মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

লাল রঙের সুতায় সাঁওতাল বিয়ের আমন্ত্রণ

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

উত্তরের জেলা রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে বেশিরভাগ সাঁওতালের বসবাস। এখনও রেজিস্ট্রি বিয়ের প্রচলন চালু না হলেও এ অঞ্চলে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানেও থাকে নানা বৈচিত্র্যে ভরপুর। বাদ্য বাজিয়ে নাচ-গান তাদের বিয়ের প্রধান ও অনন্য অনুসর্গ। এলাকাভিত্তিক কিছু ভিন্ন রীতি বা প্রথা রয়েছে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানে।

দুর্বিন কিস্কু বলেন, প্রথমে মেয়ের বাড়িতে, পরে ছেলের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। তবে বিয়ে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন গোত্রের সাঁওতালদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের সাঁওতালদের ক্ষেত্রে সাধারণত বিয়ের আগে নিমন্ত্রণপত্র দেয়া থেকেই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে যায়। যেমন নিমন্ত্রণের সময় লাল রঙের সুতার মধ্যে গিঁট দিয়ে সেই সুতা নিমন্ত্রণের কার্ড হিসেবে দেয়া হয়। এরপর বিয়ের আগের দিন মেয়েদের হলুদ মাখানো হয়। মাঝিপ্রধান, পারানিক ও জগমাঝিদের ডাকা হয়। তাদের বিনোদনের জন্য হাঁড়িয়া দেয়া হয়। বিয়েতে বরের পক্ষ থেকে কনের জন্য দেওড়া বা ডালি আনা হয় এবং সেই ডালিতে বউকে বসানো হয়। বরের পক্ষ থেকে সাতজন মিলে বউকে ডালিতে বসিয়ে উপরে তোলে এবং বরের ভগ্নিপতি বা দুলাভাই বরকে কাঁধে করে নিয়ে কনের সামনে যায়। কনের ঘোমটা খুলে আমের পাতা ভিজিয়ে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। এরপর কনেকে সিঁদুর পরানো হয়। সিঁদুর পরানোর মধ্য দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। মূলত এরপর থেকে তারা সমাজে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ বরে। সনাতন ধর্মাবলম্ব^ীদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে ১৩-১৪ বছরের মধ্যে বিয়ে হয়ে যায়। বেশি বয়স হলে মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যা হতে পারে মনে করে তারা কম বয়সে বিয়ে দেয়। তবে এখন সময় পাল্টেছে। পারগনা প্রধান দুর্বিন জানান, বিয়ের বয়স এখন তাদের (সাঁওতাল) মধ্যেও অনুসরণ করা হয়।

সাঁওতালদের বিয়েতে পেশাদারী ঘটকের বিষয়টি নেই। নিজেদের মধ্যেই কোন একজনকে ঘটকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ঘটকের মাধ্যমে ছেলে ও মেয়েপক্ষ আলাপ আলোচনাসাপেক্ষে বিয়ের দিন নির্ধারণ করে। এ অনুষ্ঠানে উভয়পক্ষের বাড়িতে খুব ধুমধাম হয়। বিশেষ ধরনের গান ও হাঁড়িয়া খাওয়া তাদের বিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ।

এছাড়া তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর ছেলের বাড়িতে আরেকটি অনুষ্ঠান হয়। এখানে মেয়েপক্ষের ৬ বা ৭ জোড়া দম্পতি যারা সাধারণত ছেলের মা-বাবার বেয়াই-বেয়াইন সম্পর্কের হয় তারা ছেলের জন্য ধুতি, আংটি ও টাকা-পয়সা নিয়ে এ অনুষ্ঠানে হাজির হয়। যেদিন তারিখ চূড়ান্ত হয় সেদিন থেকে বিয়ের দিন পর্যন্ত যতদিন হয়, একটি সুতায় বিশেষ উপায়ে ততটি গিঁরা দেয়া হয় এবং তা কাঁঠাল পাতা দিয়ে বিশেষ উপায়ে তৈরি পাত্রে রাখা হয়। প্রতিদিন সকালে টান দিয়ে একটি করে গিঁরা খোলা হয় এবং সে অনুযায়ী একজনকে দাওয়াত দেয়া হয়। ছেলে ও মেয়েপক্ষ উভয়ই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: