মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মুক্তিপণের টাকা তুলতে গিয়ে ঢাকায় মহিলা গ্রেফতার

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫, ১২:৩০ এ. এম.
  • দ. আফ্রিকায় অপহরণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অপহৃত এক বাংলাদেশী যুবকের মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে পুরান ঢাকার একটি ব্যাংক থেকে এক মহিলা গ্রেফতার হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মহিলা আলেয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি পুলিশ। আলেয়ার সূত্র ধরে অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে আলেয়ার স্বামী ও তার দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ। তাদের সে দেশের পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম (সংঘবদ্ধ অপরাধ) বিভাগের বিশেষ পুলিশ মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, গত ২ জুন জোহানেসবার্গে নিখোঁজ হন নাফিজ নামে এক বাংলাদেশী যুবক। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায়। গজারিয়ার বাড়িতে বর্তমানে নাফিজের মা বসবাস করছেন। নাফিজ ৯ বছর ধরে সেখানে তার বোন তানিয়া ও তানিয়ার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত নাফিজের বোন তানিয়াকে অপহরণকারীরা ফোন করে নাফিজকে অপহরণের খবর জানায়। নাফিজের মুক্তিপণ হিসেবে সাত লাখ টাকা দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা ঢাকায় বসবাসরত মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা আলেয়ার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে দিতে বলা হয়।

এ ব্যাপারে নাফিজের বোনজামাই নাফিজের মায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। থানায় মামলা হয়। মামলা দায়েরের পর আলেয়ার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নম্বরটির ওপর নজরদারি করতে থাকে সিআইডি।

অপহরণকারীরা মুক্তিপণের সাত লাখ টাকা আলেয়ার ব্যাংক এ্যাকাউন্টে দিতে বলে। নাফিজের বোন তানিয়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থানরত তার মাকে টাকাগুলো আলেয়ার এ্যাকাউন্টে দিতে বলেন। নাফিজের মা বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সাত লাখ টাকা আলেয়ার এ্যাকাউন্টে ক্যাশ করে দেন। এর পর আলেয়াকে ব্যাংকে টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আলেয়া টাকা তুলতে ওই ব্যাংকে গেলে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ব্যাংক এ্যাকাউন্টটি আগে থেকেই ফ্রিজ করা হয়েছিল তা বুঝতে পারেননি আলেয়া। সেখানে আগ থেকে ছদ্মবেশে ওঁৎ পেতে থাকা সিআইডি পুলিশ টাকাসহ আলেয়াকে (২৮) বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেফতার করে। তাকে সিআইডি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জিজ্ঞাসাবাদে আলেয়া জানিয়েছে, তার স্বামী তাজুল ইসলাম আলেয়ার এ্যাকাউন্টে সাত লাখ টাকা জমা হবে বলে জানান। টাকাগুলো তুলে জমি কিনতে বলা হয়। নাফিসেজর মা আলেয়ার এ্যাকাউন্টে সাত লাখ টাকা জমা হওয়ার ফলে অপহরণের সঙ্গে আলেয়ার স্বামীর জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। আলেয়ার গ্রেফতারের পর সিআইডিকে দেয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সেদেশে থাকা আলেয়ার স্বামী ও তার দুই বন্ধুকে নাফিজ অপহরণে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ।

সিআইডি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শুক্রবার রাত নয়টা পর্যন্ত অপহৃত নাফিজের হদিস মেলেনি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অপহরণের ঘটনাটির সঙ্গে বাংলাদেশী, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানী অপহরণকারী চক্র জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫, ১২:৩০ এ. এম.

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: