কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বন্ধু বাবা, ভালবাসার বাবা

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫
  • ইব্রাহিম নোমান

বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মিশেল বাবা-সন্তান সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সঙ্গে কোন কিছুরই তুলনা হয় না। যা অতুলনীয় সম্পর্কের বন্ধনে বাঁধা। আমাদের দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালন করা হয়। মানে এ বছর ২১ জুন বাবা দিবস। বাবা দিবস পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের না হলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশ দিবসটি পালন করে। বাবা দিবস আমাদের দেশে নতুন হলেও অপরিচিত নয়। প্রতিবছর জুনের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে বাবা দিবস পালন করা হয়। এসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

বাবা দিবসের প্রচলন

বাবা দিবসের প্রচলন কিভাবে শুরু হয়, তা কি জান? এর পেছনে আছে একটি মজার ঘটনা। কি সেই ঘটনা? চলো তা জেনে নিই। সোনোরা লুইস ডডের মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যখন মারা যান, তখন ডডের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। আর ডডের বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন সবে যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। তারপর থেকেই সে দেখেছে তার বাবা তাদের ছয় ভাইবোনকে মানুষ করার জন্য রাত-দিন কি কঠিন পরিশ্রমই না করছেন। তারা তাদের মায়ের অভাব বুঝতেই পারেনি। যেন বাবাই তাদের মা। বাবাই ছিল তাদের সবকিছু।

১৯০৯ সালে ডডের বয়স যখন ২৭ তখন সে অবাক হয়ে দেখল, মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন আছে, যে দিনটি বিশ্বের প্রায় সবাই পালন করে। অথচ বাবার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের কোন দিন নেই। যেন বাবাকে কেউ ভালই বাসে না।

ডড ভাবল মা দিবসের মতো বাবা দিবস থাকলে কেমন হয়! কিন্তু তার এ ভাবনা যখন অন্যরা শোনে তখন হেসেই বাঁচে না। কিন্তু ডড এতে ভীষণ কষ্ট পেলেও দমল না একদম। বরং তার মধ্যে জেদ আরও প্রবল হয়ে উঠল। কারণ ও তার বাবাকে প্রচ- ভালবাসে। তাই সে আন্তরিকভাবে বাবা দিবস পালনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে লাগল। আন্তরিক প্রচেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রম যে সফলতার মূল চাবিকাঠি, সেটা আরেকবার প্রমাণিত হলো। কারণ তার পরের বছর মানে ১৯১০ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকান নামে ছোট্ট শহরে (ডডের নিজ শহর) কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পালিত হলো বাবা দিবস।

এরপর ১৯১৬ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিবসকে সমর্থন করেন। এক সময় এটা তাদের জাতীয় আইনসভাতেও স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

বছরের এই একটি দিন পৃথিবীর সব বাবার জন্য উৎসর্গকৃত। এর মানে এই নয় যে, বছরের একটি দিনই বাবাকে আমরা স্মরণ করি। কিন্তু এই একটি দিনকে দুনিয়ার সব বাবার প্রতি উৎসর্গ করে তাদের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বছরের প্রতিটি দিন বাবারা আমাদের জন্য কত কষ্ট করেন, কত ত্যাগ করেন শুধু আমাদের মুখে হাসি ফোটাবার জন্যই। মনে করিয়ে দেয় বাবার সঙ্গে আমাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতিগুলো।

অলঙ্করণ : সোহেল আশরাফ

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: