কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতও কাঁপতে জানে?

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

ধীরে ধীরে বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। দাপট দেখিয়ে চলেছে। ভারতকে এবার দাপট দেখাল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এরইমধ্যে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই ভারতের মতো দলের বিপক্ষেও সিরিজ জয় নিশ্চিত করে নিয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে কী দাপটই না দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি হয়ে উঠছে, এর প্রমাণ দেশের মাটিতে টানা ১০টি ওয়ানডে ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৫টি, পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩টি জয়ের পর ভারতের বিপক্ষেও ২টি জয় পেয়েছে। ভারতের মতো শক্তিশালী দল তো বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না! এমনই অবস্থা হয়েছে বাংলাদেশের।

সম্প্রতি সময়ে জয়ের দিক দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পর সেরা দল বাংলাদেশই। যতই র‌্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বরে থাকুক বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার মধ্য দিয়েই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর র‌্যাঙ্কিংয়ে সাত নম্বর স্থানে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সম্ভাবনা ছিল ষষ্ঠ স্থানে যাওয়ার। কিন্তু বাদ সেধেছে ইংল্যান্ড। যে কারণে, এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় করার পরেও সেই সাতেই পড়ে থাকতে হচ্ছে টাইগারদের। তারপরেও, বাংলাদেশ কি সত্যিই সাত নম্বরে? ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অন্য কথা। সাতে নয়, শক্তি ও পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে এই মুহূর্তে দুইয়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ! চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকেই ওয়ানডে দলগুলো যত ম্যাচ খেলেছে, তার উপরে ভিত্তি করেই দুই নম্বর স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে খেলেছে সর্বমোট ১১টি ওয়ানডে ম্যাচ। জয় আটটি। অন্যদিকে, এই তালিকার প্রথমে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া। জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে অজিরা জয় পেয়েছে ১১টিতে। এতে আছে একটি ‘টাই’ আর একটি হারের রেকর্ড। তবে জয়ের সংখ্যায় বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু মোট ম্যাচের দিক দিয়ে হিসাব করতে গিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে তারা। এই তালিকাতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ভারত। তাদের অবস্থান আয়ারল্যান্ডের পেছনে! পাকিস্তানের অবস্থাও ভাল নয়। এ বছর ১৫টি ওয়ানডে খেলে পাকিস্তান জয় পেয়েছে ৬টিতে। জয়ের হিসাবে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বর্তমানে আলোচনায় থাকা এবং প্রশংসা পাওয়ার দিক থেকে কিন্তু একনম্বরেই আছে। ভারত সিরিজ শুরুর আগে খেলাধুলা বিষয়ক ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করে, যার মূল সুর ছিল- ‘বাচ্চা আব বাচ্চা নেহি রাহে।’ বাংলায় এর অর্থ দাঁড়ায় বাচ্চা এখন আর বাচ্চা নেই। আর ভারতকে টানা দুই ওয়ানডে হারিয়ে সিরিজ জয়ের পর এই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে গলা মেলালেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারও। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভির সঙ্গে সরাসরি এক ভিডিও আলাপনে তিনি বলেছেন, ‘একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন অবশ্যই একটা শক্তি।’ ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডে সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘এই দুটো জয়ই প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়া। জয়ের ব্যবধান দেখুন। দুটোতেই বড় ব্যবধানে হেরেছে ভারত।’ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসা গাভাস্কারের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিজের হাতের তালুর মতোই চিরচেনা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বাংলাদেশের এই গৌরবের দিনে গাভাস্কার স্মরণ করেছেন বাংলাদেশের দর্শকদের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দর্শক সত্যিই অনন্য-অসাধারণ। তারা সব সময়ই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থেকেছেন। দলের পারফর্মেন্স ভাল-মন্দ যাই হোক দলকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। ভাল লাগছে এই ভেবে যে বাংলাদেশের দর্শকরা এতদিনে তাদের ভালবাসার প্রতিদান পেতে শুরু করেছেন।’ সেই প্রতিদান শুধু পেলেন না দর্শকরা, বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসের সেরা অর্জনও কী পেয়ে গেল না? কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে তাই মনে করছেন। এক বছর আগে ঠিক জুনেই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন হাতুরাসিংহে। ভারত সিরিজে কোচের দায়িত্ব পালন করেননি। দলের ক্রিকেটারদের পরখ করেছেন। পরপর দুই ওয়ানডেতে হারতে দেখেছেন। এবার যখন ভারত এক বছর পর আবারও বাংলাদেশের খেলতে আসল, সেই কোচ দলের কী পরিবর্তনই না করেছেন। ভারতকে সিরিজেই হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তাই তো কোচ বলছেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে সেরা এক অর্জন। আমি যেমনটি চেয়েছিলাম, ছেলেরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। তাই খুবই খুশি লাগছে।’ হাতুরাসিংহে দলে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। তবে আসল কাজটি যেন করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই। তাকে সব ক্রিকেটারই সম্মান করে। তিনিও দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছেন। সব সময় ক্রিকেটারদের কাছাকাছি থেকেছেন। মাঠের ভেতর ও মাঠের বাইরে, দু’দিকেই মাশরাফির প্রশংসার শেষ নেই। তবে যে বিভাগ সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কুড়াচ্ছে, সেই পেস আক্রমণ কিন্তু বদলে দিয়েছেন পেস বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিকই। মুস্তাফিজুর রহমান যে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৫ উইকেট ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নিয়েছেন, হিথ স্ট্রিকের ক্যারিশমাও এতে যুক্ত আছে। স্ট্রিক এখন ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করার ভাবনাও করছেন। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তীর্ণ হওয়া। পরে ঘরের মাটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ (৩-০)। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা টাইগার শিবির ভারতের বিরুদ্ধেও চমক লাগানো পারফর্মেন্স দেখাবে, এটা অনুমিতই ছিল। শুধু তাই নয়, ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের ব্যাপারেও মাশরাফি বাহিনী বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিক। এবার তার চোখ হোয়াইটওয়াশে। স্ট্রিক বলেন, ‘সত্যি বলতে আমিও খুব খুশি। তবে এটা সম্ভব হয়েছে মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর থেকে ছেলেদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছিল। তবে ছেলেরা জয়ের জন্য খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতার পর ছেলেরা এখন সিরিজটিকে ৩-০ করার ব্যাপারে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তৃতীয় ওয়ানডেতেও আমরা জয়ের ধারা ধরে রাখতে চাই। আমিও আশাবাদী শেষ ওয়ানডেতে আমরাই জিতব।’ সঙ্গে পেস আক্রমণ নিয়ে হিথ স্ট্রিক বলেন, ‘জাতীয় দলে এখন তাসকিন ও মুস্তাফিজের মতো দুই তরুণ পেসার দলে আছে। বিশেষ করে আমি মুস্তাফিজকে প্রথম দেখি গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাওয়া বাংলাদেশ ‘এ’ দলের স্কোয়াডে। সে সত্যিই একজন অসাধারণ বোলার। ভবিষ্যতে সে আরও ভাল করবে।’ সেই ভাল তৃতীয় ওয়ানডেতেও মিলে গেলে হয়। ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করে দিতে পারলেই হয়। তাতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপট আরও বেড়ে যাবে।

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: