রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওঠ মেয়ে তোর বিয়ে

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

বার্মা তথা মিয়ানমারের বাসিন্দা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আকৃতি, কথা-বার্তা, খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরা প্রায় কক্সবাজার অঞ্চলের বাসিন্দাদের মতো। যদিও মিয়ানমার তথা আরাকান রাজ্যে শাড়ি এবং থ্রি-পিচ, টু-পিচ এবং পুরুষদের প্যান্ট পরার অভ্যাস নেই। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বসবাসকারী, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় আশ্রয় ক্যাম্পে এবং অস্থায়ী বস্তিতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা এদেশের নারী-পুরুষদের মতো শাড়ি, থ্রি-পিচ, টু-পিচ এবং প্যান্ট-শার্ট পরার অভ্যাস করে ফেলেছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের সঙ্গে বাংলাদেশীদের বিয়ে সরকারীভাবে নিষিদ্ধ হলেও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রোহিঙ্গা ললনাদের সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের বিয়ে হয়েছে, এমন পরিবারের সংখ্যা অনেক। রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এক একজন পুরুষের অন্তত ৩-৪টি বউ রয়েছে। এদের মধ্যে কাউকে তালাক দেয়া হলেও পরবর্তীতে অপর রোহিঙ্গা তরুণীকে ফের বিয়ে করে নিচ্ছে রোহিঙ্গা যুবকরা। তবে ওই দুইটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক স্ত্রী নিয়ে দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে দেয়া পরিবারও রয়েছে কিছু কিছু। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ের বয়স পর্যন্ত মেয়েদের বাবা-মা অপেক্ষা করে না। পুরুষদের বেলায়ও ছেলে যুবক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিশোর-কিশোরীদের বিয়ে হয়ে থাকে বেশি। ওইসব বিয়েতে লাগে না ক্যাম্প ইনচার্জের বা ক্যাম্প পুলিশের অনুমতিপত্র। অভিভাবকদের বা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠলেই হয়। পরবর্তীতে ধুমধামের আয়োজন করে বিয়ে পড়িয়ে দেয় স্ব স্ব শেডের পাশের মসজিদের ইমাম। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসব বিয়ে বাড়িতে দাওয়াত পড়ে শুধু বর-কনের পরিবার বসবাসকারী শেডের বাসিন্দাদের। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার পর তাদের মধ্যে অনেকের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এমন কোন শেড বা কক্ষ নেই, যে কক্ষে এক পিতার ৮-১০টি সন্তান নেই। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিয়ের আয়োজনটা তাদের জন্য খুবই সহজ।

কুশিক্ষা ও কুসংস্কারে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা জাতির অনেকের বদ অভ্যাস শুধু শুধু বিয়ে করা এবং পরবর্তীতে তালাক দেয়া। কারণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একাধিক বিয়ে করলেও স্ত্রীদের ভরণপোষণ দিতে হয় না রোহিঙ্গা যুবক বা স্বামীকে। ফ্রি রেশন, সরকার নির্মিত শরণার্থী বসবাসের জন্য শেড, পানি ও লাকড়ি-সাবান সবই পাচ্ছে তারা বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে।

Ñএইচএম এরশাদ

কক্সবাজার থেকে

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: