মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চারদিনেও বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫
চারদিনেও বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ মিয়ানমারে তুলে নিয়ে যাওয়া টেকনাফ বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়নের নায়েক আবদুর রাজ্জাককে চার দিনেও ফেরত দেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। যদিও গত চার দিন ধরে বিজিবি সদস্য রাজ্জাককে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে মুঠোফোনে আশ্বাস দিয়ে আসছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি। মিয়ানমার উপকূলে উদ্ধার হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশীকে হস্তান্তর বিষয়ে শুক্রবার সকালে ঘুমধুম সীমান্ত বরাবর দেশটির ঢেকিবনিয়ায় দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফায় পতাকা বৈঠকে বিজিপি কর্মকর্তারা অতি দ্রুত নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিবে বলে বিজিবি কর্মকর্তাদের আশ্বাস দেয়। সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কক্সবাজার বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এসএম আনিসুর রহমান বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নায়েক রাজ্জাককে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আরও একটি পতাকা বৈঠকের প্রয়োজন রয়েছে।

এদিকে পতাকা বৈঠকে বসতে আমন্ত্রণ জানিয়ে বুধবার সকাল থেকে বিজিবি কর্মকর্তাগণ মিয়ানমারের বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে চললেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চারদিন যাবত মিয়ানমারের পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকে বসার কোন ধরনের গ্রীন সিগন্যাল পৌঁছেনি বিজিবির কাছে। প্রসঙ্গত বুধবার ভোরে নাফনদীর জাদিমুরা পয়েন্টে টহলদান কালে বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় মিয়ানমারের বিজিপি। এতে বিপ্লব নামে বিজিবির এক সিপাহী আহত হন এবং অপহরণ করে সে দেশে নিয়ে যাওয়া হয় নায়েক আবদুর রাজ্জাককে। ঘটনার দিনই বিজিপিকে পতাকা বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেয় টেকনাফ ৪২ বিজিবি কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে বসার জন্য বিজিপি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সময় নির্ধারণ করলেও পরে কোন কারণ না দেখিয়ে তা বাতিল করে দেয় মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীরা। এরপর প্রতিদিন বিজিবি পতাকা বৈঠকে বসার আহ্বান জানালেও এতে সাড়া দিচ্ছে না বিজিপি। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজারের টেকনাফ স্থল বন্দর রেস্ট হাউসে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলে তাতেও কোন সাড়া মেলেনি বিজিপির। টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ আবজার আল জাহিদ জানান, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বিজিপি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পতাকা বৈঠকে বসার কথা ছিল। এ জন্য অপেক্ষায় ছিল বিজিবি। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে তখনও কোন সাড়া মেলেনি। মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় পতাকা বৈঠকে বসার জন্য দিন তারিখ ঠিক করতে পারছে না বলে ওপারের একটি সূত্র দাবি করেছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আশাবাদ ॥ মিয়ানমারে তুলে নিয়ে যাওয়া টেকনাফ বিজিবি ৪২ব্যাটালিয়নের নায়েক আবদুর রাজ্জাককে চারদিনেও ফেরত দেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আশা প্রকাশ করে বলেছেন, দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। যে কোন সময় নায়েক আবদুর রাজ্জাককে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মুক্তি দেবে। এদিকে নায়েক আবদুর রাজ্জাকের হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো ছবি প্রকাশ হওয়ার পরে বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজিবি নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার বিবিসিকে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ চলছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। নায়েক রাজ্জাক সুস্থ আছেন। যে কোন সময় তিনি ছাড়া পেতে পারেন। এছাড়া এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ॥ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ তাদের হাতে আটক নায়েক আবদুর রাজ্জাকের যে ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছে তা নিয়ে দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করছেন এবং আটক সীমান্তরক্ষীর সঙ্গে অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ তুলছেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। ফেসবুকে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে আবদুর রাজ্জাককে হাতকড়া পরানো অবস্থায় একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর পরনে লুঙ্গি আর বিজিবি’র ইউনিফর্ম। আরেকটি ছবিতে দেখা যায় তার সামনে কিছু অস্ত্র রাখা। রাজ্জাকের মুখে আঘাতের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি সংবাদপত্র মাযাওযাদিতে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেশী একটি দেশের একজন সীমান্ত রক্ষীকে ধরে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যে আচরণ করেছে তাকে বাংলাদেশের অনেকেই অবমাননাকর এবং চরম আপত্তিকর বলে মনে করছেন।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ প্রকাশ ॥ মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নায়েক আবদুর রাজ্জাককে অপহরণ করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে অক্ষত অবস্থায় বাংলাদেশের এ সৈনিককে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। বুধবার সকালে নাফ নদীতে টহল দেয়ার সময় মাদক চোরাচালান সন্দেহে দু’টি নৌকায় তল্লাশি করার সময় মিয়ামারের রইগ্যাদং ক্যাম্পের বিজিপির একটি টহল দল ট্রলারে করে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে, অপরদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় অহেতুক গুলি করে পাশাপাশি দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে মিয়ানমারের বিজিপি। এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা থেকে বিরত থাকতে নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারের বিজিপি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০১৫

২১/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: