মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বীমা কর্তৃপক্ষের জনবল কাঠামো চূড়ান্ত

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫
  • চাহিদামাফিক না হওয়ায় পুনর্বিবেচনার দাবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ চার বছর পর অর্থ মন্ত্রণালয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করলেও চাহিদামাফিক না হওয়ায় তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে আইডিআরএ। এতে সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত হলেও ঝুলে গেছে আইডিআরএ’র লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া।

আইডিআরএ বলছে, অনুমোদন দেয়া জনবল দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব নয়। বীমা খাতের যথাযথ নিয়ন্ত্রণের জন্য আরও লোকবল প্রয়োজন। তবে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আইডিআরএ’র আবেদনের কোন সমাধান দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতে বিরাজমান অরাজকতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতেগোনা লোকবলই দায়ী। বিষয়টি অনুধাবন করে অধুনালুপ্ত বীমা অধিদফতরের প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রক ফিরোজ আহমেদ প্রথম লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেন। তিনি তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থার জনবল সংখ্যা ২২ জন থেকে বাড়িয়ে ৪৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেন। এরপর ফিরোজ আহমেদ বাণিজ্য সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে চলে যান এবং বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত হয়। ফলে ধামাচাপা পড়ে যায় বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার লোকবল বাড়ানোর বিষয়টি।

আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার লোকবলের অভাবে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয় সম্ভাবনাময় বীমা খাত। অধিদফতরের কর্মকর্তারা উৎকোচ নেয়ার মাধ্যমে ফাইল আটকে রাখা, কোম্পানির দুর্নীতির খবর জেনেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমানে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা) পদে বসানোসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হওয়া বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার। বীমা অধিদফতরকে বিলুপ্ত করে ২০১১ সালে গঠন করা হয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

বীমা পেশায় সর্বোচ্চ ডিগ্রী (এ্যাকচুয়ারি) প্রাপ্ত এম শেফাক আহমেদকে চেয়ারম্যান এবং ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উচ্চ আদালতের প্রাক্তন রেজিস্ট্রারকে সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে শুরু হয় আইডিআএ’র কার্যক্রম।

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর পদক্ষেপে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বীমা খাতে। অনিয়মের খোলস ভেঙ্গে অনেকটাই নিয়মের মধ্যে চলে আসে বীমা কোম্পানিগুলো। সেই সময়ই আইডিআরএ’র লোকবল বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ। তবে বছর ঘুরতেই বদলে যায় আইডিআরএ’র চরিত্র। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। একপর্যায়ে আবারও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

উৎকোচ গ্রহণ, ফাইল আটকে রাখা, অযোগ্য ব্যক্তিকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে অনুমোদন, সাধারণ বীমা কোম্পানির পরিদর্শক দলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়াসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যকার তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে একপর্যায়ে দুই মাসের উপরে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের পদ খালি রাখে সরকার। আর চাকরির মেয়াদ শেষে আইডিআরএ থেকে একে একে বিদায় নেন প্রথমে নিয়োগ পাওয়া সদস্যরা। ফলে আবারও থেমে যায় আইডিআরএ’র লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া।

এ পরিস্থিতিতে আবারও ২০১৪ সালের এপ্রিলে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এম শেফাক আহমেদকে। অবশ্য এর আগেই নিয়োগ দেয়া হয় নতুন সদস্য। সেই সঙ্গে নেয়া হয় আইডিআরএ’র নিজস্ব লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া। এরই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি পদে ১৫৫ জনের সাংগঠনিক কাঠামো চূড়ান্ত করে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৭টি পদের বিপরীতে ১৯৫ জনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনে সম্মতি দিয়েছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দেয়া সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণী পদে অফিস সহায়ক হিসেবে রাখা হয় ২০ জন, ইলেক্ট্রিশিয়ান পদে একজন এবং ক্লিনার অথবা পরিচ্ছন্নকর্মী পদে ২ জন। এই ৩ পদের ২৩ জন নিয়োগ পাবেন আউট সোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী। অন্য ১৪টি পদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আইডিআরএ’র নিজস্ব জনবল ও সরকারী চাকরির নীতিমালা অনুযায়ী যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিধান রাখা হয়। এর মধ্যে নির্বাহী পরিচালক ৪ জন, পরিচালক ৭ জন, অতিরিক্ত পরিচালক ১০ জন, উপ-পরিচালক ১০ জন, সহকারী পরিচালক ২০ জন, প্রোগ্রামার একজন, নেটওয়ার্ক এ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদে একজন করে রাখা হয়।

এছাড়া কর্মকর্তা পদে ৩০ জন, প্রোগ্রাম অপারেটর ৫ জন, কম্পিউটার অপারেটর ১০ জন, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সহকারী ৫ জন, ডাটা এন্ট্রি অথবা কন্ট্রোল অপারেটর ২০ জন এবং ড্রাইভার পদে ১০ জন রাখা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে লোকবল যথেষ্ট নয় জানিয়ে গত ১০ মে মন্ত্রণালয়ে জনবল আরও বাড়ানোর আবেদন করে আইডিআরএ। এরপর দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সে বিষয়ে আর কোন তথ্য জানায়নি মন্ত্রণালয়।

আইডিআরএ মন্ত্রণালয়কে বলেছে, ১৫৫ জন লোকবল দিয়ে কর্তৃপক্ষের ওপর দেয়া দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা খুবই দুরূহ। তাছাড়া অনুমোদন দেয়া সাংগঠনিক কাঠামোতে সাধারণ বীমার প্রিমিয়াম হার, সুবিধা ও শর্তাবলী নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে গঠন করা কেন্দ্রীয় রেটিং কমিটি বিবেচনায় নেয়া হয়নি। অথচ এই বিভাগের জন্যই কমপক্ষে ১৪ জন লোকবল প্রয়োজন।

এছাড়া পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ জন কর্মকর্তা কোনভাবেই পর্যাপ্ত নয়। তাই উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও কর্মকর্তা পদে ৮৪ জন লোকবল নিয়োগ অনুমোদনে অনুরোধ জানিয়েছে আইডিআরএ। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক পদের কর্মকর্তাদের জন্য ৪টি গাড়িসহ অতিরিক্ত আরও ৮টি গাড়ি অনুমোদনের দাবি জানানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দেয়া সাংগঠনিক কাঠামোতে গাড়ির সংখ্যা রাখা হয় ৬টি। এর মধ্যে চেয়ারম্যানের জন্য ১টি, সদস্য ও নির্বাহী পরিচালকদের জন্য ৪টি এবং অফিসের সাধারণ কাজের জন্য ১টি মাইক্রোবাস রাখা হয়। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, বর্তমানে জীবন বীমার গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটির ওপরে। প্রতিবছর ৫ লাখের ওপর বীমা এজেন্টের সনদ ইস্যু ও নবায়ন করতে হয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের।

এছাড়া ডাটা এন্টি, পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমতো আছেই। এসব কাজ এই লোকবল দিয়ে সুষ্ঠুভাবে করা কঠিন। তাই লোকবল আরও বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের লোকবলের বিষয়টিও উল্লেখ করেন আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান।

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

২৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: