কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রাকৃতজনের কাব্যগাথা

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
  • রফিকুজ্জামান রণি

গত বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তরুণ কবি সানাউল্লাহ সাগরের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘সাইরেন’। বইটির প্রায় প্রত্যেকটি কবিতাই টানা গদ্যে লেখা। উত্তরাধুনিক ধারায় অধিষ্ঠিত হয়ে কবিতার মাধ্যমে যারা দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন, শব্দের স্রোতে যারা ভাসিয়ে দেন প্রেমপত্র, পঙ্িক্ততে পঙ্ক্তিতে যারা ঢালেন ক্ষোভের গরল এবং বেড়ে ওঠে যারা দ্রোহ-উল্লাসের দৈত ছায়ায়Ñ সানাউল্লাহ সাগর তাদেরই দলের মানুষ। সাগরের ‘সাইরেন’ কাব্যে শোষিত সমাজের অনুরণন, দলিত মানুষের আর্তনাদের পাশাপাশি বেজে ওঠে প্রণয়ের বিশুদ্ধসংগীতও। তার সাইরেন গ্রন্থে নান্দনিকভাবে ফুটে ওঠেছে সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের জীবনাচরণের তৈলচিত্র। ফলত মাঠের নিঃসঙ্গ আলোয় হাটভাঙা শব্দের করুণ আকুতি শুনে কবিকে চমকে ওঠতে দেখা যায় তার কবিতার ভাঁজে ভাঁজেÑ

‘খুন হয়ে যাওয়া স্বজনের শার্ট আমার আয়না। ব্রয়লার হয়ে গেছে অদেখা স্বপ্ন। কৃষি কাজে মন নেইÑ প্রতিবারই জমাটাকা খাজনায় চলে যায়Ñ কমে আসছে সঞ্চয়Ñ

বীজের আয়ু কমে যাচ্ছেÑ মাঠের নিঃসঙ্গ আলোয় হাটভাঙা শব্দের করুণ আকুতি।’

Ñযোগফল

প্রতাপ-প্রতিপত্তির লোভে কতো রকমের ছলচাতুরীর ফাঁদই না পেতে রাখে মানুষ। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই দাঁপিয়ে বেড়ান সমাজে ও রাষ্ট্রে। এর বাইরেও লুকিয়ে থাকে ভালো মানুষের আদতে ভয়ঙ্কর পশু। সন্ত্রাসের নিষ্কোষিত অস্ত্রকে যতটুকু ভয় পান কবি তার চেয়ে বেশি শঙ্কিত হন সরলতার সুযোগে সাধারণ মস্তিষ্কগুলোকে লুটেপুটে খাওয়া ধর্মের আদতে ঘাপটি মেরে থাকা পুষ্পকীটদের। ধর্মের শাশ্বত বাণীকেও যদি কেউ অস্ত্র বানিয়ে ভুল পথে পরিচালনা করে থাকেন তখন যে নিরাপত্তার শেষ তখ্তটুকুও খুইয়ে ফেলে মানুষ।

‘নিরাপদ নয় কিছুইÑজপতপ আর মুর্শিদের জিকির। শাশ্বত বাণী কাঁধে ব্যবসায়ী মাজারে মাজারে। কী আছে নিরাপদÑ বেডরুমÑবাথরুম; বিশ্বাসের মলাটে ধুলো জমে গেছে বহুকাল।’

Ñভাতঘুম

ভালোবাসাও একধরনের অসুখ, অস্বস্তির ঢোলী। সানাউল্লাহ সাগর খুব সহজেই আবিষ্কার করেছে সেটা। কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘ঘুমের ভেতরে নিদ্রাহীন’ থাকে তাঁর কবিসত্তা। কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লাশের গন্ধ এবং তরুণীর বীভৎস লাশ দেখে ঘুমিয়ে থাকতে পারেননি। সানাউল্লাহ সাগর ঘুমাতে পারেননি ঘুমঘোরে নিযার্তিত মানুষের আর্তনাদ শুনে এবং স্মৃতির ধকল খেয়ে বারবার জেগে ওঠেন তিনি। কবি ঘুমালেও যেন চারপাশে জেগে থাকে আর্তনাদ। তিনি ঘুমাতে গেল চারদিকে যদিও দেয়াল পাহারাদার হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিন্তু বাস্তবতার মুসকি হাসি দেখে চকিত তার ঘুম চলে যায়। ফলে চোখে আর ঘুম নামে না, তার চোখসমেত কবিতার খাতাটিও জেগে থাকে।

‘ঘুমালে জেগে থাকে আর্তনাদ। অদৃশ্য বোর্ডে তালিকারা ভেসে বেড়ায় খিস্তির তাড়নায়। অন্ধকার ছুঁয়ে ভ্যাপসা অক্ষরগুলোর সঙ্গে আমি দৌড়াই। তাজা দীর্ঘশ্বাসের পলিপাস নিয়েÑ’

Ñপথ

‘শৈশবে আঁকড়ে নীল যমুনা পাড় হতে হতে সূর্য লা-পাত্তা। অধমের দম ফুরাচ্ছেÑনিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছেÑ দৌড়াচ্ছি আর দৌড়াচ্ছি পিছনে চলে যাচ্ছে সুখের নৌবহরÑবিলাসী অট্টালিকাÑসাজানো স্বপ্ন...অবশেষে জমানো স্মৃতি কষ্ট দিয়েই ভাঙলাম।

জাললামÑভালোবাসা অসুখের নাম।’

Ñঅসুখ

আড্ডা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত কবিতার বই ‘সাইরেন’-এর চমৎকার প্রচ্ছদ করেছেন এম আসলাম লিটন। বইটির মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ১৫০ টাকা।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: