আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তারুণ্যের জয়

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫
  • রুমেল খান

তারুণ্য বিজয়ের অপর নাম। তারুণ্য ডানা মেলা পাখির স্বপ্ন। তারুণ্যের জয় সব কালে, সব স্থানে এমনকি রাজধানীর মিরপুরে। এমনি এক দীপ্ত তারুণ্যের দেখা পাওয়া গেল বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচে। যেখানে ক্ষুরধার অভিজ্ঞতাকে হার মানিয়ে বিজয়ের নিশানা গেঁথেছে দীপ্তময় তারুণ্য।

সুপ্ত তারুণ্যের দীপ্তময় প্রকাশ, নাকি ক্ষুরধার অভিজ্ঞতার উদ্ভাসিত ধারাবাহিক নৈপুণ্যগাথা ... জয় হবে কার? অনেকেই বলবেন জয় হবে অভিজ্ঞতার। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টোটিই।

ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ এশিয়ায়। এই ক্রিকেট জনপ্রিয়তার কম্পন কোন রিখটার স্কেলে মাপা যায় না। বাংলাদেশ হয়ত নৈপুণ্যের বিচারে ক্রিকেট বিশ্বের এক নম্বর দেশ নয়, কিন্তু বিশ্বক্রিকেটের সবাই একবাক্যে স্বীকার করে- ক্রিকেট উন্মাদনায় বাংলাদেশই হচ্ছে এক নম্বর দেশ! এটা স্বীকার করে ক্রিকেটের তিন মোড়লের এক মোড়ল ভারতও। এই ধারণা যে মোটেও ভুল নয়, সেটি চলমান বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে সিরিজেই পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই তারুণ্যনির্ভর স্বাগতিক বাংলাদেশ তেতো হারের স্বাদ উপহার দিয়েছে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সফরকারী ভারতকে।

খেলা হচ্ছে মিরপুরের শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রতিটি খেলাতেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমী তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সি, ভুভুজেলা, জাতীয় পতাকার রঙে বানানো টুপি, টাইগারদের শুভকামনায় ব্যানার, ফেস্টুন, হেডব্যান্ড, গালে-মুখে, হাতে রং দিয়ে জাতীয় পতাকা আঁকা ... কি নেই! বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই ‘বাটপাড়’ আম্পায়ারের বদৌলতে ভারত জিতেছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। সে হারের পর গোখরা সাপের মতো ফুঁসছিল গোটা বাংলাদেশ। খুঁজছিল চরম প্রতিশোধ নেয়ার মওকা। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে জিতে সেই বদলা নেয়ার স্বপ্নপূরণ হয়েছে মাশরাফি বাহিনীর। ‘ইন্ডিয়ার সঙ্গে খেলছি মোরা/ইন্ডিয়াকে দেব বাঁশ/ইন্ডিয়াকে হারিয়েই গড়ব নতুন ইতিহাস।’ বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমীদের মনের আকুলতাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান, সৌম সরকার, তাসকিন আহমেদরা। প্রথমেই আসবে মোস্তাফিজুরের প্রসঙ্গ। কয়েক মাস আগে টি২০ ম্যাচে মোস্তাফিজুরের অভিষেক ঘটেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ডেব্যু ম্যাচেই পেয়েছিলেন দুই উইকেট, যার একটি শহীদ আফ্রিদির। মাত্র ১৯ বছর বয়সী বাঁ-হাতি এই পেসার ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করে দলকে জেতানোর পাশাপাশি করেন বিশ্বরেকর্ড। তার সম্পর্কে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ জানিয়েছিলেন, ‘মোস্তাফিজুরকে দলে নেয়াটা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে। অনুর্ধ-১৯ দল ও যুব দলের হয়ে সে দারুণ বোলিং করে আমাদের নজর কেড়েছে।’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন হিরো এখন মোস্তাফিজুর। তার কাছেই প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের বিখ্যাত ব্যাটিং লাইনআপ আত্মসমর্পণ করে। শুধু তাই নয়, ভারতকে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে উঠে যায় হাতুরার শিষ্যরা। ক্রিকেটার না হলে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতেন তিনি। এই ‘তিনি’টা সৌম্য সরকার। ক্রিকেটপ্রেমীরা মজা করে বলে, ‘সৌম্য সরকার, তাকেই এখন বাংলাদেশের দরকার!’ প্রথম ওয়ানডেতে ২২ বছর বয়সী সৌম্য সরকার তার পার্টনার তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১০২ রানের জুটি গড়েন। মজার ব্যাপারÑতামিম ইকবালের ইনজুরির কারণে তার বিকল্প ওপেনার হিসেবেই জাতীয় দলে এসেছিলেন সৌম্য। মোস্তাফিজুরের মতো সৌম্যর বাড়িও সাতক্ষীরায়।

উচ্চতা ৬ ফিট ২ ইঞ্চি। বয়স ২০। ডাকনাম তাজিন। তবে এই নামে তাকে চেনে খুব অল্প কজনই। আসল নাম তাসকিন আহমেদ। এবার নিশ্চয়ই চেনা গেছে? মাশরাফি, শাহাদাত, রুবেলের পর আরেক গতিশীল বোলারের জন্য হাপিত্যেশ করছিল বাংলাদেশ। ১৪০ কিলোমিটার বেগে বল করে সবার সেই হতাশাকে নিগুঢ় আশায় বদলে দিয়েছেন ঢাকার ছেলে তাসকিন। ডান হাতি এই পেসার ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি আসক্তি থেকেই এ খেলায় নিজেকে পারদর্শী করে তোলেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট দিয়ে আনুষ্ঠানিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর নিজেকে প্রমাণ করতে আর পেছন ফিরতে হয়নি এই তরুণকে। টি২০ বিশ্বকাপ ২০১৪ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন তাসকিন। ওই বছরই ভারতের বিপক্ষে ২৮ রানে ৫ উইকেট তার ক্যারিয়ার সেরা। ২০১৫ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করে দৃষ্টি কাড়েন ক্রিকেটবোদ্ধাদের। ৯ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলারও নির্বাচিত হন। এবার ভারতের বিপক্ষে ৩০৮ রানের লক্ষ্য দেয়ার পর তাকে নিয়ে আবারও প্রশংসা করলেন ভারতীয় ধারাভাষ্যকাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে হার্শা ভোগলে বলেন, ‘বোলিংয়ে দারুণ আগুন ঝড়ানো সূচনা বাংলাদেশের। তাসকিনের মতো একটা রতœ আছে দলে। ওকে ভারতের দেখে খেলতে হবে।’ তাসকিনকে ক’দিন আগেই প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন সাবেক পাকি স্পিডস্টার শোয়েব আখতার, ‘ওর বলে গতি আছে। ঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারে। তবে সে এ্যাকশন নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। এতে চিন্তার কিছু নেই। খুব নির্ভারচিত্তে দৌড়াতে হবে। উইকেটে কি করতে হবে, সেটি নিয়েই ভাবাটাই জরুরী।’

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

২৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: