কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তিনি অনন্যা

প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৫

বলছি তারিনের গল্প, বলছিলাম অনেক পরিচালকের কাছেই তারিন ভীষণ প্রিয়। কারণ তারিনকে নিয়ে কাজ করলে অন্তত নির্মিত প্রোডাকশনটি চ্যানেলে বিক্রি করতে কোন ধরনেরই অসুবিধা হয় না। তবে এর বাইরেও আলাদা যে’কটি বিষয় আছে তার মধ্যে এটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে, কাজের ক্ষেত্রে কোন রকম ছাড় দেন না তারিন। আর ছাড় দেন না বলেই স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে তিনি কাজই করেন না। তারিকুল ইসলাম, একজন নাট্য পরিচালক। সাংবাদিকতার কারণেই তার সঙ্গে আমার পরিচয় আজ থেকে আট বছর আগে। আট বছর আগেই তিনি আমাকে বলেছিলেন তারনিকে নিয়ে নাটক নির্মাণের তার প্রবল ইচ্ছা। কিন্তু বিগত আট বছরে তারিকুল ইসলাম এমন কোন স্ক্রিপ্ট পাননি যে নাটকে তিনি তারিনকে নিয়ে কাজ করতে পারেন। অবশেষে কিছুদিন আগে তারিক পান্থ শাহরিয়ারের লেখা ‘বেওয়ারিশ মানুষ’ নামের একটি স্ক্রিপ্ট তারিনকে পাঠান। তারিন স্ক্রিপ্টটি পড়ে কাজটি করতে সম্মতি জানান। এরই মধ্যে নাটকটির শূটিংও শেষ। তারিন তার অভিনীত প্রতিটি নাটকেই চরিত্রের গভীরে মিশে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত তারিন। তবে পরিণত বয়সে এসে যখন নায়িকা হিসেবে তারিন অভিনয় শুরু করেন তখন তার বিপরীতে সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন আজিজুল হাকিম, জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, তৌকীর আহমেদ, টনি ডায়েস, মাহফুজ আহমেদের মতো অভিনয়শিল্পীদের। তৌকীর আহমেদের সঙ্গে তারিন প্রথম অভিনয় করেন ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় ও শেখ রিয়াজ উদ্দিন বাদশার পরিচালনায় একটি নাটকে। এ নাটকে শমী কায়সারও ছিলেন। এরপর থেকে আজ অবধি তৌকীর আহমেদ ও তারিন জুটিবদ্ধ হয়ে বহু ধারাবাহিক ও একক নাটকে অভিনয় করেছেন। সম্প্রতি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে একটি টেলিফিল্মের শূটিং করেছেন তৌকীর আহমেদ ও তারিন। অরণ্য আনোয়ারের রচনা ও পরিচালনায় ‘পোড়া গন্ধ শহরজুড়ে’ টেলিফিল্মে স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারা দু’জন। পরিচালক অরণ্য আনোয়ার জানান, রাজনীতির পেট্রোলবোমা ইস্যু নিয়েই মূলত এই টেলিফিল্মের গল্প। তারিন বলেন, ‘গল্পটি ভাল লাগায় কষ্ট করে আমরা রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে গিয়ে শূটিং করেছি। তৌকীর ভাইয়ের সঙ্গে সব সময়ই কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমার পরিণত বয়স থেকে তাকে সহশিল্পী হিসেবে পেয়ে আসছি। ব্যবহারের দিকে দিয়ে তার কোন রকম পরিবর্তন আজও আমার চোখে পড়েনি। খুব পরিপাটি একজন শিল্পী। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন। শূটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে তার বই পড়ার অভ্যাসটি আমাকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে।’ পরিচালক অরণ্য আনোয়ার জানান, টেলিফিল্মটির প্রচার সময় জানানো হবে। এদিকে তারিন অভিনয় করছেন নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’-এ। এটি নির্মাণ করছেন দীপংকর দীপন। এরই মধ্যে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে নাটকটির প্রচারও শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে তারিন আমেরিকা গিয়েছিলেন বেড়াতে। যাওয়ার আগে তিনি শেষ করেছেন আবু রায়হান জুয়েলের নির্দেশনায় ‘তেল’ নাটকের কাজ। এছাড়া অতিসম্প্রতি আবু রায়হান জুয়েলের ‘কষ্ট’ নাটকে তারিনের অনবদ্য অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করে। এটি ফেব্রুয়ারি মাসে এটিএন বাংলায় প্রচারিত হয়েছে। দর্শকপ্রিয় জুটি তারিন ও অপূর্ব বহু দর্শকপ্রিয় নাটক উপহার দিয়েছেন। তারিন ও অপূর্ব অভিনীত সবচেয়ে দর্শকপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছেÑ ফেরদৌস হাসান রানার ‘লক্ষ্মীট্যারা’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘ধূলো মেঘের জ্যোৎ¯œা ভ্রমণ’, নরেশ ভূঁইয়ার ‘তোমার অপেক্ষায়’, কৌশিক শংকর দাশের ‘কোল’, সাখাওয়াত মানিকের ‘অপরাহ্ন’ ইত্যাদি। দর্শকপ্রিয় এই জুটি দীর্ঘ সাত বছর পর এসএ হক অলিকের নির্দেশনায় একই নাটকে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন। এসএ হক অলিকের রচনায় ও পরিচালনায় কমেডি রোমান্টিক গল্পের নাটক ‘বন্ধু তুমি বন্ধু আমার’-তে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন তারিন ও অপূর্ব। মাঝে বেশ কিছুদিন তারিন দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফিরে আবারও তিনি ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন আসছে ঈদের নাটকের কাজ নিয়ে। আসছে ঈদ উপলক্ষে ‘বন্ধু তুমি বন্ধু আমার’-ই প্রথম নাটক। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে তারিন বলেন, ‘ছোটপর্দা থেকে যারা বড়পর্দায় গিয়ে ভাল করছেন তাদের মধ্যে এসএ হক অলিক অন্যতম। একজন মানুষ হিসেবে তিনি যেমন চমৎকার, নির্মাতা হিসেবেও তেমনি গুণী। দেশে ফেরার পর পরই তিনি আমাকে কাজটি করার জন্য ফোন করেছিলেন এবং তার কাজের প্রতি আমার প্রবল আত্মবিশ্বাস আছে বলেই কাজটি করেছি। এখন তো বাজেটস্বল্পতা, বিজ্ঞাপন বিরক্তির কারণে দর্শক ভাল নাটক দেখাও বন্ধ করে দিয়েছে। আমার মনে হয়, চ্যানেল মালিক, নাট্যনির্মাতা এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের বসে একটি সিদ্ধান্তে আসার এটাই উপযুক্ত সময়। তা না হলে ছোটপর্দার দর্শক ধরে রাখা সম্ভব নয়।’ মানহীন কোন স্ক্রিপ্ট যদি কখনও তারিনের হাতে এসেছে তাতে কোন রকম কম্প্রোমাইজ করেননি তিনি। আর এ কারণেই কখনও কোন মানহীন নাটকে তার উপস্থিতি ঘটেনি। নিজেকে নিজের স্থানে ধরে রাখার এই যে প্রবল চেষ্টা এটা তারিন বলেই হয়ত সম্ভব হয়েছে। অনেকেই নাটক করছেন, ভাল-মন্দ কাজ করছেন। কিন্তু কাজের জন্যই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। সকাল থেকে রাত অবধি তারা কাজ করছেন। কিন্তু দর্শক হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো কাজ তারা করছেন না। এখানেই তারিন ব্যতিক্রম, এখানেই তারিন অন্য অনেকের চেয়ে আলাদা। নিজের জন্য নয়, তারিন কাজ করেন দর্শকের জন্য। তারিন মনে করেন, ‘দর্শকই যদি আমার নাটক না দেখেন তাহলে আমি কাজ করব কাদের জন্য। তারা যদি আমার অভিনীত নাটক দেখে রিমোট দিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করেন তাহলে সেখানে আমার মূল্যায়ন তো থাকল না। তাই আমি সব সময়ই দর্শকের কথা ভাবি। কোন্ চরিত্রে কেমন অভিনয় করলে সেটা দর্শকের ভাল লাগবে সেটা একটি স্ক্রিপ্ট পাওয়ার পর অনেক বেশি ভাবি আমি। দর্শকের ভাবনা আর আমার ভাবনার যদি সমন্বয় না ঘটে তাহলে সে নাটকে কাজ করি না আমি।’ দীর্ঘ অভিনয় জীবনে দর্শকের মনে রাখার মতো অনেক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারিন। সেসব মনে রাখার মতো চরিত্র নিয়ে তারিন নিজেকে প্রতিটি মুহূর্তে গড়েছেন আবার ভেঙ্গেছেনও নতুন করে। তারিন বলেন, ‘একজন অভিনেত্রী হিসেবে এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া যে, যেসব চরিত্রে আমি কাজ করি সেসব চরিত্র নিয়ে খেলা যায়। শুধু তাই নয়, আমি এমন কিছু চরিত্রে অভিনয় করি যা বাস্তবেও হয়ত আমি হতে পারতাম না। এটা সত্যিই এক ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা। অন্য কোন পেশায় এই ভিন্নতার স্বাদ পাওয়া যেত না।’ তারিন অভিনীত যে কোন নাটক যে কোন বয়সের দর্শককে এখনও অনেক আনন্দ দেয়। আমাদের সমাজের চিরচেনা চরিত্রগুলোতে অভিনয় করতে করতে এ দেশের প্রতিটি পরিবারের যেন একজন সদস্যই হয়ে উঠেছেন। দর্শকের এমন অনুভূতির পর একজন অভিনেত্রীর কাছে এরচেয়ে বড় পাওয়া আর কী-ইবা হতে পারে।

ছবি : গোলাম সাব্বির

প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৫

১৮/০৬/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: