রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সেতু ভেঙ্গে ওয়াগন খালে ট্রেন যোগাযোগ চালু করতে আরও ৩ দিন লাগবে ॥ রেলমন্ত্র

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বেঙ্গুরা এলাকায় সেতু ভেঙে খালে তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সংসদে বিবৃতি দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ভেঙ্গে পড়া সেতুটির অস্থায়ী কাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য সিসি ক্রীব, জয়েস্ট, স্লীপার, রেল ও অন্যান্য সামগ্রী ব্রিজের পাশে আনা হয়েছে। অস্থায়ী কাঠামো হতে ওয়াগন সরানোর পরপরই অস্থায়ী কাঠামোর পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করে ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে আর ৩ দিন সময় লাগবে।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে অধিবেশনে ৩০০ ধারায় প্রদত্ত বিবৃতিতে মন্ত্রী জানান, এ দুর্ঘটনার পরপরই দায়িত্ব অবহেলার জন্য চট্টগ্রামের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম, উর্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সেতু) আকবর আহমেদ ফেরদৌসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য চীফ মেকানিক্যালের (পূর্ব) নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ কে আহ্বায়ক করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দুইটি ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করবে। বর্তমানে তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, বর্তমানে অস্থায়ী কাঠামোর পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান। অস্থায়ী কাঠামো এবং এর উপর রেলপথ পুনর্নির্মাণের পর লাইনচ্যুত ইঞ্জিন এবং ভূমিতে থাকা ওয়াগনসমূহ উদ্ধার করা হবে। উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করে ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করতে আর ৩ দিন সময় লাগবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থল সেতুর ওপর হওয়ায় রেল যোগাযোগ পুনর্¯’াপন ও উদ্ধার কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সেতুটির দুইটি অ্যাবাটমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছুদিন যাবৎ অস্থায়ী কাঠামোর ওপর দিয়ে সীমিত গতিতে ট্রেন চলাচল করছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনায় পতিত ট্রেনের তেলবাহী তিনটি ট্যাংক ওয়াগন থেকে কিছু ফার্নেস ওয়েল খালের পানিতে পড়ে যায়। খালের পানিতে পড়ে যাওয়া তেল যাতে চতুর্দিক ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য পরিবেশ অধিদফতরের পরামর্শমতে তেল অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই কিছু তেল আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে যা অপসারণের জন্য পরিবেশ অধিদফতরের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

মুজিবুল হক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী ট্রেন চট্টগ্রাম হতে দুর্ঘটনাস্থলে রওনা হয় এবং উদ্ধারকারী ট্রেনের ইঞ্চিন দুর্ঘটনায় কবলিত ট্রেনের পেছনের চারটি তেলবাহী ওয়াগন ও গার্ড ব্রেক গোমদ-ী স্টেশনে নিয়ে যায়। লাইনচ্যুত চতুর্থ ওয়াগনের তেল ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যতীত এ ওয়াগনটিকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এ কারণে একটি খালি ওয়াগন এবং তেল ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য পাম্প আনয়নপূর্ব তেলভর্তি ওই চতুর্থ ওয়াগনটি খালি করা হয় এবং লাইনের পাশে সরিয়ে রাখা হয়। তৃতীয় ওয়াগনটিকে সেতুটির অস্থায়ী কাঠামোর ওপর থেকে সরানো হয়েছে।

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

২২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: