রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাগেরহাটের ৩ রাজাকারের বিচার শেষ, যে কোন দিন রায়

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫
  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরামের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। যে কোন দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার রাজাকার কমান্ডার মোঃ ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী মঞ্জু মিয়া তালুকদারকে জেরা শেষ করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। আজ দশম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক।

বাগেরহাটের রাজাকার কমান্ডার কসাই সিরাজ মাস্টারসহ তিন রাজাকারের মামলার রায় যে কোন দিন ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার এ মামলার আইনী বিষয়ের উপর যুক্তি উপস্থাপন করেন সিনিয়র প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। ট্রাইব্যুনালের আদেশের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছি। কাজেই আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে তিন আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- চেয়েছি। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন বলেছেন, প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আমি মনে করি আমার মক্কেল এই অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন।

এই তিন জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী সাতটি অভিযোগ রয়েছে। এই সাত অভিযোগে গত বছরের ৫ নবেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযুক্ত ৩ জনই আটক আছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কচুয়ার শাঁখারিকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোসহ ছয়টি সুনির্দিষ্ট অপরাধ ও ৮শ’ ১৯ জনকে হত্যার অভিযোগে সিরাজ মাস্টারকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচাশ্বশুর মৃত মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপরি ঘর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া, কচুয়া থানা পুলিশ ১১ জুন এই মামলার অপর পলাতক আসামি আঃ লতিফ তালুকদারকে ও ১৯ জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খানকে রাজশাহী থেকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করা করে।

এই তিন রাজাকারের বিরদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষ ৫, ১৭ ও ২৩ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ও প্রসিকিউটর মোশফেক কবির। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ১৭ ও ২১ জুন সিরাজ মাস্টারের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী এ্যাডভোকেট আবুল আহসান এবং খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের পক্ষে ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। গত ৬, ৭ ও ২১ এপ্রিল আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন পাঁচজন সাফাই সাক্ষী। অন্যদিকে গত বছরের ২ ডিসেম্বর থেকে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত সিরাজ-লতিফ-আকরামের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিনসহ ৩২ জন সাক্ষী।

বাগেরহাটের তিন রাজাকারের যে ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, অভিযোগ ১ : ১৯৭১ সালের ১৩ মে দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাগেরহাট জেলার রঞ্জিতপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর লুট এবং অগ্নিসংযোগ। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪০-৫০ জন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ ২ : বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার ডাকরার কালীমন্দিরে ভারতের শরণার্থী শিবিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই-তিন হাজার লোক। ১৯৭১ সালের ২১ মে বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৬০০-৭০০ জনকে হত্যা করা হয়।

অভিযোগ ৩ : ১৯৭১ সালের ১৮ জুন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানার বেসরগাতী, কান্দাপাড়া এলাকায় ১৯ জন নিরীহ নিরস্ত্র লোককে আটক, নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যা করা হয়। অভিযোগ ৪ : ১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সদর থানার চুলকাঠিতে হামলা চালিয়ে ৫০টি বাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় সাতজন নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়। অভিযোগ ৫ : ১৯৭১ সালের ৫ নবেম্বর দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কচুয়া থানার শাখারিকাঠি হাটে হামলা চালিয়ে ৪২ জনকে আটক, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়। এসময় অনেক বাড়ির মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। অভিযোগ ৬ : ১৯৭১ সালের ২২ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বিকেল আনুমানিক ৫টা পর্যন্ত কচুয়া থানা সদরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিরস্ত্র পাঁচজনকে আটক, নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যা করা হয়।অভিযোগ ৭ : ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টায় জেলার মোরেলগঞ্জ থানার তেলিগাতীতে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান শিকদারকে আটক, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।

ননী-তাহের ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেত্রকোনার রাজাকার কমান্ডার মোঃ ওবায়দুল হক তাহের ও অতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের নবম সাক্ষী মঞ্জু মিয়া তালুকদাকে জেরা করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুস সুবহান তরফদার। আজ দশম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি।

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: