কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

টুইটার গত বছর আয় করেছে ১১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫
  • গ্রাহক সংখ্যা মে পর্যন্ত ৩ কোটি ২ লাখ

ফিরোজ মান্না ॥ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার গত বছর আয় করেছে এক দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় ১১ হাজার ২ শ’ কোটি টাকা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রথম প্রান্তিকের কোন হিসাব প্রকাশ করেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিস্কো শহরে টুইটারের সদর দফতর। ৩ হাজার ৯ শ’ কর্মকর্তা কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। এ বছরের মে মাস পর্যন্ত তাদের গ্রাহক বা এ্যাকাউন্ট সংখ্যা ৩০ কোটি ২০ লাখ (৩ শ’ ২ মিলিয়ন)। প্রতিষ্ঠানটির মূল আয় আসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। এর বাইরে তাদের বাড়তি ডাটা বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির কাছে বিক্রি করেও বিরাট অংকের টাকা আয় করে থাকে। টুইটারের প্রতিষ্ঠাতারা হলেন- জ্যাক ভরসে, নোয়া গ্লাস, ইভান উইলিয়াম ও বিজ স্টন। প্রায় ৯ বছরের মধ্যে টুইটার বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

২০০৬ সালের ১৫ জুলাই টুইটার চালু হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে টুইটারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ডিক কস্টোলো। তিনি সম্প্রতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর স্থলে টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি আগামী ১ জুলাই থেকে অন্তর্বর্তী নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করবেন। স্থায়ীভাবে কেউ এ পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

তথ্য প্রযুক্তিবিদরা বলেন, টুইটার ফেসবুকের মতই একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট। ফেসবুকের মতই টুইটারে একটি এ্যাকাউন্ট খোলার পর তাতে স্ট্যাটাস আপডেট, কারো ওয়ালে পোস্ট করা বা কারো ওয়ালে কমেন্ট ইত্যাদি করা যায়। ফেসবুকের মত টুইটারে ফ্রি সাইন আপ করা যায়। তবে টুইটারে কিছুটা ব্যতিক্রম তো রয়েছে। ফেসবুকে কিছু পোস্ট করা হচ্ছেÑ স্ট্যাটাস আপডেট আর টুইটারে একে বলা হয় টুইট। ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো যায়। কিন্তু টুইটারে ফলো করা যায়। কাউকে ফলো করলে ওই ব্যক্তির জন্যে ফলোয়ার আর কেউ যদি আপনাকে ফলো করে তাহলে আপনি হচ্ছেন ফলোয়িং। যে কোন কিছু সম্পর্কে আপনি মাত্র ১৪০ ক্যারেক্টারের পোস্ট করতে পারবেন। শেয়ার করতে পারবেন ছবি ও আইডিয়া। ছোট পোস্টগুলোর জন্য টুইটার এখন ফেসবুকের মতোই জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম।

এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে, টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা কস্টোলোর ওপর অখুশি ছিলেন। এক বিবৃতিতে কস্টোলো জানান, টুইটার দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি খুবই গর্বিত। টুইটার জানিয়েছে, টুইটারের পরবর্তী প্রধান নির্বাহী নিয়োগে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কস্টোলো পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন এমন ঘোষণা দেয়ার পর টুইটারের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কস্টোলো বলেন, ‘টুইটার দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি খুবই গর্বিত এবং এ প্রতিষ্ঠানে আমার ছয় বছরের কর্মজীবনে কর্মীরা সবাই মিলেমিশে কাজ করেছে। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ টুইটারে অব্যাহত তদারকির কারণে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন এবং তিনি মনে করেন, এটা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কোন সহায়তা করবে না। পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তী প্রধান নির্বাহী খুঁজছে কিনা এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ডরসি বলেন, এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কাজ করবে। প্রধান নির্বাহী প্রার্থী কোম্পানির ভিতর ও বাইরে থেকে হতে পারে। তবে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে-তাকে অবশ্যই টুইটার ব্যবহারকারী হতে হবে।

এদিকে টুইটার নিয়ে অনেক মজার সব গল্প রয়েছে। অনেকেই মনে করেন এটি আসলে ফেসবুকের আরেকটি সংস্করণ। আসলে বিষয়টি তা নয়। ফেসবুকে সঙ্গে সঙ্গে মানুষ মজা পেয়ে থাকেন। টুইটারের মজাটা একটু একটু করে বাড়ে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে টুইটার ফেসবুকের থেকেও অনেক বেশি মজার, যদি সেভাবে ব্যবহার করা হয় এই টুলকে। টুইটারে দুটো গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে। প্রোফাইল ও হোম। প্রোফাইল হচ্ছে সেই সব যা আপনার অনুসারীরা দেখতে পাবে। তবে হোম হচ্ছে আপনার নিজের ভুবন যা একমাত্র আপনিই দেখতে পাবেন। এখানে টুইটারে বন্ধু বলে কিছু নেই। এখানে সবাই অনুসারী। ফলোয়িং এবং ফলোয়ার দুটো দল রয়েছে। আপনি যাদের অনুসরণ করছেন তাদের যে কোন স্ট্যাটাস আপডেট আপনার হোমে চলে আসবে। আবার আপনাকে যারা অনুসরণ করছে, তাদের কাছে চলে যাবে আপনার আপডেট। এছাড়াও আপনার সব আপডেট আপনার প্রোফাইল পেইজেও দেখাবে। স্ট্যাটাস আপডেট করতে আপনাকে হোমে যেতে হবে। আপনার স্ট্যাটাস লিখে আপডেট বাটনে ক্লিক করলেই নুতন স্ট্যাটাস সেট হয়ে যাবে। এই স্ট্যাটাস আপনার প্রফাইল পেইজে বড় করে দেখাবে এবং আপনার ফলোয়ারদের হোম পেইজেও পোস্ট হয়ে যাবে। জানা গেছে, ফেসবুকে যেমন স্ট্যাটাসের রিপ্লাইগুলো কমেন্ট আকারে জমতে থাকে, টুইটারে কিন্তু তা হয় না। এখানে কোন স্ট্যাটাসে রিপ্লাই দিতে হলে (কারো প্রোফাইল থেকে অথবা আপনার হোম পেইজে দেখান ফলোয়ারদের স্ট্যাটাস থেকে) আপনাকে সেই স্ট্যাটাসের ওপর মাউস পয়েন্টার নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই রিপ্লাই এবং রিটুইট বলে দুটো অপশন চলে আসবে। সেখানে রিপ্লাইতে ক্লিক করলে আপনার হোমের স্ট্যাটাস আপডেট করার বক্সে @ চিহ্নসহ যাকে রিপ্লাই দিচ্ছেন তার নাম চলে আসবে। তাহলে সেই বক্সে @ঢ়ৎরুধহশধপযড়ঢ়ৎধ কথাটা চলে আসবে। এবার আপনি যা লিখবেন তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে রিপ্লাই হিসেবে চলে যাবে। রিপ্লাই পাঠানোর বিষয়টি হচ্ছে-আপনাকে যারা রিপ্লাই দিচ্ছে সেটা আপনি দেখবেন কি করে? তাছাড়া কোন স্ট্যাটাসের রিপ্লাই কোনটা, সেটাই বা বুঝবেন কি করে? উত্তর লুকিয়ে আছে আপনার হোম পেইজে। আপনার হোমে @ঢ়ৎরুধহশধপযড়ঢ়ৎধ এর পর আপনার নাম লেখা একটা অপশন আছে। এই অংশে ক্লিক করলেই বের হয়ে যাবে আপনাকে কে কে রিপ্লাই দিয়েছে। এটাতো টুইটার ব্যবহারের বিষয়।

টুইটার নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার জনকণ্ঠকে বলেন, পৃথিবীতে এমন কোন সেবা নেই যে, সেই সেবা বিনা মূল্যে দেয়া হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে যে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কোন টাকা নেয়া হচ্ছে না। আসলে প্রতিটি সেবার মধ্যেই অর্থের বিষয় রয়েছে। প্রথমত ইন্টারনেটের একটা বিলতো আছেই। এখান থেকে একটি অংশ এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায়। তাছাড়া এদের রয়েছে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপনের ব্যবসা। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর কাছে বাড়তি ডাটা বিক্রি করা। এসব থেকে বছরে হাজার হাজার কোটি কোটি টাকা তারা আয় করছে। টুইটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ফেসবুকের মতো না হলেও এই মাধ্যমটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ কারণে তাদের আয়ের উৎসগুলো থেকে বিরাট অংকের টাকা আসছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগের ঘোষণাটা মূলত ব্যবসা সংক্রান্ত। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। হঠাৎ করে তার পদত্যাগের কোন কারণ ছিল না। ব্যবসা যখন এত বড় হয়েছে-তখনই দেখা দিয়েছে মতবিরোধ। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

আইএসপি এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আকতারুজ্জামান মঞ্জু জনকণ্ঠকে জানান, টুইটার একটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। টুইটারে বিজ্ঞাপনের রেট ও বাড়তি ডাটা বিক্রির দামও অনেক বেশি। কারণ এই যোগাযোগের মাধ্যমটি বিশ্বের সেলিব্রেটি, রাষ্ট্র নায়ক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ টুইটার ব্যবহার করেন। তাই এই সাইটে ফেসবুকের মতো যা খুশি তাই পোস্ট করা যায় না। বলতে গেলে এটি একটি পশ সাইট। এখানে মূলত বয়স্ক মানুষের এ্যাকাউন্ট বেশি। এখানে ফেসবুকের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা দেয়া হয়ে থাকে। কেউ চাইলে তার প্রোফাইলকে রেস্ট্রিক্ট করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ চাইলেই তাকে ফলো করতে পারবে না।

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

২১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

অন্য খবর



ব্রেকিং নিউজ: