কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সংসদে ও. কাদের চার দেশের মধ্যে সম্পর্কের সোনালী সেতুবন্ধ গড়ে উঠছে

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

সংসদ রিপোর্টার ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই চার প্রতিবেশী দেশ সন্দেহ-সংশয়ের দেয়াল ভেঙ্গে নির্মাণ করতে যাচ্ছে সম্পর্কের এক সোনালী সেতুবন্ধ। ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল চুক্তি’ সম্পাদিত হওয়ায় চার দেশের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অভিন্ন পরিবহন নেটওয়ার্ক। যা এই চার দেশের অর্থনীতিতে সঞ্চার করবে নবধারা এবং পারস্পরিক সম্পর্কে যোগ করতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা। উপ-আঞ্চলিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন সুদৃঢ়করণে এই চুক্তি যোগাযোগ কূটনীতির এক অনন্য মাইলফলক। আর এ অর্জনের মূল মানুষটি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার জাতীয় সংসদে সম্প্রতি ভুটানের থিম্পুতে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের মধ্যে সম্পাদিত বিবিআইএন মোটর-ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট নিয়ে ৩০০ ধারায় প্রদত্ত এক বিবৃতিতে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এই চুক্তির আওতায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে চার দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হবে। আমরা পাশাপাশি থেকেও বিচ্ছিন্ন থাকতে চাই না। উন্নয়ন যাত্রায় হতে চাই সহযাত্রী। সংশয় ও অবিশ্বাসকে পেছনে ফেলে গড়তে চাই সম্পর্কের সোনালী সেতুবন্ধ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আসন্ন ঈদ সামনে রেখে ঘুরমুখো মানুষের আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে মহাসড়কগুলোতে কোন ভোগান্তি হবে না এমন আশ্বাস দিয়ে বলেন, ঈদ সামনে রেখে আগামীকাল (সোমবার) সকল স্টেক- হোল্ডারদের নিয়ে একটি সভা করবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এদিনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হবে। তাই এবার ঈদে মহাসড়কগুলোতে কোন ভোগান্তি হবে না।

তিনি বলেন, আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা, ঢাকা মহানগরীর প্রবেশ এবং বহির্গমণ পয়েন্টগুলো যানজট মুক্ত রাখা, মহাসড়কে যানজট মোকাবিলা, সড়ক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে আমরা সক্রিয় রয়েছি। দেশব্যাপী সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীগণকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন দেশব্যাপী মহাসড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী রয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, সকল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখো মানুষ স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে এবং উৎসব শেষে কর্মস্থলে ফিরে আসতে পারবে ইনশাআল্লাহ। দেশের মহাসড়কগুলো কোথাও যানজটের কারণ হবে না।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চারলেনের মহাসড়ক নির্মিত হবে জানিয়ে মন্ত্রী ওয়াবদুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতুতে নির্মিত হবে চার লেনের রাস্তা। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কালো মেঘ কেটে এখন আলো ঝলমল করছে। পদ্মার দু’পারে এখন সৃষ্টির মহোৎসব। চলছে নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, ২ হাজার ৪ টন ক্যাপাসিটির হ্যামার এখন পদ্মা পারে চলে এসেছে। অক্টোবর হতে শুরু হতে যাচ্ছে মূল পাইলিংয়ের কাজ। এরইমধ্যে শুরু হয়ে যাবে নদী শাসনের মূল কাজ। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা সেতুতে চারলেন মহাসড়ক যুক্ত হবে।

চারদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার চুক্তি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সার্ব ফ্রেমের আওতায় একটি অভিন্ন সড়ক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার সর্বপ্রথম ভাবনাটি ভেবেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা আজ পল্লবিত হয়েছে। অনেকটা ইউরোপের আদলে চারদেশের মধ্যে চলাচল করবে ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়াও যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী পরিবহন। এতে চার দেশের মানুষের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কন্ট্রাক্ট প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে, যা দেশগুলোর অর্থনীতিতে সঞ্চার করবে গতিময়তা।

তিনি বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি তা সফল করতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অধিক সুদৃঢ়। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক উদ্যোগসমূহের প্রতি আমাদের সরকারের রয়েছে সুদৃঢ় আস্থা ও সমর্থন।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মহাসড়কের ১৯২ কিলোমিটারের মধ্যে ১৪০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা-জয়দেবপুর চারলেনের কাজও শেষ পর্যায়ে। আগামী ঈদে এসব মহাসড়কে কোন দুর্ভোগ- ভোগান্তি থাকবে না। মেট্রোরেল সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের যোগাযোগের নেট ওয়ার্ক মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ৮টি টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এরপর আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হবে।

রাজধানীর যানজট প্রসঙ্গে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজট নগর জীবনের সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনার নাম। এটা আমার একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এতে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় দরকার। সকলের সমন্বিত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে আমরা আশাকরি স্বস্তি দিতে পারব। সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার কথা তুলে বলেন, সড়ক মহাসড়কে এখনো ঝরছে তাজা প্রাণ। ইতোমধ্যে ১৪৪ টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে।

প্রকাশিত : ২২ জুন ২০১৫

২২/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: