আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাগর আর পাহাড়ে অন্যরকম দিন

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

‘জলের সঙ্গে আছে জলের গভীর পরিচয়/সমুদ্র তাই ঐক্যবদ্ধ/পাহাড় ততো নয়/পাহাড় হলো একটা থেকে অন্যটা বেশ দূরে/কিন্তু সাগর মহাসাগর বাধা একই সুরে’ ‘ঐক্যবদ্ধ জল’ কবিতায় কবি নির্মলেন্দু গুণ সাগর-মহাসাগর মিশে যাওয়া এবং পাহাড়-পাহাড় দূরে থাকার তথা দুই ভিন্ন ধর্মের কথা এখানে বলেছে। সেই ভিন্নধর্মী সাগর ও পাহাড়ে অন্যরকম কিছু দিন পার করে এলাম আমরা। শিক্ষা জীবনের অন্যতম একটি সময় শিক্ষা সফর নামে প্রমোদভ্রমণ। পর পর দুইবার তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে এলো কাক্সিক্ষত সেই দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাড থেকে রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশে রওনা দিলাম আমরা। আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষের কৃষি অনুষদের শিক্ষা সফরের ছয় নম্বর গ্রুপ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পৌঁছি পরেরদিন দুপুরে সেখানে দুই রাত এবং দুই দিন অবস্থান করি। এর মধ্যে সমুদ্রে গোসল, তীরে ফুটবল খেলা, হৈ-হুল্লো চলতে থাকতে। কক্সবাজারে হিমছড়ি, ইনানী বীচ, লাবনী পয়েন্ট, সুগন্ধাতে আমাদের পার হয় আমাদের মধুর সময়গুলো। সবার মনে বাঁজতে থাকে ‘সাগরের তীর থেকে মিষ্টি কিছু হাওয়া এনে/তোমার কপালে ছোঁয়াবো গো/ভাবি মনে মনে’

পরে রওনা দেই পার্বত্য বান্দরবানের দিকে। সেখানে দুপুরে পৌঁছি। তারপর চাঁদের গাড়ির সওয়ারি হয়ে ঘুরে বেড়াই বৌদ্ধদের স্বর্ণমন্দির, নীলাচল, মেঘলা অবকাশ কেন্দ্র। পরের দিন সকালে রওনা দেই নীলগিরির দিকে। সেখানে মেঘ, পাহাড়, আকাশের অপূর্ব মিতালী আমাদের নিয়ে যায় অন্যরকম এক জগতে। পরে রওনা হই রাঙ্গামাটির দিকে পাহড়েরর ওপর শহরটিতে যেতে পাহাড়েরর আঁকাবাঁকা, সরু, ঢালু পথ আমাদের কখানও করেছিল রোমাঞ্চিত, আবার ভয়ে করেছিল শিহরিত। তবে সব ভয়কে ছাঁপিয়ে সকলের কণ্ঠে বেঁজে ওঠে ‘লাল পাহাড়ের দেশে যা/রাঙ্গামটির দেশে যা/ইত্থাক তুকে মানাইছে না রে/ইক্কেবারে মানাইছে না রে’। রাঙ্গামাটি লেক, রাজবন বিহার ঘুরে রওনা হই সিলেটের পথে। আমাদের গ্রুপের তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. আজহারুল ইসলাম ও ড. মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে আমরা ঠিকঠাকভাবে পৌঁছাতে থাকি আমাদের গন্তব্যে। বাসের ভেতর চলতে থাকে গান-নাচ আর আড্ডা। আমাদের গ্রুপের নিয়াজ, সুমি ও শোয়েবকে নিয়ে চলে ফ্যামিলি ফ্যামিলি বলে খেঁপানো খেলা। সোনালি, শিহাব আর নিতুল লাগত একে অপরের পিছে। চলেছে গৌরাঙ্গ আর পৃথুলার হেয়ালি। এছাড়াও কণ্ঠে কণ্ঠে মিলিয়ে গেয়েছি, নেচেছি, ঘুরেছি জুয়েল, সুমি, আজিজা, ইফাদ, সুজন, একরামুল, লাবনী, বাঁধন, বুশরা, সেফরুন, তাপস, ইনজামাম, আশা, সাইফুল, কল্পিতা এক সঙ্গে আমরা সকলে মিলে। তবে সবার এত হৈ-হুল্লোর মধ্যে সর্বদা নীরবে থেকেছে সুস্মিত ও দীপা। কোন কিছুই যেন তাদের ছুঁতে পারেনি। মহাসড়কের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছি। আর চলেছি একখান থেকে আর একখানে। সিলেটের জাফলংয়ে যাওয়ার পথে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছিল পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাগুলো।

সবাই বিমোহিত হয়ে দেখেছি সেসব ঝর্ণা আর ভেবেছি পাহাড় এত কাঁদতে পারে কি করে? পরে জাফলংয়ে পৌঁছার শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সবাই উপভোগ করি খরস্রোতা নদী আর ভারতরে মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের ওপর নানা রঙ-বেরঙের সারি সারি বাড়ি। এরপর যাই ন্যাশনাল টি স্টেট এ চায়ের বাগান দেখতে। গত ছয় রাত পাঁচ দিনের ঘোরাঘুরি ক্লান্তি ধরা পড়েছিল সেদিন এসে। সবাই একই প্রতীক্ষায় ছিল বাসে তাড়াতাড়ি ফেরার। তবে ছবি তোলাতে কারও তেমন কোন ক্লান্তি ছিল না। সাত রাত আর ছ’দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটে গেছে। এ সময় মধুর সময় খুব কমই পাওয়া যায় এ ছোট জীবনে। সফরের সবসময় ধরে আনন্দ আর হাসি থাকলেও দু’একটি ছোটখাট অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা কোন কারণে পছন্দের কোন জায়গায় না যাওয়ার একটু রোদন তো আছে তবে যা যা পেয়েছি তার ক্ষেত্রে অতটুকু রোদন কিছুই না।

আহাদ আলম শিহাব

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

২১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: