মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফিক্সড ফোনে ত্রিমুখী সেবা মিলবে গ্রাহকদের

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫
  • নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে

ফিরোজ মান্না ॥ পিএসটিএন বা ফিক্সড ফোন নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফিক্সড ফোন সেবা সম্প্রসারণে অপারেটরদের আধুনিকায়ন, ব্যবসাবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা হবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ফোনসহ ত্রিমুখী সেবাদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বন্ধ ফিক্সড ফোন অপারেটরদের লাইসেন্স ও তরঙ্গ বিষয়ক জটিলতা নিরসনের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ফিক্সড ফোন সেবার সম্প্রসারণে বিদ্যমান পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এটির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিটিআরসি। সংশোধিত নীতিমালায় ফিক্সড ফোন অপারেটরদের এনজিএনভিত্তিক ত্রিমুখী সেবাদানের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে একই লাইনের মাধ্যমে ভয়েস কল, ইন্টারনেট সেবা ও আইপি-টিভি সেবা পাবেন ফিক্সড ফোনের গ্রাহকরা। সেলফোন সেবার কারণে ফিক্সড ফোনের ব্যবহার কমে এলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখনও জনপ্রিয় পিএসটিএন অপারেটরদের সেবা। মূলত কম খরচে ভয়েস কল করার সুবিধা ও ডাটা কানেকটিভিটি সেবার মাধ্যমে এ জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রেখেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পাশাপাশি পিএসটিএনের মাধ্যমে জনসাধারণের ফোন করার সুবিধা (পিসিও) দেয়া হয়ে থাকে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে ফিক্সড ফোন সেবার গ্রাহক ঘনত্ব ১০ শতাংশের বেশি। কিন্তু বাংলাদেশেই এই ঘনত্ব অনেক কম।

বেসরকারী খাতে দেশে পিএসটিএন অপারেটর র‌্যাংকসটেলের একজন কর্মকর্তা জানান, দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের অন্য সেবাগুলোর ক্ষেত্রে যে ধরনের উন্নয়ন ঘটেছে সে অনুযায়ী ফিক্সড ফোনের উন্নয়ন ঘটেনি। এই সেক্টরের উন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন। এই নীতিমালার কারণে আগামী দিনে ফিক্সড ফোনের গ্রাহকরা বহুমাত্রিক সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে এই সেক্টরে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

২০১০ সালের মার্চে অবৈধ ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) ব্যবসার অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া পাঁচটি পিএসটিএন ফোন বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে র‌্যাংকসটেল এবং ওয়ার্ল্ডটেল আবার এই সেবা চালু করে। বন্ধ থাকা অন্য অপারেটরদের লাইসেন্স ও বরাদ্দ দেয়া তরঙ্গ বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি কমিটিও গঠন করেছে বিটিআরসি। এই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি। এখন পর্যন্ত কমিটি পিএসটিএনের বিষয়ে কোন প্রতিবেদন দেয়নি। অল্প দিনের মধ্যে কমিটির বন্ধ থাকা পিএসটিএনের তরঙ্গের বিষয়ে বিটিআরসির কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে পিএসটিএন সেবার গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১১ লাখ। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৮৫ হাজার। বেসরকারী পিএসটিএনের গ্রাহক সংখ্যার মধ্যে রয়েছে র‌্যাঙ্কসটেলের ২ লাখ ৬৬ হাজার, ওয়ার্ল্ডটেলের ১৪ হাজার ও বাংলাফোনের ৫ হাজার।

অবৈধ ভিওআইপির দায়ে বন্ধ করে দেয়া পিএসটিএন আবার চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ে পিএসটিএন চালুর ব্যাপারে পিএসটিএন মালিকদের আবেদন ‘রিভিও’ করার কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, পিএসটিএন চালুর অনুমতি দিলে অত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পিএসটিএন বন্ধ করার পর বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল বহুগুণে বেড়েছে। এখন আবার পিএসটিএন চালু করা হলে অবৈধ ভিওআইপি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পিএসটিএন কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় পিএসটিএন আবার চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রণালয় চায় পিএসটিএন আবার চালু হোক। পিএসটিএন চালুর ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিটিআরসির কাছে কোন প্রকার মতামত চায়নি। বিষয়টি জানতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, পিএসটিএন (পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক) বন্ধ করে দেয়া যৌক্তিক ছিল। টেলিকম সেক্টরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। তখন পাঁচটি পিএসটিএন কোম্পানি ও ২১টি আইএসপি ( ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডর ) অবৈধ ভিওআইপি সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পিএসটিএন কোম্পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশে সেলফোনের পাশাপাশি ফিক্সড ফোন সেবায় প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত সেবা দিতে পিএসটিএন লাইসেন্স দেয়া হয়। এর আগে দেশের একমাত্র ফিক্সড ফোন অপারেটর ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। ২০০৪ সালে ফিক্সড ফোন সেবায় বেসরকারীখাতকে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অঞ্চলভিত্তিক পিএসটিএন অপারেটর হিসেবে সেবা পরিচালনার অনুমতি দেয় বিটিআরসি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের শেষদিকে দেশব্যাপী পিএসটিএন সেবাদানে লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। এই লাইসেন্স নেয়ার পর থেকেই পিএসটিএন কোম্পানি গুলো অবৈধ ভিওআইপির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সালের ১৫ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে ঢাকা ফোন, পিপলসটেল, ন্যাশনালফোন, ওয়ার্ল্ডটেল ও র‌্যানকসটেল অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) করার দায়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বিটিআরসি একই বছরের মে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্সও বাতিল করে দিয়েছিল। এখন আবার এই ফোন চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’টি কোম্পানিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই দু’টি কোম্পানি গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০১৫

২৪/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: