মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

সমগোত্রীয় বিয়ে গারো সমাজে স্বীকৃত নয়

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

গারো বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা চলে তিন দিন। মাতৃতান্ত্রিক গারোসমাজে জামাইকে মেয়ের বাড়িতে নিয়ে আসেন মেয়ের মামা (ছ্রা)। এজন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচন ও বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার পর লাল বেনারসি শাড়ি পরা কনের যাত্রা হবে বরের বাড়ির দিকে। মেয়েপক্ষ পুরোহিতসহ পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবী, গ্রামের মাতবর ও লোকজন নিয়ে বাগদানের জন্য যাবে। কনেপক্ষ একটি খাসি ও প্রয়োজনীর খাবারের উপকরণ নিয়ে যাবে ছেলের বাড়িতে। মেয়েপক্ষ থেকে রান্না করা খাবার দেয়া হবে ছেলের স্বজনদের। এ সময় ছেলেপক্ষ থেকে ফুলের মালা, মিষ্টি ও নেচে-গেয়ে কনে যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাবে। এর আগে ছেলের গায়ে হলুদ হবে। পরে পুরোহিত অথবা যাজকের উপস্থিতিতে প্রার্থনা, আশীর্বাদ, ধর্মীয় গান ও আংটি পরানোর মাধ্যমে বাগদান সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ছেলের পক্ষ থেকে আনা উপহারসামগ্রী মাতবরদের সামনে মেলে ধরা হয়। এই আনুষ্ঠানিকতার পর খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েপক্ষ জামাইকে সঙ্গে নিয়ে আসে মেয়ের বাড়িতে। বাণী বানোয়ারী জানান, খাসি-মুরগি পোলাওসহ সামর্থ্য অনুযায়ী সব খাবারের সঙ্গে শূকরের মাংস দিয়ে ভূরিভোজের রেওয়াজ রয়েছে। জামাইকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর মেয়ের বাড়িতে ছেলেমেয়ের একসঙ্গে গায়ে হলুদ হয়। কীর্তন ও নাচ-গান চলে বিয়ের আগ পর্যন্ত। পরদিন বিয়ে রেজিস্ট্রেশন হওয়ার পর মহাধুমধামে চলে খাওয়া দাওয়া। এ সময় ছেলে ও মেয়ে দু’জনকে ফুলের এক মালা গলায় পরানো হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও স্বজনরা এ সময় বর-কনের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেয়। এই দিন থেকেই গারো দম্পতির দাম্পত্য জীবনের শুরু।

Ñবাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ থেকে

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: