কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাজধানীর ৪৯ থানা পুলিশের ওপর গোপন নজরদারি

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫
  • কেউ যাতে অপরাধে জড়িত হতে না পারে সেজন্য এই পদক্ষেপ

শংকর কুমার দে ॥ রমজান ও ঈদের সময়ে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাতে অপরাধী কার্যক্রমে জড়িত হতে না পারে সেজন্য রাজধানীর ৪৯ থানার পুলিশের ওপর গোপন নজরদারি শুরু করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গোয়েন্দা সংস্থা। ঈদের মওসুমে মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ লেনদেন, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে যাতে পুলিশ জড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য এই ধরনের নজদারির পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত রবিবার রাতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মাহফুজুর রহমানের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপোলে ৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাটি পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানান, রাজধানীর ৪৯ থানার মধ্যে যেসব থানা পুলিশের অতীত রেকর্ড ভাল নয় সেই থানাকে চিহ্নিত ও তালিকা তৈরি করে পুলিশের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সর্বাধিক। রাজধানীর ৪৯ থানার পুলিশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতার উচ্চ হার বিবেচনায় এনে একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় সর্বশীর্ষে আছে মিরপুর থানার নাম। তারপরেই রয়েছে উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানা। কোতোয়ালি, লালবাগ, ধানম-ি, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, আদাবর, শাহআলী, পল্লবী, দক্ষিণখান, কদমতলী, শাহাজাহানপুর থানার নাম অপরাধপ্রবণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব থানা এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হওয়ার দিক দিয়ে বেশি। গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় এই ধরনের তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কমবেশি সব থানাই গোয়েন্দা নজরদারির আওতাভুক্ত করার পক্ষে মতামত দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্র জানান, মিরপুর, শাহআলী, পল্লবী এই তিন থানার পুলিশের দিকে গোয়েন্দা নজরদারি আওতায় আনা হয়েছে সবচেয়ে বেশি। মিরপুর থানা এলাকায় চলন্ত মাইক্রোবাসে এক গার্মেন্টস কর্মী তরুণীর ধর্ষণের ঘটনার নিয়ে পুলিশী তদন্ত, হাইকোর্টে পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব ইত্যাদি ঘটনা ঘটে গেছে। মিরপুর থানা হেফাজতে সুজন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এক এসআইকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মিরপুর থানার পাশাপাশি শাহআলী থানাও একই ধরনের অপরাধ প্রবণতার ঘটনা ঘটে গেছে নিকট অতিতে। এই থানার এক এসআই মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই থানা এলাকায় টাকা পয়সার জন্য মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, গ্রেফতার, চাঁদাবাজির বদনাম রয়েছে। পল্লবী থানা এলাকায়ও একই ধরনের অপরাধ সংগঠি হচ্ছে। তাও আবার পুলিশের মাধ্যমেই এই ধরনের অপরাধ ঘটার কারণে এই থানার পুলিশী কার্যক্রমকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

সূত্র জানান, রাজধানীর ৪৯ থানার প্রায় সব এলাকাতেই অপরাধ প্রবণতা কম বেশি থাকলেও ইদের মওসুমে প্রায় সব থানার পুলিশী কার্যক্রমকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব থানার পুলিশ যাতে মাদক, চাঁদাবাজি, অবৈধ লেনদেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে উস্কানি বা সহায়তা ও নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে কিংবা জড়িয়ে পড়লে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এ জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের টিম ও গোয়েন্দা সংস্থাকে মাঠে নামানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রমজান ও ঈদের মওসুমে অপরাধীরা যেমন বেপরোয়া হয়ে ওঠে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কোন থানার পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য কোন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শাস্তি অনিবার্য। পুলিশের কার্যক্রমের উপর গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি হচ্ছে খুবই গোপনে। পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) মাহফুজুর রহমানের ৭ লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাটি রাজধানীর বাইরে ঘটলেও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা যাতে অপরাধে জড়িত হতে না পারে তার একটা সবুজ সংকেত হিসাবে নেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৫

২৩/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: