কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কচি-কাঁচার মেলার সুফিয়া কামাল জন্মোৎসব

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫
কচি-কাঁচার মেলার সুফিয়া কামাল জন্মোৎসব
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শতাব্দীর বিবেক তুমি/শান্তির প্রতীক তুমি/সবার প্রিয় মানুষ তুমি/আমাদের সুফিয়া কামাল...। শুক্রবার আষাঢ়ের সকালে সোনামণিরা সমবেতভাবে গানটি গাইছিল সেগুন বাগিচার কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা মিলনায়তনে। উপলক্ষ ছিল জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামালের জন্মদিন উদ্্যাপন। আজ শনিবার এই মহীয়সী নারীর ১০৫তম জন্মদিন ও ১০৪তম জন্মবার্ষিকী। আর তাঁর জন্মোৎসবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার মেলার পক্ষ থেকে আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। খুদে বন্ধুদের সরব উপস্থিতি ও রকমারি পরিবেশনায় বর্ণিল রূপ নেয় জননী সাহসিকার জন্মদিনের অনুষ্ঠানমালা। মেলার শিশুশিল্পীদের গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নাচের মুদ্রায় অনবদ্য হয়ে আয়োজনটি। আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সঙ্গে ছিল সুফিয়া কামালকে নিবেদিত বিশিষ্টজনদের আলাপন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক আবেদ খান। মায়ের স্মৃতিচারণ করেন কবিকন্যা সুলতানা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন মেলার উপদেষ্টা শামসুল হুদা। সভাপতিত্ব করেন মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। এছাড়া সুফিয়া কামালকে নিয়ে কথা বলেন মেলার তরুণ সদস্য দেবশ্রী মুখার্জী ও শিশু বক্তা নিশাত। আয়োজনের শুরুতেই পরিবেশিত হয় মেলার শিশুশিল্পীদের সম্মেলক গান। সুফিয়া কামালের ছড়াকে গানে রূপান্তর করে সুরের আশ্রয়ে পরিবেশিত হয় ‘গোল করো না গোল করো না/ ছোটন ঘুমায় খাটে/এই ঘুমকে কিনতে হলো/নওয়াব বাড়ির হাটে...।’

আলোচনায় কবির বৈচিত্র্যময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন আবেদ খান। বলেন, সুফিয়া কামালের চেতনাকে আত্মস্থ করতে হবে আজকের শিশুদের। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে অভিভাবকদের। আর তিনি শুধু নারী আন্দোলনের অগ্রপথিক নয়, সামগ্রিক সমাজ সংস্কারের প্রতীক ছিলেন। অবিচল ছিলেন আপন চেতনায়। আজ চারদিকে যেভাবে জঙ্গীবাদের আস্ফালন দেখছি তাতে বারবার সুফিয়া কামালের কথা মনে হয়। আমাদের এই প্রিয় খালাম্মা বেঁচে থাকলে রুখে দাঁড়াতেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে। বলতেন এসব কী হচ্ছে, বন্ধ করো এই অপতৎপরতা। এসব কারণেই আমাদের সামগ্রিক জীবনে অপরিহার্য সুফিয়া কামাল। আজ নারীর স্বাধীনতা আবৃত হচ্ছে কালো নেকাবে। অহরহ ধর্ম নিয়ে চলছে রাজনীতির খেলা। আর এসব কারণেই আরও বেশি অনুভব করি সুফিয়া কামালের অনিবার্য উপস্থিতি। কারণ, চেতনার আলোকে উদ্ভাসিত করেন এমন এক অবস্থানে তাঁর দেখা পাই। তাই আমরা যদি আর কিছু নাও পারি তাঁর চেতনা ও বিশ্বাসকে যেন ধারণ করি।

মাকে নিবেদিত আলোচনায় সুলতানা কামাল বলেন, মানুষকে মানুষ হতে জীবনের শুরু থেকেই সাধনায় ব্রতী হতে হয়। আর সেই সাধনায় নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন সুফিয়া কামাল। আজকের শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন ও অনুসরণ করতে হবে। সুফিয়া কামালের মতো মানুষেরাই মানসিক বিকাশের আলোয় এই দেশটিকে গড়েছেন। এদেশে এমন কোন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক হয়নি যেখানে তিনি ভূমিকা রাখেননি। তাঁর সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ উদ্দেশ্য। মানুষ যেন দেশ ও দশের জন্য ভাবে সেই চেতনায় সাহিত্যচর্চা করেছেন। কখনও একার জন্য কিছু করেননি। করেছেন প্রতিটি মানুষের জন্য। প্রত্যেকে আমরা প্রত্যেকের তরেÑএমন সমাজ কামনা করেছিলেন। বিশ্বাস করতেন ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার।’ আর আমৃত্যু ধারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কচিকাঁচার মেলার তিনজন প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম সুফিয়া কামাল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের চেতনাকে তিনি ধারণ করতেন গভীরভাবে। আর সেই চেতনার রুমালটি বহন করেছি আমরা। সেটাকেই ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। নতুন প্রজন্মের কচিকাঁচারা এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই চেতনাকে।

আলোচনা শেষে পরিবেশিত হয় নাচ, গান ও কবিতায় সাজানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খুদে বন্ধুরা গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নাচের মুদ্রায় মনোমুগ্ধ করে তোলে আয়োজনটি। নাচ ময়ূরী নাচরে ও মাদলের ধিতাং ধিতাং বোলে গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে মেলার একঝাঁক শিশুশিল্পী। দুই সারিতে বসে অনেকগুলো কচিকণ্ঠ এক সুরে গেয়ে গেয়ে শোনায় ‘মেঘের কোলে দু’হাত তুলে কোমল সুরে ডাকি বরষায়’, ‘জয় জয় জয় সুফিয়া কামাল’ ও ‘হে মহীয়সী নারী’সহ বেশ কয়েকটি গান। পাঠ করা হয় ছড়া ও কবিতা।

সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক ॥ কবি সুফিয়া কামালের জš§বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে নানা অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে রয়েছে কবি সুফিয়া কামাল স্মারক বক্তৃতা, কবি সুফিয়া কামাল সম্মাননা পদক প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহিলা পরিষদের আয়োজনে আজ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘সুফিয়া কামালের সাহিত্য : মানবতাবাদ ও নারীর অবস্থান’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বেগম আখতার কামাল স্মারক বক্তৃতা দেবেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বক্তৃতানুষ্ঠান শেষে ৮ জন বিশিষ্ট নারীকে সুফিয়া কামাল সম্মাননা দেয়া হবে। এ বছর সুফিয়া কামাল সম্মাননা পাচ্ছেনÑ ভাষাসৈনিক হালিমা খাতুন, সুফিয়া আহমেদ, রওশন আরা বাচ্চু ও প্রতিভা মুৎসুদ্দি, বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মিলি বিশ্বাস, বেলাবোর সফল কৃষক ফরিদা বেগম, সাভারের সফল শ্রমিক আরতী রাণী এবং কাউখালীর নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি মমতা শিকদার। কবির স্মরণে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ইফফাত আরা দেওয়ান ও বুলবুল ইসলাম।

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: