ্ছে। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার কারণে প্রতিবছরই রাস্তা মেরামত কার্যক্রম করতে হচ্ছে। ফলে রাস্তার উচ্চতা দিন দিন বাড়ছে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবন্ধতার।

এ পরিপ্রক্ষিতে প্রস্তাবিত এ প্রকল্পটির মাধ্যমে কোল্ড রি-সাইক্লিং প্লান্ট স্থাপন করা গেলে রাস্তার পুরনো ব্যবহৃত উপাদানগুলোর ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। রাস্তার উচ্চতা আর বাড়বে না। এতে রাস্তাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, রি-সাইক্লিং এবং ভারজিন কম্বিনেশন এ্যাসফল্ট মিক্সিং প্লান্ট একটি, কোল্ড মিলিং মেশিন একটি, একটি ৬০ টন ক্যাপাসিটি প্রাইম মোভার সংগ্রহ, আটটি ডাম্প ট্রাক (২০-২৫ টন ক্যাপাসিটি) ক্রয়, ৫ হাজার লিটার ক্যাপাসিটি পানির ট্যাঙ্কের স্প্রে, একটি বিটুমিন প্রেসার ডিসট্রিবিউটার ক্রয়, একটি ইন্সপেকশন ভেহিকেল (পিকআপ) ক্রয়, একটি ওয়ে ব্রিজ, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ার মেশিনসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পুরনো নির্মাণ সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার করা হবে। এর ফলে নানা সুবিধা পাওয়া যাবে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন কাজ শেষ করবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০১৫

২৬/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: