আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কাঁপছে ধোনির সিংহাসন!

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

এভাবে চলতে থাকলে বিদেশী ক্রিকেট দলগুলো আর বাংলাদেশে আসতে চাইবে না! নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুইয়ে, পাকিস্তানকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করে প্রতিটি দেশের ক্রিকেটর ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে টাইগাররা। ঠিক একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ভারত। টানা দুই হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ খুইয়েছে ক্রিকেটের মোড়লরা! আজ হারলে হোয়াইটওয়াশ। সব মিলিয়ে কাঁপছে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সিংহাসনও। প্রভাবশালী দেশের প্রভাবশালী ক্যাপ্টেনকে কী অসহায় পরিস্থিতির মধ্যেই না ফেলে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল!

ভারত যে কতটা লজ্জার মধ্যে পড়েছে সিরিজ হারের পর ধোনির এই বক্তব্যেই তা পরিষ্কার, ‘আপানাদের যদি মনে হয়, আমার জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট ডুবছে, আমাকে সরিয়ে দিলেই সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তবে দিন না। আমাকে এক্ষুণি সরিয়ে দিন! আমি জানি ভারতীয় মিডিয়া আমাকে খুব ভালবাসে! আমি এমন একটা মানুষ, কোন কিছু হলেই যাকে দোষী হতে হয়। সেটা হতেই হবে, তাই না? কারণ ভারতের ক্রিকেটে যা কিছু হয়, তার সবই তো আমার জন্য! দেখুন না, আজ আপনাদের প্রশ্ন শুনে বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও কেমন করে হাসছেন!’

বিশ্বকাপের আগেও টানা হারের চক্করে পড়া ধোনির নেতৃত্ব নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। কিন্তু সেমিতে উঠে সেই সমালোচনার আপাতত ইতি টানেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। অথচ টাইগার ক্রিকেটের এমনই তেজ যে হতাশায় এখন নিজে থেকে দায়িত্ব ছাড়তে চাইছেন ধোনি। এরপরও কি বলবেন, আপনি অধিনায়কত্ব উপভোগ করছেন? ওয়ানডেতে কাউকে দায়িত্ব দেয়ার সময় আসেনি? এমন পশ্নের উত্তরে ক্ষুব্ধ কণ্ঠের জবাব ‘আমি তো কখনও বলিনি, আমাকে ক্যাপ্টেনের আসনে বসিয়ে দাও। আমি তখনই দায়িত্ব নিয়েছিলাম, যখন আমাকে নিতে বলা হয়েছিল। আজ যদি মনে হয় সেই দায়িত্বটা অন্য কাউকে দিলে ভাল হয়, তাহলে সেটাই হোক। আমার কোন সমস্যা নেই, আমার কাছে দেশের হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে গর্বের।’

বিশ্বকাপের পর কোচ ডানকান ফ্লেচারের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। এই সিরিজে অস্থায়ী প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন ‘ডিরেক্টর’ রবি শাস্ত্রী। ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন কি নাÑ এমন প্রশ্নে যথারীতি বাঁকা উত্তর, ‘যাক, এতদিন পর তাহলে আপনারা ফ্লেচারকে মিস করছেন! শুনুন যে সাপোর্ট স্টাফ পরিবর্তনের কথা বলছেন, তারাই কিন্তু বিশ্বকাপে দারুণ কাজ করেছেন। আর ধুমধাম করে কাউকে কোচ করে আনার প্রয়োজন আছে? রবি তো আছেন, আপনাদের পছন্দ হচ্ছে না?’ একের পর এক তোতো প্রশ্নে জর্জরিত অধিনায়ক যেন এক পশলা বাতাস পেলেন, যখন এক সমব্যর্থী সংবাদকর্মী বললেন, আপনার অধীনেই তো এত এত সাফল্য...। ক্যাপ্টেন কুলের কণ্ঠে অভিমানের সুর ‘আমি আবার কখন বললাম যে, ভারতের জন্য কিছু করেছি, ভারতকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছি?’

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই ধোনিই ভারতের সফলতম অধিনায়ক। মহেন্দ্র সিং ধোনি কি ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক?Ñ এমন প্রশ্নে বিরোধীদের যুক্তি টি২০ আবার ক্রিকেট হলো? এক ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে নিয়ে এত নাচানাচির কি আছে! সংশয়বাদীরা হয়ত ভুলে গেছেন, কেবল ২০১১-এর বিশ্বকাপই নয়, গত বছর ইংলান্ডে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ আইসিসির সব কটি বৈষয়িক টুর্নামেন্টেজয়ী একমাত্র অধিনায়ক তিনি। ২০০৭ টি২০ বিশ্বকাপ, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ অতঃপর ওয়ানডের চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আন্তর্জাতিক অর্জন আছে আরও। ধোনির নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো টেস্ট ওয়ানডে দুই ধরুনের ক্রিকেটে আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করে ভারত। এখানেই শেষ নয়, হিসাব যখন ‘অধিনায়ক ধোনি’কে নিয়ে, তখন বাদ যাচ্ছে না ধুন্ধুমার আইপিএল আর টি২০ চ্যাম্পিয়ন্স লিগÑ দুটিতেই চেন্নাই সুপার কিংসকে শিরোপা উপহার দেন।

রয়েছে আরও কীর্তি। গত বছর ইংল্যান্ড সফরে দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ের মধ্য দিয়ে মোহাম্মদ আজহার উদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে ভারতের সর্বাধিক ৯০টি ওয়ানডে ম্যাচজয়ী অধিনায়ক তিনি। বিশ্বকাপে সেই রেকর্ড একভাবে নিজের করে নিয়েছেনÑ মোট ১৮০ ম্যাচে ১০০ জয়! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্যাম্পিংয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েন ধোনি। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০Ñ তিন ভার্সন মিলিয়ে ৩৮২টি ম্যাচ খেলে ১৩৪টি স্ট্যাম্পিং করে ভারত ‘অধিনায়ক’ এখন সবাইকে ছাড়িয়ে। ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি ২৭ টেস্ট জয়েরর রেকর্ড ধোনির দখলে।

গত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর অধিনায়ক ধোনির প্রশংসা করে সাবেক তারকা রাহুল দ্রাবিড় বলেছিলেন, ‘আমি নিজে যেমন অধিনায়ক ছিলাম, তেমনি খেলেছি অন্যের অধীনে। এই ধোনির নেতৃত্বেও। সর্বোপরি ধন্যবাদ জানাব নির্বাচকদের। কারণ, ২০১১ বিশ্বকাপের পর ধীরে হলেও তরুণ ক্রিকেটারদের নির্বাচন করে বড় সাহসের কাজ করেছেন তাঁরা। যার ফলও এসেছে দুই বছরের ব্যবধানে। আর মাঠে সব কিছুকে একসুতোয় বেঁধে সেরাটা বের করে আনার কৃতিত্ব ধোনির। অসাধারণ নেতৃত্ব। এরপর ওকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে না রাখার কারণ নেই। অধিনায়ক ধোনি আসলেই ব্যতিক্রম।’

সাবেক ভারতীয় কোচ, অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল একধাপ এগিয়ে। তিনি বলেন, ‘জীবিত, মৃত, আমার সময়ে, তার আগে, নিজের কোচিং করানোর সময়, মাঠে খেলোয়াড়ি প্রতিপক্ষ হিসেবেÑ যত ভারত অধিনায়ককে দেখেছি, তদের মধ্যে ধোনিই সর্বোত্তম। তাঁকে এখনই সর্বকালের সেরাদের কাতারে রাখব আমি।’ সাবেক ভারত সেনাপতি মদন লাল বলেন, ‘কোন সন্দেহ নেই আমার দেখা সর্বকালের সেরা অধিনায়ক ও। ইস্ যদি ধোনির অধীনে খেলতে পারতাম!’ ২০০৭ টি২০ বিশ্বকাপের আগে ধোনিকে যখন অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেয়া হয়, তখন প্রধান নির্বাচক ছিলেন এই দিলিপ ভেঙ্কসরকার। সে প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন ওকে অধিনায়ক হিসেবে বাছি, ভাবতে পারিনি এই পর্যায়ে পৌঁছবে। ’

অথচ টাইগার-ধাক্কায় কাঁপছে এমন কিংবদন্তিতুল্য অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সিংহাসন!

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: