কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পৃথিবী মাতাচ্ছে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’

প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৫
  • পান্থ আফজাল

জুরাসিক পার্ক। স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনীমূলক চলচ্চিত্র। মাইকেল ক্রিচটনের একই নামের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসর নিয়ে ১৯৯৩ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গ নির্মাণ করেছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীনির্ভর ছবি ‘জুরাসিক পার্ক’। ক্লোন পদ্ধতিতে তৈরি করা ডাইনোসরের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আইলা নুবলার দ্বীপে একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পূর্বে জন হ্যামন্ডসহ কয়েকজন বিজ্ঞানীকে পার্ক পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তারা দ্বীপে এসে ডাইনোসর দেখে বিস্মিত হন। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে কিছু ডাইনোসর তড়িতাহিত খাঁচা ভেদ করে বাইরে চলে আসে। বিজ্ঞানী ও কলাকুশলীরা ডাইনোসরের হাত থেকে বাঁচার জন্য দ্বীপ থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়েই জুরাসিক পার্কের কাহিনী গড়ে উঠেছে। অস্কারের ৬৬তম আসরে চারটি শাখায় পুরস্কার পায় ছবিটি। ২২ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর আবেদন কমেনি এখনও।

জুরাসিক পার্কের ডাইনোসররা কেমন আছে? এক যুগ পর তার খবর জানাতে আসছে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। ২০১৫ সালের ১২ জুন ডায়নোসর নিয়ে নির্মিত ‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের নতুন ছবি ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ মুক্তি পেয়েছে। এ্যাডভেঞ্চার মনস্টার ঘরানার চলচ্চিত্র জুরাসিক পার্কের মূল কাহিনী নেয়া হয়েছিল মাইকেল ক্রিচটনের উপন্যাস থেকে। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ পরিচালনা করেছেন কলিন ট্রেভরো। তার সঙ্গে চিত্রনাট্যে ছিলেন ডেরেক কর্নেলি। প্রযোজনায় আছেন প্যাট্রিক ক্রোলে ও ফ্রাঙ্ক মার্শাল। জানা গেছে, ‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের এবারের ছবিটি প্রযোজনা করবেন স্টিভেন স্পিলবার্গ, যিনি এই সিরিজের প্রথম দুটো ছবির পরিচালক ছিলেন। আর এ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস প্যাট। মুক্তি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বব্যাপী এটি ৫৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যবসা করেছে, যা এর আগে কখনও হয়নি। বাংলাদেশী মুভিলাভারসদের জন্য আনন্দের সংবাদ এই, মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে জুরাসিক ওয়ার্ল্ড-৪ অভিজাত বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখানো হচ্ছে। বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা ছবির প্রদর্শনীতে বিপুল দর্শক সমাগম এরই মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

জুরাসিক পার্ক সিরিজের চতুর্থ চলচ্চিত্র ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’। ডায়নোসরের থিম পার্কের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে এটি। এতে ডায়নোসরগুলোকে আগের তুলনায় ভিন্নরূপে দেখা যাবে। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর কাহিনীতে এসেছে জুরাসিক পার্ক নির্মাণের ২২ বছর পরের কাহিনী। ইসলে নুবলারে নির্মাণ করা হয়েছে ডাইনোসর থিম পার্ক। মূল পরিকল্পনা জন হামন্ডের হলেও নতুন পার্কটির মালিক মাসরানি কর্পোরেশন। ওয়েন (ক্রিস প্যাট) ওই পার্কের একজন কর্মী। তিনি ভেলোসির‌্যাপ্টরের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেন। তাদের সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ করে জেনেটিক্যালি মডিফাই করা একটি হাইব্রিড ডাইনোসর ছাড়া পেলে ঘটতে শুরু করে অঘটন।

তবে ট্রেলারে খুব একটা আগের চেয়ে আলাদা ডাইনোসর দেখা যায়নি। পানি থেকে উঠে আসা নতুন একটি ডাইনোসর দেখা যায়। এটি হয়ত ছবির নতুন চমক। ট্রেলার দেখে আরও মনে হয় ছবিতে অনেক চমক আছে, যা আপাতত গোপন থাকছে। ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন ব্রাইস ডালাস হওয়ার্ড, ভিনসেন্ট ডি’অনোফ্রিও, জ্যাক জনসন, নিক রবিনসন, ইরফান খান প্রমুখ। হাওয়াইয়ের হনলুলু চিড়িয়াখানায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর চিত্রায়ন শুরু হয় চলতি বছরের ১০ এপ্রিল। এ ছাড়া ওয়াহু, হাওয়াই কনভেনশন সেন্টার, নিউ অর্লিয়নসের নাসা কমপ্লেক্সসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে এর শূটিং হয়। ভিজুয়াল ইফেক্টের দায়িত্বে ছিলেন ফিল টিপাট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল লাইট এ্যান্ড ম্যাজিক। সঙ্গীতায়োজন করেন মাইকেল গিয়াচিনি। এর আগে তিনি জুরাসিক পার্কের ভিডিও গেমসে সঙ্গীতের কাজ করেছেন। ইউনিভার্সেলের প্রাথমিক ঘোষণা অনুসারে ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ এর মুক্তির কথা ছিল ২০১৪ সালের ১৩ জুন। কিন্তু নির্মাণ দেরিতে শুরু হয়।

জুরাসিক সিরিজের চতুর্থ এই সিনেমার বক্স অফিস সাফল্য গোটা বিশ্বেই দেখার মতো। ৬৬টি দেশে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবি প্রতিটা দেশেরই ‘বিগেস্ট হিট’ তালিকায় রয়েছে। ২৫ নভেম্বর ইউটিউবে প্রকাশ করা ট্রেলারটি এখনও পর্যন্ত ৬৬ কোটি ১৬ লাখ ৬ হাজার ২২২ বারের মতো দেখা হয়েছে। ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’-এর এই ব্লকবাস্টার সাফল্যে চমকিত বিশ্ব। সিনেমাটি আমেরিকায় ২৫০.৬ মিলিয়ন ডলার, চীনে ১২০ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্যে ৩৩.৬ মিলিয়ন ডলার এবং বাকি বিশ্বেও উল্লেখযোগ্য ব্যবসা করেছে। ‘জুরাসিক পার্ক’ সিরিজের তিনটি ছবির মোট আয় ১.৯ বিলিয়ন ডলার।

কম্পিউটারের মাধ্যমে কৃত্রিম চিত্র প্রস্তুতির ক্ষেত্রে জুরাসিক পার্ক এক নতুন মাত্রা যোগ করে। ছবির এনিমেশন ও ইফেক্ট সব সমালোচকের কাছেই প্রশংসিত হয়, কিন্তু চরিত্র উন্নয়ন ও ছবির অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। মুক্তি পাওয়ার ছবিটি মোট ৯১৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে যা ছিল সে সময় পর্যন্ত সর্বকালের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ছবি। জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রে এক নতুন ফ্রাইঞ্চাইজ এর জন্ম দেয়। ১৯৯৭ সালে দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড নামে জুরাসিক পার্কের দ্বিতীয় পর্ব মুক্তি পায়, ২০০১ সালে মুক্তি পায় ‘জুরাসিক পার্ক ৩’। প্রথম দুটির পরিচালক স্পিলবার্গ হলেও ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জুরাসিক পার্ক থ্রি’ পরিচালনা করেন জো জনস্টন।

প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৫

১৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: