কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নৈঃশব্দ্যে হারিয়ে যাওয়া শব্দ

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
  • সোলায়মান সুমন

‘কই রে এমপি.র ব্যাটা বাহিরে আয় কল্লাটা ফেলে দিই এখানে!’ কালু হাঁসুয়াটা উঁচু করে ধরে নিজের মাথার উপর। ‘শালা কত বড় হারামি, আমার ঘরের ইজ্জতে হাত মারে। উ ভেবেছে কী? দেশ কিনে লিছে নাকি ওর বাপ।’ কালুর কথার রবরবানি দপদপানি এমনি এমন না এর পেছনে ইতিহাস আছে।

কালু পাঝরা। পাঝরা পাড়ায় পুরুষানুক্রমে তার বাস। কয়েক পুরুষ ধরে তারা এ পাড়ায় সর্দারি করে আসছে। পাঝরা মূলত মুসলিম জেলে সম্প্রদায়।

কালু ভীষণ হাঁপাচ্ছে। পাঝরা পাড়া থেকে এমপির বাড়ি বিশ মিনিটের পথ। প্রায় দৌড়ে এসেছে সে। আর ভেতরে তো রাগের আগুন দাউ দাউ করে জ¦লছে। তার ওপর জ্যৈষ্ঠ মাসের গরমে শরীরটাও তেতে উঠেছে। ফেউ ফেউ ফ্যাসফেসে গলায় সে আবার চিৎকার দেয়। ‘দরজাটা খুল শালা। গেটে ওমনি পাথর হয়্যা দাঁড়িয়ে আছিস ক্যানে রে?’

গেইটের দারোয়ার বেনু বলে, ‘চাচা, বসেন তো। আগে জিরিয়ে লেন ওখানটায় বসে।’ বেনু গেইটের বাইরে পড়ে থাকা একটা ইটের ঢিপি কালুকে দেখিয়ে দেয়।

পাঁচ বছর আগেও পাঝরাদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবত না। কিন্তু এখনকার বিষয়টা আলাদাÑ পাঝরাদের সেই ত্রাস, সেই শক্তি, সেই ঐক্য আজ আর নেই। এ পাড়ায় এখনো যারা টিকে আছে তাদের একজন এই কালু। কালুর ছোট দুই ছেলে তার সাথে বাাজারে মাছ বিক্রি করে। বড় ছেলে শহরে রিক্সা চালায়। সে ছেলে বউ বাচ্চা নিয়ে পৃথক খায়। বাপের সাথে ঝগড়া করে সে বাড়ির দুটো ঘরের মধ্য থেকে একটা ঘর দখলে নিয়েছে। ছোট দুই ছেলের বিয়ের বয়স হয়েছে কিন্তু বিয়ে এখনো দেয়নি কালু। ওরা বউ নিয়ে থাকবে কোথায়? মোটে তো কবরের মতো দুটো ঘর (দুটোর একটা তো বড় ছেলের দখলে) আর সামনে ছাউনি দেয়া এক চিলতে উঠন। বাড়িতে আছে বিবাহ যোগ্যা মেয়ে। নাম তার সেমালি। সেমালি বাবা-মায়ের সাথে ঘরেই ঘুমায়। সোমত্ত মেয়েকে সাথে নিয়ে ঘরে ঘুমাতে লজ্জা লাগে কালুর কিন্তু সে নিরূপায়। আর ছেলে দুটো উঠানের একধারে চকিতে গুটিসুটি হয়ে শোয়। সেমালির বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে। পনের মাড়িয়েছে কয় বছর হলো যেন। দেখতে শুনতে ভাল। চিকন-চাকন থাকতে পছন্দ করে সেমালি। প্রতিদিন ধোয়া কাপড় পরে কামে বের হয়। এ জন্য এমপি টিপু সুলতানের বউ ওকে খুব পছন্দ করে। আগে দু’তিন বাড়িতে কাম করত এখন শুধু এমপির বাড়িতে করে। ও বাড়তে কাজ করে আরাম। বছরের অধিকাংশ সময় তো এমপিরা ঢাকায় থাকে তখন সেমালির একেবারে আরাম অথচ মাস গেলে বেতন ঠিক সময়ে পেয়ে যায়।

হায়রে সেমালি! সেমালির সুন্দর কাটিং-এর নাক-নকশা আর চিকন-চাকন চলাফেরা আজ তার জন্য কাল হয়েছে। কালুর ভেতরটা ধড়ফড় করে ওঠে। কালুর বয়স পঞ্চাশ... পঞ্চান্ন কি ষাট হবে! সে তার বাপ-দাদার সেই তেজি রবরবানির কথা এখনো ভুলেনি। ভুলবে কেমনে? সে যে তাদেরই বংশধর।

কালুর মেয়ে সেমালি কিচ্ছুক্ষণ আগে আধমরা অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে। মৃগী রুগীর মতো হাত-পা কাঁপছিল থিকিথিকি। সে কী ভয়ানক দৃশ্য! হাতে মুখে খামচানির দাগ। কোনো বাপ সে দৃশ্য সহ্য করতে পারে? সে চিৎকার দিয়ে ওঠে, ‘মা! তোর এ অবস্থা কে করেছে কহা হামাকে। কল্লাটা কাইটে আনি!’ সেমালি ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলে, ‘এমপির বেটা হাকে দুপুরে একলা পেয়ে...।’ আর কিছু বলতে পারে না। হু হু করে কেঁদে ওঠে। কালুর বুকটা রাগে উত্তেজনায় বর্ষার মহানন্দা মতো সর্বগ্রাসী হয়ে ওঠে। বটতলা হাটে কাশেমের জিলেপি ভাজা কড়াইয়ের তেলের মতো রক্ত টগবগ ফুটে ওঠে। সে মেসবার পোতা, রমজানের ছেলেÑ যাদের দেখে কত লোক লুঙ্গি ভিজিয়েছে। অত সহজে ছেড়ে দিবে সে! মেম্বার-চেম্বার এমপি-মিনিস্টার যার বেটা হোক না সেÑ তার রক্ষা নাই। কলাগাছের মতো করে ঘচাঘচ সবার গলা কাটবেÑ যে তাকে বাধা দিতে আসবে তার রক্ষে নাই। টিপুর বেটা আরিফের কল্লা নিয়ে তবে বাড়ি ফিরবে সে। চুথিয়ারা জানে না সে কে? মগের মুল্লুক পেয়েছে নাÑ যা খুশি তাই করবে? ভোটের সময় তো কাচুমাচু মুখ নিয়ে ঐ এমপি তার দরজার গোঁড়ায় দাঁড়ায়। এখন মা-বেটির ইজ্জতে হাত। সে যদি কল্লা নামাতে না পারে এমপির বেটারÑ উপরে গিয়ে বাপ-দাদাদের কী মুখ দেখাবে?...

বেনুর অনুরোধে ঐ ইটের ঢিপিতে গিয়ে বসেনি কালু। সে কি বসতে এসেছে? ঝিরোতে এসেছে? এমপির বেটার কল্লা নিতে এসেছে। মাছ কুটা হাঁসুয়াটা উঁচিয়ে দারোয়ানকে আবার বলে, ‘দরজা খোল আইজ এমপির বেটার কল্লা কাইটে হামি বাড়ি যাব, না তো না। খোল দরজা, খোল।’

দারোয়ান বেনু তাদেরই পাড়ার ছেলে। বয়স পঁচিশ ছাব্বিশ। সে সামান্য হেসে বলে, ‘চাচা, এত খেপেছেন ক্যানে? বসেন বাইরে, ঐ জায়গাটাতে বসেন। হাঁপাইছেন, আগে রেস্ট লেন।’

হামি বসতে আসিনি। দরজা খুল। টিপুর বেটার কল্লা লিব। শালা নিজের ব্যাটাকে সামল্যাতে পারে না, দেশ সামলাতে এসেছে। গু-া পুষে নেতাগিরি মারায়। আসুক ওর কত গু-াবাহিনী আছে। সব শালার গলা কাটব। শালা গরিব মানুষের টিন চুর। ওতো গুলান মাংস আইলো সৌদি থেকে সক্কাল থেকে বাহিরে বসিয়ে রেখে রাতে কহে সব শেষ। হারামি রিলিপ খোর। সুদখোর রাজাকারের বেটা আইজ দেশপ্রেমিক স্যাজেছে। শালার গোমোর ফাঁক করব। একাত্তরে বাপে-বেটায় গাঁও-গেরামের মেয়েদের ইজ্জত মেরেছে এখন বেটাকে তালিম দিছে। সব শালা চুথিয়ারে কচু কাটা করব।

দারোয়ান বেনু সবই জানে। সে সেমালিকে কাঁদতে কাঁদতে এলোমেলো পোশাকে বাড়ি যেতে দেখেছে। তাছাড়া এমপির ছেলের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে তার ভালই জানা আছে। বিষয়টা বোঝার জন্য বেশি বুদ্ধি খরচ করতে হয়নি তার। গত দু’বছর যাবৎ এ বাড়ির সব নাটক তো তারই চোখের সামনে ঘটেছে...। তবে সে এমপির একেবারে বফাদার আদমি। জীবন যাবে তবু এ বাড়ির কোনো ক্ষতি হতে দেবে নাÑ দারোয়ানের পেশাটাই তো এমন। বেনু দরজা না খুলেই বলে, ‘চাচা আপনি ক্যানে রেগে আছেন এমন, হামি বুঝি। কিন্তু আপনার কিছু হয়ে গেলে আপনার বহু-বেটির কী হবে একবার ভেবেছেন? আপনার বেটাগুলা দেখবে ওদের? কহেন?’

‘তুই এমপির টান টানছিস বেনু। সেমালি তোর বোহিনের মতো না?’ কালু উত্তেজিত হয়ে বলে।

বোহিনের মতো কী? বোহিনই তো মানি। চোখের সামনে মানুষ হলো। আপনাকে নিজের মানুষ মনে করছি বুলেই তো কোহোলাম। র‌্যাব যদি আপনাকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে লিয়ে ক্রসফায়ারের অছিলায় মহানন্দায় চুবায়ে রেখে যায়। আপনার বউ বাচ্চার কী হোবে? আপনি আমাদের পাড়ার মুরুব্বি বলেই বুল্লাম। আপনি কার বিরুদ্ধে কথা কোহোছেন একটু ভেবেছেন?

এবার কালু সামান্য ঠা-া হয়। লইলাপাড়ার পাঁচু গত বছর এমপির বিরুদ্ধে হোম্বিতোম্বি করে বেড়াত। একদিন ভোরে তার লাশ পাওয়া গেল সদর ঘাটে। কপালে বুলেটের এক ইঞ্চি গর্ত। সবাই জানে এটা কাদের কাজ কিন্তু কারো মুখে রা ছিল না। মিথ্যা ডাকাতির কেস সাজিয়ে মেরে ফেলল লোকটাকে। পরিবারের লোকজন থানায় একটা জিডি করার সাহস পেল না।

নিচের হল ঘরে এমপি টিপু সুলতান নেতাকর্মীদের নিয়ে বসেছিল। কিছুক্ষণ আগেই সে বউকে সাথে নিয়ে শিবগঞ্জের বাগানবাড়ি থেকে ফিরেছে। গাড়ি ভরে খিরসাপাত আম নিয়ে এসেছে। আমগুলো পুষ্ট আর হলুদ হয়ে উঠেছে। ক’দিনে পাকবে। এগুলো ঢাকায় যাবেÑ দলের বড় বড় নীতি নির্ধারকদের বাড়িতে বাড়িতে। কেবলই ফ্রেশ হয়ে নিচে এসে নেতাকর্মীদের মাঝে বসেছে এমপি সাহেব আর এমন সময় গেইটে কালুর চিল্লা-ফাল্লা!

উপস্থিত নেতাকর্মীরা বলে, ‘টিপু ভাই, আপনি উপরে যান। আমরা কালুকে দেখছি।’

‘তোমরা দেখবে কেন। এ এলাকার সবাই আমার আপনজন। যা করবার আমি করব। তোমরা কেউ ঘর থেকে বের হবে না। এখানেই বসো।’

কালু কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আবার চিৎকার শুরু করে, ‘পোলারে ঘরে লুকিয়ে রেখেছে কেনে? বাইরে বের হতে কী হোছে? চোর এমপি কোথাকার!’

‘বাহ! দু’পয়সার জেলে হয়েও রাজনীতির ভাল খবর রাখে দেখছি!’ এমপি সাহেব অবাক হয়ে ভাবে। সে কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলে, ‘সবই মিডিয়ার কল্যাণ। মিডিয়া এখন রাজপ্রাসাদ থেকে বস্তি সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে।’ সে সামান্য হেসে আবার বলে, ‘বুঝলে তোমরা?’

‘কী ভাই?’ সবাই একযোগে জিজ্ঞেস করে ওঠে। আসলেই তারা কিছু বুঝতে পারছে না। কেন কালু এমপি সাহেবের ছেলের ওপর এত খেপেছে? কী এমন করেছে সে? তারা সবাই জানে তাদের টিপু ভাইয়ের ছেলে একটু বখাটে টাইপের... তবে কি?

‘এ দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র আসতে দেরি নাই। সবাই কথা বলতে শিখছে।’ এমপি মুচকি করে হেসে বলে।

‘কালু একটা পাগল। যেখানে সেখানে হট্টোগোল বাধানো ওর কাম। মাছের বাজারে এমন দিন নাই যেদিন কালু ঝগড়া করে না। ওর বাপও ছিল একটা পাগলা। শালারা পাগলের গুষ্ঠি’, দলের এক কর্মী বলে।

‘ওর দুটা ছেলে আছে না?’ এমপি জিজ্ঞেস করে।

‘জি ভাই।’ কাসেম বলে। ‘তিনটা।’

‘কোন দলের?’ এমপি জিজ্ঞেস করে।

‘ভাই ওরা কোন্দলেও নাই কোনো দলেও নাই। নিরীহ গোছের। বাপের মতো ট্যারা স্বভাবের না।’

এদিকে কালু চিৎকার করে বলে, ‘টিপু মরল না কি? তোর বেটাকে লিয়ে আয়। কল্লা নামাব।’

সবাই অবাক হয়, এমপি এভাবে বসে আছে কেনÑ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে?

বেনু দারোয়ান এমপির কাছে এসে বলে, ‘ভাইজান, আপনি বলেন, কী করি? ধরে বাঁধব না মেরে তাড়াব?’

এমপি সামান্য হেসে বলে, ‘তোকে কিচ্ছু করতে হবে না। যাহ গেটে দাঁড়া গে।’ এমপি একটা সিগারেট ধরায়। সে জানে কীভাবে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। এতটুকু বুদ্ধি না থাকলে এলাকার বাঘা বাঘা পুরনো নেতাদের বোকা বানিয়ে সে কী করে দলের কেন্দ্র থেকে নোমিনেশন পেলÑ এমপি হলো।

‘তোমরা আম না খেয়ে যাবে না কিন্তু। তোমাদের জন্য কিছু গাছপাকা আম এনেছি।’ সিগারের ধেঁাঁয়া ছাড়তে ছাড়তে এমপি বলে।

‘টিপু ভাই, আপনি বললে আমরা বিষয়টা হ্যান্ডেল করতে পারি। প্রেসের কানে গেলে আপনার বদনামি হবে।’ ঘটনাটা আসলে কী? সত্যÑ কী ঘটেছে?... এমন সব প্রশ্ন সবার মনে থাকলেও এমপিকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার কেউ সাহস পাচ্ছে না। ওদের চিন্তাগুলো প্রকৃত ঘটনাটার আশপাশ দিয়ে ঘুরপাক খেতে থাকে।

এমপি টিপু সুলতান এবার তার সিগরেটের শেষটা ফেলে সবাইকে বসতে বলে বাড়ির মেইন গেটের দিকে এগিয়ে যায়। কালু তখনো চিৎকার করে চলেছে। এমপি টিপু কাছাকাছি চলে এলে টিপুর কণ্ঠের তীব্রতা কমে আসে। হাঁসুয়া ধরা হাতটাও ভারি হয়ে আসে এবং ধীরে ধীরে হাত দুটো পিঠের পেছনে হারিয়ে যায়।

‘কী রে কালু? কী হয়েছে তোর?’

‘আপনার ছেলে কই? ওকে ডাকেন।’

‘আমার ছেলের সাথে তোর দরকার কী?’

‘দরকার ছিল এমপি সাহেব। আপনার সাথে আমার কিছু না।’

‘বাড়ি যাহ। কাল সকালে আসিস। বাড়িতে মেহমান আছে। এই নে কিছু টাকা রাখ।’ এমপি দরজার গ্রিল দিয়ে ক্ষুধার্ত বন্দী বাঘকে একতাল মাংস ছুড়ে দেয়ার মতো করে কিছু টাকা ছুড়ে দেয়।

‘আপনার ছেলের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম।’ টাকাগুলো কালু হাতে নেয় না।

আবার এক কথা! বল্লাম না দেখা হবে না।

তাহিলে হামি যাব না।

‘আমার শত্রুরা তোকে পাঠিয়েছে না? আমাকে বদনাম করতে চাস? সে সুযোগ কিন্তু পাবি না। বন্ধুত্বের হাত বাড়াবি তো বন্ধুত্ব পাবি। শত্রুতা করবি তো শত্রুর ভাষাও আমি জানি। মাটির এমন নিচে ঢুকাবো তোকে কেউ খুঁজে পাবে না।’ এমপির চোখ-মুখ লাল হয়ে ওঠে।

আপনার ছেলেটা এমন করল...

‘আহা থাম।’ এমপি কালুকে থামিয়ে দেয়। ‘...সেটা কী হয়েছে আমি দেখব। আমার ছেলে কোনো অন্যায় করলে তার শাস্তি সে পাব। সে বিষয়ে আমি ছাড় দিব না। তুই টাকা কটা নিবি না...?’ এমপি কটোমটো চোখে কালুর দিকে চায়।

কালু কাঁপা কাঁপা হাতে টাকাগুলো কুড়িয়ে নেয়। পা দুটা যেন ভারি হয়ে গেছে তার। গলায় যেন কাঁচা গাবের আঠা জমেছে। চোখ দুটো জলে ভিজে যায়। সে ভুলে যায় বাপ রমজানের সেই কথা, ‘মরদের চোখে পানি না, ত্যাজের আগুন থ্যাকতে হয় বাপ।’

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: