আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এগারসিন্ধু

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫
  • আমির হোসেন

আমরা ছোটকালে এগারসিন্ধুর নাম শুনেছি এবং ইতিহাসেও এগারসিন্ধুর ইতিহাস লেখা আছে। এগারসিন্ধু একটি গ্রামের নাম। এই গ্রামটি কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ায় অবস্থিত। বাংলার বারভুঁইয়ার অন্যতম ছিলেন ঈশা খাঁ। ১৫৭৭ সালে ঈশা খাঁ এই এগারসিন্দুকে রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই এগারসিন্ধুকে দখল করার জন্য মোঘল সম্রাট আকবর তার সেনাপতি মানসিংহকে যুদ্ধে পাঠালেন। ঈশা খাঁ এবং মানসিংহের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধের এক চরম মুহূর্তে ঈশা খাঁর তরবারির আঘাতে মানসিংহের তরবারি ছিটকে পড়ে গিয়েছে। ঈশা খাঁ তখন ইচ্ছা করলেই মানসিংহকে হত্যা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে মানসিংহকে নিজের তরবারি দিলেন আবার যুদ্ধ করার জন্য। মানসিংহ আর যুদ্ধ না করে ঈশা খাঁকে জড়িয়ে ধরেন। এই এগারসিন্ধুকে ঘিরেই এই সব ঘটনা ঘটেছিল। এখানে ও ঈশা খাঁর নির্মিত ২টি মসজিদ আছে। মসজিদ দুটি নানা রকম কারুকার্য খচিত-দেখলে চেয়ে থাকতে ইচ্ছা করে। মসজিদ ২টি নিরিবিলি শান্ত পরিবেশে অবস্থিত। এখানে শাহ মাহমুদ মসজিদ নামে একটি মসজিদ আছে। এই মসজিদটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আদলে তৈরি। মসজিদটিতে ঢোকার পথে একটি পাকা তোরণ আছে। তোরণটি দোচালা আকৃতির ছোট ঘরের মতো, যা দেখলে সত্যিই অবাক লাগে। এই এগারসিন্ধুতে আরও আছে মাটির তৈরি দুর্গ, যা বর্তমানে বিলীনের পথে। তবে এইগুলো এখনও ছোট ছোট টিলার মতো অবস্থায় টিকে আছে। এখানে আরও আছে সেই আমলের তৈরি একটি দালান। দালাটিতে আছে ছোট ছোট অনেক কামরা। ধারণা করা হয় এটি ছিল একটি দুর্গ। বর্তমানে এটিও বিলুপ্তির পথে। এই জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িয়ায় আছে ঈশা খাঁর বাড়ি। বাড়িটিও প্রায় ধ্বংসের পথে। বাড়িটিতে এখনও তাঁর এক বংশধর বাস করে। বাড়ির পূর্ব পাশেই আছে একটি বিরাট দীঘি। দীঘির পশ্চিম পাড়েই আছে সেই আমলের তৈরি একটি মসজিদ। মসজিদটি বর্তমানেও প্রায় অক্ষত অবস্থায় আছে।

প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৫

১৯/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: