কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রাখাইন বর-কনের সামনে ঢালা হয় জল

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক হতেই উভয় বাড়িতে সাড়ম্বরে তোড়জোড় শুরু হয়। তৈরি হয় রাখাইন সম্প্রদায়ের নিজস্ব নানা স্বাদ ও বর্ণের পিঠা। রাখাইনদের খাবারের তালিকায় শূকরের মাংস সবার আগে রাখা হয়। সঙ্গে থাকে চোলাই মদ, যা তারা নিজেরা তৈরি করে। বিয়ের দিন ভোরে স্ব স্ব বাড়িতে বর ও কনেকে স্নান করানো হয়। এতে অংশ নেয় বাড়ির সধবা ও কুমারী মেয়েরা। স্নানের আগে মন্দির থেকে ঠাকুর এনে প্রার্থনা করানো হয়, যাতে বর-কনের বিবাহিত জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। বরযাত্রীরা মিছিল করে কনের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। শোভাযাত্রার প্রথম সারিতে থাকে সধবা ও কুমারী নারীরা। এগুলোকে বলা হয় ‘ঔ’। এগুলোতে কনের জন্য গয়নাগাটি, কাপড়চোপড় ও প্রসাধনসামগ্রী সাজানো থাকে। এর একটিতে থাকে সরু বিন্নি ধানের চাল, যা দিয়ে বিশেষ ধরনের পায়েস রান্না করা হয়। বিয়ের মধুলগ্নে বর-কনেকে ওই পায়েস খাওয়ানো হয়। পায়েসকে রাখাইন ভাষায় ‘লাছং’ বলা হয়। বরযাত্রী পুরুষদের মধ্যে কয়েকজনের কাঁধে থাকে ঐতিহ্যবাহী লম্বা ধারালো ছ্যানা দা, যার মধ্য দিয়ে তারা তাদের সাহসিকতার চিরায়ত রূপ প্রকাশ করে। আবার অনেকের হাতে থাকে বিশেষ ধরনের তামাকের পাইপ, আমপাতায় শোভিত পানির ঘট বা কলস এবং পাখা। বরযাত্রীদের পরনে থাকে একই ভাবে ঐতিহ্যের পোশাক।

যেমন নারীরা পরে লুঙ্গি বা ঘাঘরা। সঙ্গে ছোট ব্লাউজ। মাথার উপর এক টুকরা রুমালের মতো কাপড় বা ওড়না। আর পুরুষরা পরে লুঙ্গি ও ছোট ফতুয়া। রাখাইন ভাষায় বরযাত্রীকে ‘চামেলং নে-আকোচু’ বলা হয়। বরের বাড়ি থেকে কনের বাড়ি পর্যন্ত পুরো পথে নানা ধরনের বাজি ফোটানো হয়। সঙ্গে নিজস্ব ঘরানার বাদ্য-বাজনা। বিয়েবাড়িতে নারীরা পরিবেশন করে নিজস্ব ভাষার বিয়ের গান।

Ñশংকর লাল দাশ, গলাচিপা থেকে

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: