কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মহেশখালী কক্সবাজার ॥ জেটিঘাটের বিড়ম্বনার শেষ কোথায়?

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫
  • প্রশাসন নীরব

নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশখালী, ১৯ জুন ॥ কক্সবাজার জেটিঘাটের যাত্রীদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে? জেলার সঙ্গে মহেশখালী দ্বীপের যাতায়াতের একমাত্র পথ নৌ-রুটের, দু’ঘাটের চিত্র দেখলে মনে হয় এখানে কোন কর্তৃপক্ষ নেই। ২০টির অধিক স্পীড বোট ঘাটে মজুদ থাকলেও শতশত যাত্রীদের অনুরোধে কেন ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছে না সে বিষয়টি জানার কারও অধিকার নেই। যার যেমন ইচ্ছা তেমনিভাবেই চলছে ঘাটের চলাচল। যাত্রী অধিকারে তোয়াজ নেই বোট মালিক ও সরকারী কর্তৃপক্ষের। জেটিঘাটের এ বিড়ম্বনার শেষ কোথায়? নীরব প্রশাসন। বোটে উঠতে পারা যেন যুদ্ধ জয়ের সমান। জীবনঝুঁকি নিয়ে বোটে উঠছে নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনমানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে ব্যাপক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে এখানে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী হয়রানির মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে। এখানে দুইটি ঘাটে একাধিক বোট থাকলেও মালিক-কর্তৃপক্ষের একগুঁয়েমী সিন্ডিকেটবাজীর কারণে খেয়া পারাপারে ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজার-মহেশখালী ফেরিঘাটের ইজারা প্রথা বাতিল হওয়ায় এই খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে সরকার যেমন হারাচ্ছে রাজস্ব তেমনি মহেশখালীর সাধারণ মানুষ ওই ঘাটের খাস কালেকশনের নামে প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এখানে সরকারী খাস কালেকশনের আড়ালে সম্প্রতি টোল আদায়ের মূল দায়িত্ব আবারও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে চলে যাওয়ায় এ নিয়ে সিন্ডিকেটের বাইরে অবস্থান করা সাধারণ বোট মালিকদের সঙ্গে চরম দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি এক দিন নিজেদের বোট চলাচল বন্ধ করে রাখেন সাধারণ বোট মালিকরা। এদিকে দু’পক্ষের রশি টানাটানিতে পড়ে মহেশখালীর সাড়ে ৪ লাখ মানুষসহ প্রতিদিন যুক্ত হওয়া হাজার হাজার পর্যটক দ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, যেহেতু এই জেটিঘাট প্রতিবছর মহেশখালী পৌরসভা ও কক্সবাজার পৌরসভার সমন্বয়ে ইজারা প্রদান করা হতো। পরে এ জেটিঘাটে বিভিন্ন অনিয়ম হলে মাহামান্য হাইকোর্টে বর্তমান মেয়র রিট করার কারণে হাইকোর্টের নির্দেশে ইজারা না দিয়ে খাস কালেকসানের মাধ্যমে জেলা পরিষদের দু’জন কর্মচারী নিয়োগ করে টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৫

২০/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: