মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জোড়া খুনের ‘একমাত্র আসামি হচ্ছেন’ সাংসদপুত্র রনি

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫, ১২:৫০ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ইস্কাটনে গভীর রাতে গুলি করে দুজনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে একমাত্র আসামি করে শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং সিআইডির ব্যালাস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি হচ্ছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আদালতে রনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিবে কি না তা আদালতের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হবে।”

এই মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে আছেন ৪২ বছর বয়সী রনি।

তার পিস্তলের গুলিতেই যে ওই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিআইডির ব্যালাস্টিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ভিকটিমদের গায়ে পাওয়া গুলি ও রনির পিস্তল একই ক্যালিবারের। রনির পিস্তলের গুলিতেই জোড়া খুন হয়েছে।

এ ঘটনায় শুধু রনিকেই দায়ী করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু রনির নামই থাকবে। এই জোড়া খুনে আর কেউ আসামি থাকবে না।

ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা রনির বন্ধু কামাল মাহমুদ ও গাড়িচালক ইমরান ফকির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রনির গুলিবর্ষণের কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া ওই সময় গাড়িতে থাকা রনির বন্ধু টাইগার কামালও পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

আলাদাভাবে তিনজনের দেওয়া জবানবন্দি হুবহু মিলে যাওয়ায় তদন্তে বেশ সুবিধা হয়েছে।

রনির বন্ধুদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, যে সময় ঘটনাটি ঘটে সে সময় সামনের চালকের পাশে বসেছিল রনি। জাহাঙ্গীর নামে এক বন্ধুকে নামিয়ে গাড়ির পেছনে ছিল টাইগার কামাল ও কামাল মাহমুদ।

“যানজটে পড়ে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি গুলি ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই বন্ধুই বলেন, ‘এটা কী করলি রনি?’ সেই সময় জবাবে রনি বলে, ‘কিছু হবে না ফাঁকা গুলি ছুড়েছি’।

“এসব জবানবন্দির ভিত্তিতে মনে হয়েছে রনিই দোষী। গাড়িতে যারা ছিল তারা নয়।”

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল জানান, ১৩ এপ্রিল গভীর রাতের ওই ঘটনার পর সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসাবে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি এমপির ছেলে।

ওই দিন রাত পৌনে ২টার দিকে নিউ ইস্কাটনে একটি কালো প্রাডো গাড়ি থেকে রাস্তায় এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে দৈনিক জনকণ্ঠের অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী ও রিকশাচালক আবদুল হাকিম নিহত হন।

এ ঘটনায় নিহত হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি সাদা মাইক্রোবাস থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে তাতে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

পরে তদন্তে কালো রংয়ের একটি প্রাডো গাড়ি থেকে সাংসদপুত্র রনির গুলি ছোড়ার বিষয়টি বেরিয়ে আসে বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ওই গাড়িটি এরইমধ্যে জব্দ করেছে পুলিশ।

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫, ১২:৫০ পি. এম.

২১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: