মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিল গেটস ॥ বিস্ময়কর শৈশব

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

বিল গেটসের জন্ম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের সিয়াটল এলাকায় ১৯৫৫ সালের ২৮ অক্টোবর পিতা উইলিয়াম হেনরি গেটস সিনিয়র ও মাতা মেরী ম্যাক্সওয়েল গেটসের কোলে জন্ম নিয়েছিলেন বিল গেটস। পিতা তাদের বংশানুক্রম অনুসারে ছেলের নামও রাখলেন উইলিয়াম হেনরি গেটস। তার পিতা মাতা ছিলেন ইংরেজ, জার্মান ও স্কট-আইরিশ মিশ্র রক্তের মানুষ। বিল গেটসের বাবা ছিলেন সেই সময়কার প্রখ্যাত ল-ইয়ার, আর মা চাকরি করতেন টহরঃবফ ডধু নামের একটি কোম্পানির ঋরৎংঃ ওহঃবৎংঃধঃব ইধহপঝুংঃবস এর ইড়ধৎফ ড়ভ ফরৎবপঃড়ৎ হিসেবে। বিল গেটসের নানা ছিলেন তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। বাবা মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে গেটস হলেন একমাত্র ছেলে। তার বড় বোনের নাম কৎরংঃরধহহব এবং ছোট বোনের নাম খরননু.

শৈশবেই প্রোগ্রামার

ছোটবেলা থেকেই বিল গেটসের বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, বাবার মতো ছেলেও বড় হয়ে ল-ইয়ার হবে। অনেক নাম কামাবে। ১৩ বছর বয়সে বিল গেটসকে ভর্তি করে দেয়া হয় বাড়ির কাছের লেকসাইড স্কুলে। যখন গেটস স্কুলে ঊরমযঃয এৎধফব এ উন্নীত হন, তখন স্কুলের বিভিন্ন বাতিল মালপত্র বিক্রয় করে কম্পিউটার সেকশনের ছাত্রদের জন্য কয়েকটি ঞবষবঃুঢ়ব গড়ফবষ ৩৩ ঈড়সঢ়ঁঃবৎ কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্কুলটির গড়ঃযবৎং ঈষঁন। এর ফলে গেটস তার কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের ওপর পারদর্শিতা দেখানোর একটি সুযোগ পান।

বিল গেটসের প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে স্কুল তাকে বিরক্তিকর গণিত ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেয় এবং প্রোগ্রামিং অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই কম্পিউটার সেকশনে বসেই গেটস তার প্রথম প্রোগ্রাম তৈরি করেন, যার নাম রাখেন “ঞরপ-ঞধপ-ঞড়ব”। যে প্রোগ্রামটি কম্পিউটারের সঙ্গে গেম খেলার জন্য ব্যবহার করে গেটস সবাইকে চমকে দেন।

কৌতূহল থেকেই অপারেটিং সিস্টেম

কম্পিউটার নিয়ে কাজ করার সময় বিল গেটসের একটি জিনিস কখনোই মাথায় ঢুকত না যে,কম্পিউটারে কিভাবে সফটওয়্যারগুলো এত সহজে ইন্সটল হয়ে যায় বা কম্পিউটার সফটওয়্যারগুলোর প্রোগ্রামিং কোড কিভাবে এত সহজে পড়তে পারে। তার কাছে মনে হতে থাকে, এই কম্পিউটারে নিশ্চয়ই এমন কিছু আছে যেটা তিনি ধরতে পারছেন না। কিছুদিন পর তাদের গড়ঃযবৎং ঈষঁন থেকে স্কুলের জন্য ডোনেশন বাড়ানোর ফলে স্কুলে আরও কিছু নতুন কম্পিউটার আসে। গেটস তখন কম্পিউটার সেকশনের অন্য ছাত্রদের নিয়ে ঈড়সঢ়ঁঃবৎ ঈবহঃবৎ ঈড়ৎঢ়ড়ৎধঃরড়হ (ঈঈঈ) এর নীতিবিরুদ্ধ চউচ-১০ নামে একটি উবসড় ঙঢ়বৎধঃরহম ঝুংঃবস আবিষ্কার করে বসেন।

স্কুল থেকে বহিষ্কার!

বিল গেটসের আবিষ্কৃত ডেমো অপারেটিং সিস্টেম নীতিবিরুদ্ধ হওয়ায় এবং কাউকে কিছু না জানিয়ে এটিকে কম্পিউটারে ব্যবহার করায় গেটস ও তার তিন বন্ধু পল অ্যালেন, রিক ওয়েইল্যান্ড এবং কেন্ট ইভানসকে স্কুল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তারা আবিষ্কারের নেশায় তাদের গবেষণা চালিয়ে যান। এর ফলে আবিষ্কার করেন, তাদের তৈরি অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের সুরক্ষা করতে সক্ষম এবং কোন সফটওয়্যার এ ট্রোজান থাকলে সেটাও নির্মূল করতে সক্ষম।

নতুন প্রোটোটাইপ তৈরি

অপারেটিং সিস্টেম এবং ট্রোজান নিয়ে কাজ করার পরপরই মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিল গেটস তার বন্ধু এ্যালেনের সঙ্গে বর্তমান একটি ওহঃবষ ৮০০৮ প্রসেসরের প্রোটোটাইপ ঞৎধভভরপ পড়ঁহঃবৎং তৈরি করেন। ধীরে ধীরে গেটসের পরিচিতি বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালে তাকে মার্কিন রিপ্রেজেন্টিটিভ হাউজে একজন কংগ্রেস ম্যান হিসেবে সম্মানজনক পদ দেয়া হয়। একজন মানুষ কম সময়ে কতটুকু সুনাম কামাতে পারে, তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হলেন বিল গেটস।

স্যাট পরীক্ষায় অবিশ্বাস সফল্য

বিল গেটস তার লেকসাইড স্কুল থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ১৯৭৩ সালে। সেইবার তিনি ঝঅঞ পরীক্ষায় ১৬০০ নম্বরের পরীক্ষায় ১৫৯০ পেয়েছিলেন! তারপর ১৯৭৩ সালেই তিনি শরৎ সিজনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। যদিও বাবা-মা চেয়েছিলেন ছেলে বড় হয়ে ল-ইয়ার হোক, কিন্তু গেটসের বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পরও কোন ভবিষ্যত পরিকল্পনা ছিল না যে, তিনি কিভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন। তবে তার মন ওই কম্পিউটারেই পড়ে থাকত। শেষে একদিন গেটস তার বন্ধু পল এ্যালেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বন্ধুর আমন্ত্রণেই সাড়া দিয়ে এ্যালেন ১৯৭৪ সালের সোমার সেমিস্টারে এসে ভর্তি হলেন হার্ভার্ডে। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়েই তার সঙ্গে পরিচয় হয় বর্তমান মাইক্রোসফটের সহকারী পরিচালক স্টিভ বালমারের সঙ্গে।

হার্ভার্ডের ত্রিশ বছরের

রেকর্ড ভাঙ্গল গেটস!

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালের দ্বিতীয় বছরে বিল গেটস কিছু অসংজ্ঞায়িত প্রোগ্রামিং সমস্যার “চধহপধশব ংড়ৎঃরহম” নামে একটি সিরিজ সমাধান তৈরি করেন, যেটি উপস্থাপন করেন তারই প্রফেসর ঐধৎৎু খবরিং. ৩০ বছরের মধ্যে বিল গেটসের সমাধানটিকেই সবচাইতে দ্রুততম সিরিজ সমাধান বলে অ্যাখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে তার এই সমাধান নিয়েই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী ঈযৎরংঃড়ং চধঢ়ধফরসরঃৎরড়ঁ তার গবেষণা চালান এবং তা পেপারব্যাক হিসেবে প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

২৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: