মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মিয়ানমার থেকে ফিরলেন আরও ৩৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫, ০৫:১২ পি. এম.

অনলাইন রিপোর্টার॥ মিয়ানমারের সমুদ্র উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে শনাক্ত আরও ৩৭ বাংলাদেশী ফিরে এসেছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করে মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম জিরো পয়েন্টে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় পতাকা বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার এমএম আনিসুর রহমানের কাছে ৩৭ বাংলাদেশীকে হস্তান্তর করেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতুতে এসব বাংলাদেশীকে বুঝে নেন বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আনিসুর রহমান।

কর্নেল আনিসুর রহমান জানান, প্রথম দফায় ১৫০ জনকে ফেরত আনার পর দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার আরও ৩৭ বাংলাদেশীকে ফেরত আনা হয়েছে। এদের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘গত বুধবার টেকনাফের নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্ট সীমান্তে বিজিবি-বিজিপির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে গোলাগুলির ঘটনায় ধরে নিয়ে যাওয়া বিজিবি সদস্য নায়েক রাজ্জাকের বিষয়টি নিয়ে আজকের পতাকা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও একটি পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে নায়েক রাজ্জাককে ফেরত দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী।’

অপরদিকে মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং বলেন, ‘বাংলাদেশী হিসেবে শনাক্তদের ফেরত আনায় আমরা সন্তুষ্ট। এর মাধ্যমে দুদেশের সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। এ সু-সম্পর্কের মাধ্যমে সীমান্তে শান্তি বিরাজ করবে।’

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের ১০ সদস্যের নেতৃত্ব দেন বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরান উল্লাহ সরকার। তার সঙ্গে প্রতিনিধি দলে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম, বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের অতিরিক্ত পরিচালক মেজর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মেজর মাহবুব সাবেরসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ইমিগ্রেশনের প্রতিনিধিরা।

মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন বিভাগের সহকারী পরিচালক চ নাইং। এ সময় তার সঙ্গে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন মিয়ানমারের ১নং বর্ডার গার্ড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্যাই তুই জাসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম দ্য রিপোর্টকে জানান, গত ৮ জুন পতাকা বৈঠকের মাধ্যমের ১৫০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়। একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বে প্রত্যাবাসনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতো যাচাই করে শনাক্ত আরও ৩৭ বাংলাদেশীকে শুক্রবার ফেরত আনা হয়েছে। পরে তাদের কক্সবাজার জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়।

তিনি জানান, শনাক্ত হওয়া ৩৭ জন বাংলাদেশীর মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জের ৫, মাদারীপুরের ১, সুনামগঞ্জের ৪, কিশোরগঞ্জের ৮, হবিগঞ্জের ১১, জামালপুরের ১ ও বগুড়ার ৭ জন।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫, ০৫:১২ পি. এম.

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: