কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

অভিষেকেই তরুণ মুস্তাফিজের বাজিমাত

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫, ০১:০৮ এ. এম.

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চার পেসার তত্ত্ব নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রতিশোধ মিশনে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। তবে যাদের ওপর আলো ছিল তাঁদের কাছ থেকে সব আলো একাই শুষে নিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ মুস্তাফিজুর রহমান। গতি আর সুইংয়ের ঝড়ে ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দিলেন তিনি। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মুস্তাফিজের সামনে ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানদেরও বড় অসহায় দেখাল। তখন মাত্র রোহিত শর্মা ও আজিঙ্কা রাহানেকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন বোলিং ক্যারিশমা দেখিয়ে। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি নেমেই কনুইয়ের জোরালো গুঁতো দিয়েছেন মুস্তাফিজের পেটে। রান নেয়ার ব্যস্ততা দেখানোর মেকি ভাব দেখাতে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যে গুঁতো দিলেন ব্যথায় মাঠই ছাড়তে হয়েছে সাতক্ষীরার এ বাঁহাতি পেসারকে। ধোনি তরুণ মুস্তাফিজের চোখেই নিজেদের সর্বনাশটা সম্ভবত পড়তে পেরেছিলেন। এ কারণেই ভদ্র, নম্র স্বভাবের খোলস থেকে বেরিয়ে অখেলোয়াড়সুলভ এমন আচরণ দেখালেন ‘ঠাণ্ডা মাথা’ হিসেবে স্বীকৃত ধোনি। কিন্তু ফিরে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন তিনি। ফিরিয়ে দিলেন রবীন্দ্র জাদেজা, সুরেশ রায়না ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। সবমিলিয়ে ৯.২ ওভারে ৫০ রান দিয়েই ৫ উইকেট। অভিষেকে বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সেরা বোলিং নৈপুণ্য আর বাঁহাতি পেসার হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে জয়ের নায়ক হয়ে ম্যাচসেরার মর্যাদাটাও পেলেন মুস্তাফিজ। ওয়ানডে অভিষেকে কোন বোলারের ৫ উইকেট নেয়ার ঘটনা অবশ্য এটি দশম।

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি২০ ম্যাচেই মুস্তাফিজ ধূমকেতুর মতো উদয় হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিষেক হিসেবে একমাত্র সে টি২০ ম্যাচ খেলেই সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের পাশাপাশি দুর্দান্ত বোলিং করে দুই উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজ। আর অসামান্য সেই নৈপুণ্যের কারণেই এবার মুস্তাফিজকে ওয়ানডে দলে প্রথমবার সুযোগ দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচকরা। শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে বিজয়ের বহুল আকাক্সিক্ষত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেই অভিষেক হলো তাঁর। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের ১১৮ নম্বর গর্বিত সদস্য হিসেবে খেলতে নেমেই তিনি গর্বিত করলেন পুরো জাতিকে। ক্রিকেটাররা না স্বীকার করলেও তাঁদের মনে যেটা কাজ করছিল বাংলাদেশের মানুষ তা আগে থেকেই মুখে উচ্চারণ করছিলেন,‘বিশ্বকাপে পরাজয়ের প্রতিশোধ চাই।’ সেই প্রতিশোধের নেশাটা কাটালেন প্রথমবার অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মুস্তাফিজ। একাই ৫ উইকেট নিয়ে ভারতীয় দলের গর্ব ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন।

অধিনায়ক হিসেবে দারুণ আক্রমণাত্মক মেজাজের পরিচয় দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। প্রধান স্ট্রাইক বোলার হিসেবে তরুণ মুস্তাফিজ ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল হাতে নিলেন অথচ ভয়ঙ্কর রুবেল হোসেন ও মাশরাফি নিজেও দলে ছিলেন। প্রথম ওভারে মুস্তাফিজের প্রতিপক্ষ দুই ভয়ঙ্কর বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। কিন্তু প্রথম ওভারে মাত্র ১ রান দিলেন দুর্দান্ত বোলিং করা মুস্তাফিজ। প্রথম বলেই তিনি জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিলেন রোহিতের বিরুদ্ধে। সাহসটা পেয়ে গেলেন ওই ওভারেই। অবশ্য বিন্দুমাত্র স্নায়ুচাপ দেখা যায়নি তরুণ এ টাইগার পেসারের মধ্যে। সেই আত্মবিশ্বাস ও সাহসটা ফলপ্রসূ হয়েছে ইনিংসের ২১তম ওভারের শেষ বলে। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা রোহিতকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। নিজের পরবর্তী ওভারেই রাহানেকে সাজঘরে পাঠিয়ে ভারতীয় শিবিরে আতঙ্ক হয়ে ওঠেন তিনি। অধিনায়ক ধোনি তখনও কা-টা ঘটালেন। ২৪.২ ওভারের সময় কনুইয়ের তীব্র গুঁতোয় আহত করলেন মুস্তাফিজকে। মাঠ ছেড়েই যেতে হলো তাঁকে। ক্রিকেট ভক্ত-সমর্থকরা আঁতকে উঠেছিলেন, হয়ত আর বোলিংয়ে ফিরতে পারবেন না। কিন্তু ১২ ওভার পরই ইনিংসের ৩৭তম ওভারে ফিরলেন। কিন্তু সেই ফেরাটা ভাল হয়নি। প্রথম বলেই ছক্কা হজম করেছেন রায়নার কাছে। কিন্তু চরম প্রতিশোধটা নিয়েছেন একই ওভারের চতুর্থ বলে রায়নাকে বোল্ড করে দিয়ে। পরের বলেই অশ্বিনকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে বিধ্বংসী রূপটা দেখান মুস্তাফিজ। সুযোগ তৈরি করেন হ্যাটট্রিকের। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরবর্তী ওভারেই জাদেজাকে শিকার করে নিজের ঝুলিতে পঞ্চম উইকেট পোরেন মুস্তাফিজ।

গত বছর জুনে ভারতের বিরুদ্ধে অভিষেকেই ২৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকের সেরা বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। এরপরই মুস্তাফিজের ৫০ রানে ৫ উইকেট। এশিয়ার যেকোন দেশের পক্ষেও এটি দ্বিতীয় সেরা বোলিং নৈপুণ্য। সাবেক শ্রীলঙ্কান পেসার শওল কারনাইন ২৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন ১৯৮৪ সালের ৩১ মার্চ মোরাতুয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাঁহাতি পেসার হিসেবেও এটি বিশ্বের ওয়ানডে ইতিহাসে অভিষেকে দ্বিতীয় সেরা বোলিং। জিম্বাবুইয়ের ব্রায়ান ভিটোরি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হারারেতে ২০১১ সালের ১২ আগস্ট ওই কীর্তি গড়েছিলেন। ওয়ানডে ইতিহাসে অভিষেকে কোন বাঁহাতি পেসারের ৫ উইকেট নেয়ার ঘটনা এ দুটিই। তবে ওয়ানডে ইতিহাসে যেকোন বোলারের অভিষেক পরিসংখ্যানে মুস্তাফিজের এ নৈপুণ্য ৯ নম্বরে স্থান করে নিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার ফিদেল এডওয়ার্ডস ২০০৩ সালের ২৯ নবেম্বর হারারেতে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ২২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত সেরা। অভিষেকে এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৫ উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজসহ মাত্র ১০ বোলার।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫, ০১:০৮ এ. এম.

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: