মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আলাপন ॥ আমি গান গাই না গুনগুনিয়েও না

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
  • নির্মলেন্দু গুণ, কবি

যে বই বারবার পড়তে ইচ্ছে করে?

বারবার কোনো বই পড়তে ইচ্ছে করে না।

ছোট বেলায় বড় হওয়ার যে স্বপ্ন দেখতেন?

সেসব স্বপ্নের কথা এখন আর মনে নেই।

কবি না হলে কী হতেন?

ক্রিকেটার কিংবা ফুটবলার।

নিজের যে কবিতাটি সবচেয়ে আনন্দ দিয়েছে?

স্বাধীনতা শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো।

নিজের যে কবিতাটি বিষণœ করে?

আমার অনেক কবিতাই আছে যা পড়লে বিষণœ হয়ে পড়ি। নির্দিষ্ট করে এখন বলতে পারব না।

জীবনে প্রথম ভালোবাসার কথা জানতে চাইÑ

মনে নেই।

যা সবচেয়ে অপছন্দ?

ঢাকা বর্তমানে বসবাসের উপযোগী নেই। প্রতিদিন নাকাল হতে হচ্ছে। এ ব্যাপারটি এখন আমার কাছে অপছন্দ।

একাকী থাকলে যে গানটি গুনগুনিয়ে গেয়ে থাকেন?

আমি গান গাই না, গুনগুনিয়েও না। গান শুনিও কম।

অল্প কথায় আপনার দৃষ্টিতে রবীন্দ্রনাথ?

তাঁর কবিতা যখন পড়ি তিনি তখন কবি, গল্প পড়লে গল্পকার, উপন্যাস পড়লে ঔপন্যাসিক হয়ে ওঠেন। আবার কখনো সমাজ সংস্কারক। গরিব কৃষকদের কল্যাণে যখন তাঁর কর্মযজ্ঞের কথা পড়ি তখন তিনি আমার কাছে হয়ে ওঠেন কৃষকবান্ধব। তাঁর গান যখন শুনি তিনি গীতিকার, গায়ক, আবার নাট্যকার, একসঙ্গে অভিনেতাও। এমনও দৃষ্টান্ত আছে তাঁর গান দিয়ে কংগ্রেসের সভা শুরু ও শেষ হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মতো সফল সৃষ্টিশীল মানুষ আমার মতে দ্বিতীয়টি নেই।

নদীর কাছে গেলে যে অনুভূতি হয়?

আমি থাকি কামরাঙ্গীরচর। বুড়িগঙ্গা নদী দেখার মতো এখন নেই। একটা জায়গা খুঁজে পেয়েছি সেখান থেকে দেখার মতো। নদীর তো দুই রূপ। শান্ত আর সর্বনাশা। এখন বর্ষার মৌসুম। নদীর রূপ এখন সর্বনাশা। সর্বনাশা রূপ দেখলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। এই যে যমুনা ভাঙছে। কত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। নদীর এ রূপ দেখলে বিষণœ হই। আবার শান্ত রূপ দেখে মুগ্ধ হই। ভেতরে কবিতার প্রেরণা আসে।

এই মুহূর্তে এক কোটি টাকা পেলে কী করবেন?

আমি টাকাই নেব না। কেননা আমি এমন কোনো কাজ করিনি যে এ পরিমাণ টাকা পাব।

পৃথিবীর বাইরে কোনো বাসযোগ্য গ্রহে কিছুদিনের জন্য বসবাসের সুযোগ পেলে কোন তিনটি জিনিস সঙ্গে নেবেন?

সে সুযোগ সহসা হবে না। যদি সেরকম সুযোগ আসেই এত কম জিনিস সেখানে নেব না। হা-হা-হা, আরে ধুর আমি পৃথিবী ছেড়ে যাবই না।

ঘুম থেকে উঠে যদি শোনেন সব যুদ্ধাপরাধীর একযোগে মৃত্যুদ- কার্যকর হয়ে গেছে, তখন আপনার অনুভূতি কেমন হবে?

আগে বলে নিই, অনেক অপরাধী এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। সেসব অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দ- কার্যকর করার পর উল্লসিত হওয়া ঠিক নয়। এই যে যেমন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যেভাবে দ- কার্যকর করা হলো প্রকাশ্যে, আইএসের জঙ্গীরা যেভাবে শিরñেদ করছে তা মোটেও সমর্থনযোগ্য এবং সমীচীন নয়। তাদের কাজে যারা উল্লাস করছে সেটাও ঠিক নয়। তেমনি যুদ্ধাপরাধীদের দ- কার্যকরের পর সন্তোষ প্রকাশ করা যেতে পারে; উল্লাস করার কিছু দেখি না। আমিও তাই করব।

কথোপকথন : সিরাজুল এহসান

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: