কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জিয়া ভোটারবিহীন প্রহসনমূলক নির্বাচনের প্রবর্তক

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫, ০১:০২ পি. এম.

অনলাইন ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের ৩০ মে ভোটারবিহীন হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে দেশে প্রহসনমূলক নির্বাচনের শুরু।

বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান সেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা গ্রহণ শুরু হয়। সে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়। সংবিধান ও আর্মি অ্যাক্টের বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে একাধারে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই অবৈধ ক্ষমতা বৈধকরণের প্রাথমিক চেষ্টা হিসেবে প্রথমে হ্যা, না ভোটের আয়োজন করে। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে প্রদত্ত আস্থা জ্ঞাপন ভোটের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭০ এবং অনাস্থা জ্ঞাপক ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৯৮। ভোটারবিহীন এ নির্বাচনকে দেশের প্রহসনমূলক নির্বাচনের শুরু হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর হত্যাকারী জেনারেল জিয়া নিজ ক্ষমতাকে বৈধ করার অপপ্রয়াস হিসেবে এ ভোটের আয়োজন করে। দেশ গণতান্ত্রিক ধারা থেকে বিচ্যুত হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন পূর্ববর্তী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ কর্তৃক ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন ও মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ করা হয়। নির্বাচন অফিসসহ নির্বাচনী মালামাল সংরক্ষণে ব্যবহৃত স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কৌশলগত স্থান ও নির্বাচনী এলাকার প্রবেশ পথে প্রয়োজনীয়সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়া চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী, নির্বাচনে সম্ভাব্য বিঘœ সৃষ্টিকারী ব্যক্তি, সন্ত্রাসী, চরমপন্থী, জঙ্গী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করে যাতে নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০১৫ উপলক্ষে নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগ করা হয়। নির্বাচন এলাকাসমূহের প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়।

তিনি বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‌্যাব দায়িত্ব পালন করে। নির্বাচনী এলাকায় নির্ধারিত সময়ের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। তিন সিটি কর্পোরেশনের প্রবেশ পথে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেক পোস্ট স্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০১৫ উপলক্ষে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করায় সার্বিকভাবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্যান্টনমেন্টে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, তিন সিটি কর্পোরেশনের ১৩৪টি সাধারণ ওয়ার্ডে ২ হাজার ৭০১টি ভোট কেন্দ্রের জন্য ৫২ হাজার ৩৪ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সকলের কাছে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য দেশী-বিদেশী মোট ৩ হাজার ৮১৩ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি প্রদান করা হয়। নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনে ৪৫ জন নিজস্ব পর্যবেক্ষক নিয়োগ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধ আমলে নেয়ার জন্য ৩৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। অনুরূপভাবে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা মোতাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ১০২ জন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য ৩৫৭ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এই তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সূত্র-বাসস

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫, ০১:০২ পি. এম.

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: